(প্রিয়.কম) ‘মানুষ ঘৃণা করে কাজে নেয় না। একবার কাজে গিয়ে টিউবওয়েলের পানি খেয়েছিলাম বলে বাড়ির মালিক চড় মেরে দুটি দাঁত ফেলে দিয়েছিল। ভ্যানে ওঠার অপরাধে এক মহিলা আমাকে ভ্যান থেকে নামিয়ে দিয়েছিল। সবাই নাকি আমাকে দেখে ভয় পায়; আমি কি অপরাধ করেছি? রোগ তো আল্লাহ্ দিয়েছেন; এখানে আমার কি দোষ! নিরুপায় হয়ে এখন ভিক্ষা করি’-এভাবেই আক্ষেপের সুরে কথাগুলো বলছিলেন পাবনার চাটমোহর উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের মাঝগ্রামের মৃত ময়দান প্রামানিকের ছেলে নিউরোফ্রাইবোমা (এক ধরণের টিউমার) রোগে আক্রান্ত জমির উদ্দিন (৪৫)।

জমির উদ্দিনের মাথা থেকে পা-পর্যন্ত ছোট বড় মিলিয়ে অসংখ্য টিউমারে ছেয়ে গেছে। টাকার অভাবে চিকিৎসা করানো হয়নি। ভিক্ষা করে পাওয়া গড়ে প্রতিদিন দুই থেকে আড়াইশো টাকা আয় হয়। তাই দিয়ে পরিবারের সদস্যদের মুখে অন্ন তুলে দেন তিনি। অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটে তাদের।

জানান জমির উদ্দিন বলেন, মূলত ১৯৮৮ সালে কালাজ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই পুরো শরীরে টিউমার ছড়িয়ে পড়ে বলে। তিনি জানান, টাকার অভাবে ভাল চিকিৎসকের কাছে যেতে না পেরে পল্লী চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা করিয়ে ওষুধ খাওয়ার পরেও সারেনি রোগ। এখন পুরো শরীরে জুড়ে ব্যাথা করে। চলাফেরা করতে কষ্ট হয়। ভিক্ষা না করলে খাবার জুটবে না তাদের। তবে অভাব সত্বেও এক মেয়ে ও ছেলের পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। বড় মেয়ে রেশমা পড়াশোনা না করলেও মেজ মেয়ে ইশানা স্থানীয় একটি স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে আর ছোট ছেলেকে সদ্য প্রাইমারি স্কুলে ভর্তি করেছেন। স্ত্রী সুন্দরী খাতুনও স্বামীর এ রোগ ও মানুষের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যে করা নিয়ে চিন্তিত। আবারও সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান জমির উদ্দিন।

জমির উদ্দিন বলেন, ‘আমি কাজ করে খেতে চাই, কিন্তু রোগ না সারলে আমাকে কেউ কাজে নেবে না! এ জন্য সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা চান।

এ রোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. সবিজুর রহমান জানান, ‘জমির উদ্দিন নিউরোফ্রাইবোমা রোগে আক্রান্ত। রোগটি নিরাময় যোগ্য কি না এ জন্য ভালো কোন জায়গায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হবে এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।’

প্রিয় সংবাদ/কামরুল