(প্রিয়.কম) এমন বিদায় কি চেয়েছিলেন জীবন্ত কিংবদন্তি উসাইন বোল্ট। পুরোটা ক্যারিয়ার ঝলমলে থেকেও শেষটা রয়ে গেল সাদাকালো। শেষবারের মতো ট্র্যাকে নেমে দৌড় শেষ করতে না পারার কষ্ট কি বাকিটা জীবন তাকে পোড়াবে না! কিন্তু শেষ দৌড়ে শেষটা হলো না তার।

লন্ডনে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে ১০০ মিটার রিলে দৌড়ে ফিনিশিং লাইন পর্যন্তও পৌঁছাতে পারেননি জ্যামাইকার এই মহাতারকা। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট পেয়ে লুটিয়ে পড়েন ট্র্যাকেই। শেষ ল্যাপে ফিনিশিং লাইন থেকে প্রায় ৫০ মিটার দুরে থাকতেই পায়ের পেশিতে টান লেগে শুয়ে পরেন বোল্ট। কাতরাতে থাকেন ব্যাথায়।

পেশীতে টান লেগে থেমে যান উসাইন বোল্ট।

পেশীতে টান লেগে থেমে যান উসাইন বোল্ট। ছবি: সংগৃহীত

পেশিতে টান নিয়েও কিছুটা মুহূর্ত শেষ চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু পারেননি। আর এ সুযোগেই ব্রিটেনের মিশেল ব্লেক জয় নিশ্চিত করেন। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের ১০০ মিটার রিলে দৌড়ে এটাই প্রথম সোনার পদক ব্রিটেনের। দলগত এ ইভেন্টটিতে ৩৭.৪৭ সেকেন্ড সময়ে দৌড় শেষ করেছে তারা। রৌপ্য (৩৭.৫২ সেকেন্ড) যুক্তরাষ্ট্রের এবং ব্রোঞ্জ জিতেছে জাপান।

ব্যাথায় ট্র্যাকেই শুয়ে পড়েন উসাইন বোল্ট।

ব্যাথায় ট্র্যাকেই শুয়ে পড়েন উসাইন বোল্ট। ছবি: সংগৃহীত

এক বাক্যে পৃথিবীর দ্রুততম মানব বলা হয় বোল্টকে। কিন্তু কিংবদন্তির এমন শেষেও তার প্রতি সম্মান হারায়নি সমর্থকরা। কাতরাতে থাকা বোল্টকে উঠে দাঁড়াতে সাহায্য করেছে সতীর্থরা। এগিয়ে এসেছেন প্রতিদ্বন্দ্বীরাও। ট্র্যাক ছাড়ার সময় তার জন্য হুইল চেয়ার হাজির করা হলেও নিজের হাঁটুতে ভর করেই ট্র্যাক ছাড়েন।

বোল্টকে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হুইল চেয়ার। ছবি: সংগৃহীত

বোল্টকে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হুইল চেয়ার। ছবি: সংগৃহীত

স্টেডিয়ামে উপস্থিত প্রায় ৬০ হাজার দর্শক অবিশ্বাস্য চোখে তার হতাশাময় বিদায় দেখেছে। আটবারের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন ও ১১ বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নকে ট্র্যাক ছাড়তে হবে দৌড় শেষ না করেই, এমনটা যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না!

সতীর্থরা তাকে উঠে দাঁড়াতে সাহায্য করেন।

সতীর্থরা তাকে উঠে দাঁড়াতে সাহায্য করেন। ছবি: সংগৃহীত

নিজের সবচেয়ে প্রিয় ইভেন্ট ১০০ মিটার দৌড়েও ব্রোঞ্চ নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় এই ট্রিপল ট্রিপল জয়ী দৌড়বিদকে। এর আগে ২০১১ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের ১০০ মিটারে ডিসকোয়ালিফাইড হয়েছিলেন বোল্টে। এ ছাড়া ২০০৯ থেকে চলতি আসরের আগ পর্যন্ত ১০০ মিটার, ২০০ মিটার এবং ১০০ মিটার রিলে দৌড়ে সোনার পদক জিতেছিলেন তিনি।

প্রিয় স্পোর্টস/আশরাফ