(প্রিয়.কম) দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের দোয়ানী পয়েন্টে ১৩ আগস্ট রোববার সকালে বিপদ সীমার ৬৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে লালমনিরহাটে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। পানি বন্দি হয়ে পড়েছে আরও ৩ লক্ষাধিক মানুষ। হুমকির মুখে পড়েছে বুড়িমারী-ঢাকা মহাসড়ক ও রেলপথ।

এদিকে ভারত থেকে প্রচণ্ড গতিতে পানি আসায় তিস্তা ব্যারাজ হুমকির মুখে পড়েছে। ১২ আগস্ট শনিবার রাত ৯টা ১৫ মিনিটের দিকে তিস্তা ব্যারাজ এলাকায় রেড এলার্ট জারি করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ব্যারাজ রক্ষার্থে যে কোনো মুহূর্তে ফ্লাট বাইপাশ কেটে দেওয়া হতে পারে তাই এ এলাকার লোকজনদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে।

ভারি বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লালমনিরহাটে শুক্রবার ৩ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। শনিবার সকালে তিস্তা ব্যারাজের দোয়ানী পয়েন্টে বিপদ সীমার ৩৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। এছাড়া হাতীবান্ধা উপজেলার ধুবনী গ্রামে একটি বাঁধ ভেঙে গেছে।

পানিবন্দি এলাকাগুলোতে বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকট দেখা দিয়েছে। বন্যার কারণে বন্ধ হয়ে গেছে বুড়িমারী স্থলবন্দর। বুড়িমারী-ঢাকা রেলপথ ও মহাসড়কের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে রেল যোগাযোগ। বন্যা কবলিত এলাকাগুলোর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সকল অফিস আদালত বন্ধ হয়ে গেছে। অনেকেই ঘর বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে গেছেন।

প্রচণ্ড গতিতে ময়লা ও ঘোলা পানি বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসছে। পানি গতি নিয়ন্ত্রন করতে তিস্তা ব্যারাজের বেশি ভাগ গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। হাজার হাজার একর আমন ধানের ক্ষেতসহ অনেক ফসলি জমি তিস্তার পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। 

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে পানিবন্দি পরিবারগুলোর খোজঁ খবর নেওয়া হচ্ছে।  ইতোমধ্যে ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়ে গেছে। আরও ত্রাণের জন্য উচ্চ পার্যায়ে আবেদন করা হয়েছে। 

লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) সংসদ সদস্য মোতাহার হোসেন জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে কথা বলে বন্যা পরিস্থিতির খোজঁ খবর নেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলে পানিবন্দি পরিবারগুলোর সহযোগিতার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রিয় সংবাদ/শিরিন/আশরাফ