প্রতীকী ছবি

ভালোবাসা নাকি সে শুধু ক্ষণিকের আবেগ

আমি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। মনে হচ্ছিল, আমি পাগল হয়ে যাব। এভাবে সারাক্ষণ তার তরেই আমি ছুটতে ছুটতে ক্লান্ত।

দিলরুবা মাহারতি
প্রকৌশলী
১৬ এপ্রিল ২০১৮, সময় - ১৯:১৯


প্রতীকী ছবি

যে ভালোবাসার কথা কোনোদিন কাউকে বলিনি, তা আজ আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করব। আসলে আমার আজকের লেখার মূল উদ্দেশ্য হলো কিছু প্রশ্নের উত্তর খোঁজা।

সত্যি কি এমন ভালোবাসা আছে, যারা একে অন্যের শ্বাস-প্রশ্বাস? শিরি-ফরহাদ, লাইলি-মজনু, রোমিও-জুলিয়েট বা আমাদের বাংলা সিনেমার সাইড নায়ক-নায়িকারা যেমন ভালোবেসে ভালোবাসা না পেয়ে উন্মাদ হয়ে যায়; বাস্তবে হয় এমন? কখনো দেখেছেন এমন নজির? আমি দেখিনি।

সেই ছোটবেলা থেকে কাউকে ভালোবেসে কিশোর, যৌবন, বৃদ্ধ বয়সে এসেও সে ভালোবাসার ছিটেফোঁটা জড়িয়ে মরার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত তার নাম জপা বা চিরসাথীহারা হয়ে সমাজ সংসারের কোন মানুষটা থাকতে পারে বা থাকল, তা আজ অবধি দেখলাম না বাপু। এটা সাময়িক আবেগ ছাড়া তো কিছুই মনে হয় না!

আমার জীবনের সব প্রেম-স্মৃতি আজ আপনাদের জানাতে চলেছি। আমি যখন ক্লাস নাইনে কি টেনে পড়ি, তখন একটা ছেলে প্রোপোজ করেছিল। আমি রাজি হইনি। তখন সে বলেছিল, তোমার যেদিন বিয়ে হবে- সেদিন আমি তোমার সামনে আত্মহত্যা করব। দেখি তুমি আমার লাশ ডিঙিয়ে কীভাবে বাসর করো। এমন নির্লজ্জ আর আবেগি ধমকিতে আমার একটুও হৃদয় কাঁপেনি। 

আমার বিয়ে হইনি এখনো। অথচ সে বেচারা বিয়ে-শাদি করে বাচ্চার বাপ হয়ে গেছে। আমি যখন কিশোরী ছিলাম, তখন কাউকে কাউকে এতটাই ভালো লাগত যে, সারা দিন শুধু তার কথাই মনে হতো। মনে হতো- ইস! আমার যদি এমন একটা বর হতো। এই লোকটা আর কারো হতে পারে না। নেভার! বিভিন্ন কারণে সে ভালোবাসার কথা জানানো হইনি।

যাহোক, যখন প্রাপ্ত বয়স্ক হলাম, তখন কিশোরী বয়সের ভালোলাগার কথা মনে উঠতেই হা হা হা করে হেসেছি। এবার প্রাপ্ত বয়সে এসে মনে হয়, যৌবনে এসে কেউ কেউ যদি এমন করে কড়া নাড়ত! শয়নে-স্বপনে, নিশিতে-জাগরণে আমি শুধু তাকেই যেন দেখি! তখন মনে হয়, সত্যি আমি তাকে খুব ভালোবেসে ফেলেছি। আমি ভালোবাসি তাকে। এমন ছটফট যন্ত্রণা বলব করে আর বলা হয় না।

আবার কেউ কেউ এঙ্গেজড ছিল। তাই সে কথা শুনেই মনকে বললাম- মন, তোমার আবেগি সুখের জন্য আমি কোনো অ্যাবনরমাল কাজ করতে পারব না। এ ভালোবাসা আমার সাময়িক আবেগ বা ধোঁকা। মন কি আর বুঝতে চায়। সে তো তার জায়গা থেকে এক পাও সরে না। কিন্তু আমার জেদের কাছে শেষ পর্যন্ত হার মানতেই হয়। আমার বয়স এখন প্রায় ৩০। এই বয়সে এসেও একজন ভদ্রলোককে খুবই ভালো লাগল। তাকে বলেও দিলাম। কিন্তু সে আমাকে রিজেক্ট করল অতি ভদ্রভাবে। কিন্তু আমি বাংলা নায়িকাদের মতো ভালোবাসা না পাওয়ার যন্ত্রণা পেতে লাগলাম। সে কি যে কষ্ট! আমি কত্ত কত্ত কান্নাকাটি যে করতাম সারা দিন-রাত। আমার তো সারা দিন কোনো কাজই হতো না ভালো করে। তার কথা ভাবতে ভাবতেই রাত দিন এক হয়ে যেত। আমি দেয়ালে কত যে নিজের কপাল আছড়েছি। বার বার শুধু একটা প্রশ্নই নিজের মনকে করতাম, ধিক্কার দিতাম, তিরস্কার করতাম, গালি দিতাম- কেন কেন তার কথা মনে পড়ে। এটা তো পসিবল না। কেন তুমি বোঝ না মন। কেন কেন......।

আমি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। মনে হচ্ছিল, আমি পাগল হয়ে যাব। এভাবে সারাক্ষণ তার তরেই আমি ছুটতে ছুটতে ক্লান্ত। আর পারছি না। আল্লাহ আমাকে মুক্তি দাও, আমি মুক্তি চাই। আমাকে মুক্তি দাও- এভাবে কেঁদেছি বারংবার। তারপর আমি বুঝতে পারলাম, আমার এই ভালোবাসার আবেগ থেকে সরে আসতে একমাত্র সৃষ্টিকর্তাই ভরসা। তাই নফল নামাজ পড়তাম, রোজা রাখলাম। আল্লাহর কাছে সারাক্ষণ এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য কেঁদেছি।

হঠাৎ  একদিন শুনলাম ওই ভদ্রলোক বিয়ে করেছেন। সেদিন অনেক কেঁদেছিলাম। এতদিন তবুও তো আশা করতে পারতাম কিন্তু এখন তো সে অন্যের আমানত। তাই আল্লাহ আমাকে মুক্তি দিলেন। আল্লাহর রহমতে সেদিনের পর থেকে আর তার জন্য কাঁদিনি, আফসোসও হইনি। আল্লাহই আমাকে সে আজাব থেকে মুক্তি দিলেন। আমার মনকে শান্ত করে দিলেন। আমার চিন্তা-ভাবনাকে কলুষিত হওয়া থেকে বাঁচালেন। অন্যের হাজব্যান্ড নিয়ে নিজের মনে স্বপ্ন দেখা বা নিজের মনে কল্পনা করার মতো নিকৃষ্ট কাজ থেকে মুক্তি দিলেন।

এই পৃথিবীতে অনেক মানুষের জীবনেই এমন দিন এসেছে, চলছে বা ভবিষ্যতে আসবে। কিন্তু দুর্বল হয়ে বা ভেঙে পড়ে আমরা অনেক ভুল সিদ্ধান্ত নেই। কখনো হয়তো নিজের ক্ষতি করি বা কখনো পরিবার, দেশ, সমাজের ক্ষতি করি। এটা মানুষ হিসেবে আমাদের কাজ হওয়া উচিত না। তাহলে একটা অবলা জীব আর মানুষের মাঝে কোনো পার্থক্য থাকে না।

বড়াই করে বলার কোনো জায়গা থাকে কি- যে আমাদের বুদ্ধি আছে, বিবেক আছে। আমরা মনুষ্যত্ব বোধ আর বিবেক দ্বারা জাগ্রত। আবার আবেগে পড়ে আমরা পড়ালেখা ছেড়ে দেই বা মানুষের প্রতি মূল্যবোধ, শ্রদ্ধাবোধ ভুলে যাই, বাবা-মায়ের মান-সম্মান নষ্ট করি বা তাদের নিচু করি, কখনো আত্মহত্যার পথও বেছে নেই। আমরা ভুলে যাই যে, এই দুনিয়া শুধু পরীক্ষা ক্ষেত্র। অথচ আত্মহননের মতো রাজটিকিট নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে বহিষ্কার হয়ে যাই। এই সবই হয় আমাদের মনের আবেগে আর শয়তানের প্ররোচনায়।

কিন্তু আমি তার জলন্ত প্রমাণ যে, আল্লাহর কাছে চাইলে তিনি তার বান্দাদের অবশ্যই সাহায্য করেন। তিনি সম্মানের এবং শান্তির সহিত জীবনযাপনের মহিমা তার বান্দার ওপর দান করেন। তাই আসুন আজ থেকে চেষ্টা হবে- মাথা উঁচু করে নিজের ব্যক্তিত্ব বজায় রেখে সবাইকে নিয়ে সংকল্প মনে যেকোনো কঠিন সময়ের মকাবেলা করে সুস্থভাবে, উৎফুল্ল মনে সুন্দরভাবে বেঁচে থাকা।

[প্রকাশিত লেখা ও মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। প্রিয়.কম লেখকের মতাদর্শ ও লেখার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত মতামতের সঙ্গে প্রিয়.কমের সম্পাদকীয় নীতির মিল না-ও থাকতে পারে।]

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
ক্রিকেটে প্রণয় সমাচার
গাজী মো. রাসেল ১৫ জুলাই ২০১৮
নারী মাত্রই আবেদনময়ী, তাই কী?
জীবেন রায় ১৪ জুলাই ২০১৮
‘আমি নোমান থাকি ওমান’
রাফিউজ্জামান রাফি ১৩ জুলাই ২০১৮
ট্র্যাজেডিতে সহযোগিতা
জীবেন রায় ১১ জুলাই ২০১৮
কূট ও কৌটিল্যনীতি—ইট’স এ গেইম
কাকন রেজা ০৯ জুলাই ২০১৮