(প্রিয়.কম) লালমনিরহাটে এ বারের দু’দফা ভয়াবহ বন্যা থেকে রোপা আমন ক্ষেতকে রক্ষার পর এখন পোকার আক্রমণ থেকে ক্ষেতকে রক্ষা করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে চাষীরা। বিভিন্ন রকমের নামীদামী কীটনাশক স্প্রে করেও পোকা দমন না হওয়ায় আলোর ফাঁদ, জীবন্ত পার্চিং ও মৃত পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করে সফলতার পাচ্ছে চাষীরা।

এ বছর জেলার পাঁচটি উপজেলায় ৮২ হাজার ২৫৯ হেক্টর জমিতে আমন ধান রোপণের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও অর্জিত হয়েছে ৮৪ হাজার ৭১০ হেক্টরে।

কৃষি বিভাগের দাবি, ৯৮ শতাংশ আমন ক্ষেতেই পার্চিং করা হয়েছে। আমন ধানের ক্ষেত থেকে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কঁচুরিপানা ও অগাছা পরিষ্কার করে সার ব্যবহারের পর আমন ধান ক্ষেত রক্ষা করতে চেষ্টা করে যাচ্ছে জেলার হাজার হাজার চাষী।

চাষীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিভিন্ন কোম্পানীর নামী ও দামী কীটনাশক স্প্রে করলেও কিছুক্ষণের জন্য পোকা এক ক্ষেত থেকে অন্য ক্ষেতে চলে যায়। কীটনাশকের গন্ধ সরে গেলে ক্ষেতে আবারও পোকার অগমন শুরু হয়। এক্ষেত্রে পার্চিং ও আলোর ফাঁদ পদ্ধতি প্রয়োগ করা হচ্ছে। যাতে পোকা সরানো নয়, মেরে ফেলে বা পাখিকে দিয়ে খাইয়ে সমূলে ধ্বংস করা যাচ্ছে।

suppressing-insects-trap-light-aman-area

আমনখেতে আলোর ফাঁদ পদ্ধতি ব্যবহার করে পোকা দমন। ছবি: সংগৃহীত

সরে জমিনে দেখা গেছে, জীবন্ত পার্চিং হিসেবে আমন ধানের ক্ষেতে ধৈঞ্চা গাছ লাগিয়েছেন চাষিরা। ওই সব গাছে পাখি বসে ক্ষতিকর পোকা খেয়ে ফেলছে। ধৈঞ্চার শিকড় নাইট্রোজেনের কাজও করছে। কেউ কেউ জমিতে পুঁতে দিয়েছেন বাঁশের কঞ্চি বা শুকনো গাছের ডালপালাও, যেন পাখি বসে পোকা গুলোকে খেয়ে ফেলতে পারে। আলোর ফাঁদ পদ্ধতিতে রাতে ক্ষেতে আলো জ্বালিয়ে তার নিচে পাতিলে ডিটারজেন্ট পাউডার মেশানো পানি রেখেছেন চাষিরা। আলো পেয়ে পোকা-মাকড় উড়ে এসে পাতিলের পানিতে পড়ে মারা যাচ্ছে। এতে শনাক্তও করা যাচ্ছে যে, ওই এলাকায় কোন প্রজাতির পোকা আক্রমণ করেছে। পরে তা দমনে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা এলাকার চাষী আবেদ আলী, আতিয়ার রহমান ও আব্দুস সামাদ জানান, কীটনাশক স্প্রে করে পোকা দমন সম্ভব হচ্ছে না। জীবন্ত পার্চিংয়ের গাছে পাখি বসে তাদের আমন ক্ষেতের ক্ষতিকর পোকা গুলোকে খেয়ে ফেলছে। ফলে এখন পর্যন্ত পোকার আক্রমণ দেখা যায়নি।

হাতীবান্ধা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, পোকা দমনে পার্চিং ও আলোর ফাঁদ পদ্ধতিতে কৃষকদের নিয়মিত উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। উঠান বৈঠক করে সমন্বিত উদ্যোগের পরামর্শ ও লিফলেট দেওয়া হচ্ছে। কৃষকরা সজাগ ও সচেতন হওয়ায় পোকার আক্রমণ তেমন একটা দেখা যাচ্ছে না বলেও দাবি করেন তিনি।

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক বিধু ভূষণ রায় জানান, ধান ঘরে তোলা পর্যন্ত কৃষকরা এভাবে সজাগ ও সচেতন থাকলে আমন ক্ষেতে পোকা আক্রমণ করতে পারবে না। 

প্রিয় সংবাদ/কামরুল