কিংবদন্তী সংগীত তারকা লাকী আখন্দ। ছবি: শামছুল হক রিপন

(প্রিয়.কম) কিংবদন্তী সংগীতশিল্পী লাকী আখন্দ আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাইহি রাজিউন)। দীর্ঘ দিন থেকেই তিনি ক্যান্সার রোগে ভুগছিলেন। এ সময় তার বয়স হয়েছিল ৬১ বছর।

২১ এপ্রিল শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টার পর পুরান ঢাকার আরমানিটোলার নিজ বাসায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই শিল্পী।

লাকী আখন্দের মেয়ে মাম্মিন্তি আখন্দ প্রিয়.কমকে নিশ্চিত করেছেন। 

গুণী এই সংগীতজ্ঞ অনেকদিন ধরেই মরণব্যাধী ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলে ক্যানসার ধরা পড়ে। এরপর থাইল্যান্ডের ব্যাংককে চিকিৎসা নিতে যান। সেখানে কেমোথেরাপি নেওয়ার পর শারীরিক অবস্থার অনেকটা উন্নতি হয়েছিল তার। ছয় মাসের চিকিৎসা শেষে ২০১৬ সালের ২৫ মার্চ দেশে ফেরেন। একই বছরের জুনে আবারও থেরাপির জন্য ব্যাংকক যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে পরে আর তার সেখানে যাওয়া হয়ে উঠেনি।

চলতি বছর ৫ ফেব্রুয়ারি এ শিল্পীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর প্যালিয়েটিভ কেয়ারের ভর্তি করা হয়। তিনি সেখানে অধ্যাপক নেজামুদ্দিন আহমেদের অধীনে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

দুই মাসেরও বেশি সময় হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর সম্প্রতি আরমানিটোলার নিজ বাসায় ফিরেন। এ সময় তার শারীরিক অবস্থা ভালোই ছিল বলে জানিয়েছিলেন শিল্পীর পাশে ফাউন্ডেশন’ সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবী এরশাদুল হক টিংকু। তিনি জানান, এখন নিয়মিত খাবার খাচ্ছেন, গান শুনছেন, সবার খোঁজ খবর নিচ্ছেন।

হঠাৎ ২০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার রাতে জ্বরে আক্রান্ত হন লাকী আখন্দ। এরপর তার না ফেরার দেশে চলে যাওয়ার খবর এলো।

ব্যাংকক থেকে চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফেরার পর ২০১৬ সালের জুন মাসে আরমানিটোলার নিজ বাসায় লাকী আখন্দের মুখোমুখি হয় প্রিয়.কম। সেসময় প্রিয়.কমকে তিনি বলেছিলেন, ‘কোনো গান তৈরির আগে তাকে সতর্ক হতে হবে। গানটি শোনার পর শ্রোতাদের মনে এক ধরনের কৌতূহল কিংবা আওয়াজ থাকবে। আর সে কারণেই পুনরায় আমার পৃথিবীতে আসা। স্রষ্টা আমাকে আবার ফেরত পাঠিয়েছেন। বলতে পারেন কবরের দ্বারপ্রান্ত থেকে। তাই আমার জীবনের সেরা কাজটি করেই কবরে যেতে হবে।’

পড়ুন সেই বিশেষ সাক্ষাতকার:
>> আমার জীবনের সেরা কাজটি করেই কবরে যেতে হবে : লাকী আখন্দ

প্রিয়’র ক্যামেরায় লাকী আখন্দের হাসি। 

লাকী আখন্দ একাধারে গায়ক, সুরকার ও সংগীত পরিচালক। তার জন্ম ১৯৫৪ সালের ১৮ জুন। ৫ বছর বয়সেই তিনি তার বাবার কাছ থেকে সংগীত বিষয়ে হাতেখড়ি নেন। তিনি ১৯৬৩-১৯৬৭ সাল পর্যন্ত টেলিভিশন এবং রেডিওতে শিশুশিল্পী হিসেবে সংগীত বিষয়ক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। মাত্র ১৪ বছর বয়সেই এইচএমভি পাকিস্তানের সুরকার এবং ১৬ বছর বয়সে এইচএমভি ভারতের সংগীত পরিচালক হিসেবে নিজের নাম যুক্ত করেন। ১৯৮৪ সালে সারগামের ব্যানারে লাকি আখন্দের প্রথম একক অ্যালবাম লাকি আখন্দ প্রকাশ পায়।

লাকী আখন্দের উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছে, ‘এই নীল মনিহার’, ‘আমায় ডেকো না’, ‘কবিতা পড়ার প্রহর এসেছে’, ‘যেখানে সীমান্ত তোমার’, ‘মামনিয়া, ‘বিতৃঞ্চা জীবনে আমার’, ‘কি করে বললে তুমি’ ‘লিখতে পারি না কোনোও গান, ‘ভালোবেসে চলে যেও না’ প্রভৃতি।

প্রিয় সংবাদ/খোরশেদ/রিমন