প্রতীকী ছবি

(প্রিয়.কম) চলছে গরমের উত্তাপ। সামনে আসছে রমজান। এই গরমের মধ্যে এবং রমজানের আগেই দেশের সব জেলাতেই নিয়মিত লোডশেডিং হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এ খাতের নেতৃস্থানীয় সংস্থা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এর দাবি দীর্ঘদিন ধরে দেশে বিদ্যুতের লোডশেডিং নেই। 

জানা যায়, রাজধানীর পাশেই সাভারে বর্তমানে আবাসিক গ্রাহকরা ২৪ ঘন্টায় গড়ে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছেন। শিল্পগ্রাহকরা বিদ্যুৎ প্রাপ্তির এ সময়কালের পরিমাণ আরও কিছুটা বেশি জানালেও বিদ্যুতের আপ-ডাউনের কারণে উৎপাদন মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানান। এ ছাড়া বিদ্যুতের দেখা খুব কম সময়ই পাচ্ছেন উত্তরাঞ্চলের মানুষজন। 

গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন গার্মেন্টস এবং স্টিল কোম্পানির কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, লোডশেডিংয়ের কারণে ও মানসম্পন্ন বিদ্যুতের অভাবে উৎপাদন ক্ষমতার অর্ধেকও ব্যবহার করতে পারছেন না তারা।

গত ১ ও ২ মে দেশের ৩৮টি জেলায় বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটে। ওই দিনও পিডিবি দেশে লোডশেডিং হয়নি বলে তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে। উত্তরাঞ্চলে চাহিদামত বিদ্যুত্ সরবরাহ করা যাচ্ছে না বলে দুঃখ প্রকাশ করে বিদ্যুত্ বিভাগ। অথচ ওই দিনও লোডশেডিং হয়নি বলে তথ্য দেয় পিডিবি।

বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থায় দুর্বলতার কারণে ঝড়বৃষ্টি হলেই বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয়। দুর্বল সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থা এবং বেশ কিছু পুরনো ও নিম্নমানের ট্রান্সফরমারের কারণে বিভ্রাট দেখা দেয়। এ বছর কালবৈশাখীসহ বেশি ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এ অবস্থায় লোডশেডিং ও বিদ্যুিবভ্রাট আরও বাড়বে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন ওভারলোডের কারণে বেড়ে চলছে লোডশেডিং। পিডিবি ও পিজিসিবি সূত্রে জানা যায়, অনেক এলাকায় সক্ষমতার বেশি বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এতে হঠাত্ কোনো কোনো এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ধারণার চেয়ে বেড়ে যায়। এ বাড়তি চাহিদা তৈরি হওয়াকেই ওভারলোড বলা হয়। এ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে না দিলে বিতরণ ব্যবস্থায় বিপর্যয় দেখা দেয়। 

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’র (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শামসুল আলম বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকৃত সক্ষমতা নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে। লোডশেডিংয়ের জন্য সঞ্চালন ব্যবস্থা কিছুটা দায়ী হলেও, এটি একমাত্র কারণ নয়। দুর্নীতি ও সিস্টেম লস এর প্রধান কারণ।

প্রিয় সংবাদ/রাকিব/কামরুল