(প্রিয়.কম) জীবন নিয়ে যেদিন থেকে বোঝা শুরু করেছেন, সেদিন থেকেই ক্রিকেটকে ভালবেসেছেন বাংলাদেশের উদীয়মান ক্রিকেটার আলী আহমেদ মানিক। তার প্রথম ও শেষ ভালবাসার নাম ক্রিকেট। জীবনে অন্য কিছু হওয়ার কথা কোনদিনও ভাবেননি। ক্রিকেট না খেললে কী করতেন তাও জানেন না। কিন্তু এই ডানহাতি ফাস্ট বোলারের ক্রিকেটে আসার গল্পটা খুব বেশি সুখের নয়।

এখনও জাতীয় দলের জার্সি গায়ে তুলতে পারেননি ২০ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। তবে লক্ষ্য থেকে সরছেন না এক পা-ও। জাতীয় দলে না খেলতে পারলেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিসিবির একাদশের হয়ে খেলেছেন। ক্রিকেটে আসার গল্প, জাতীয় দল, ভবিষ্যৎ ভাবনাসহ অনেক বিষয় নিয়ে তরুণ এই পেসার কথা বলেছেন প্রিয়.কমের সাথে। প্রিয়.কমের পাঠকদের জন্য এর উল্লেখযোগ্য অংশ তুলে ধরা হল।-

- আপনার ক্রিকেটে আসার গল্পটা কেমন?

আলী আহমেদ মানিক: ২০১০ সালে তখন আমি অষ্টম শ্রেণিতে পড়ি। স্কুলে ক্রিকেট খেলতাম কিন্তু পরিবার সব সময় এর বিরুদ্ধে ছিল। একদিন কাউকে কিছু না জানিয়ে চলে যাই গোপালগঞ্জের এক দলের হয়ে খেলতে। জেলাভিত্তিক সে দলের হয়ে পুরো এক মৌসুম খেলি। পুরো মৌসুম খেলে যখন বাড়িতে ফিরি তখনও কেউ সমর্থন দেয়নি। অনেক অনুরোধ করেছি কোন একটা ক্রিকেট কোচিংয়ে ভর্তি করানোর জন্য। কিন্তু কেউ রাজি ছিল না। অনেক কষ্টে বড় ভাইয়াকে রাজি করালাম ঢাকা নিয়ে যাওয়ার জন্য। ভাইয়া আমাকে মতিঝিল মডেল স্কুল এন্ড কলেজে ভর্তি করিয়ে দেন। ঢাকাতে তার সাথেই থাকতাম। কিন্তু ক্রিকেট খেলবো এটা কিছুতেই তাকে মানাতে পারলাম না। পরে রাগ করে একদিন বাসা থেকে বের হয়ে যাই। থাকার জায়গা ছিল না, কিছু চিনিও না। রাস্তায়ই থাকি দুইদিন। পরে বড় ভাইয়ের এক বন্ধুকে খুঁজে বের করে তার কাছে যাই। শেষ পর্যন্ত ওয়াহিদুল গনির অঙ্কুর ক্রিকেট একাডেমিতে ভর্তি করিয়ে দেয়। কিছু দিন পর পেস ফাউন্ডেশনের অধীনে পেসার হান্টে অংশ নিই। সেখানেই মুস্তাফিজ (রহমান) ছিল আমার সাথে। দু’জনই সেরা ছয়ে নির্বাচিত হই। ওখান থেকে অনূর্ধ্ব-১৯ দলে ডাক পেয়ে যাই।  

প্রিয় বন্ধু মুস্তাফিজুর রহমান ও প্রিয় শিক্ষক কোর্টলি ওয়ালশের সাথে মানিক।

প্রিয় বন্ধু মুস্তাফিজুর রহমান ও প্রিয় শিক্ষক কোর্টলি ওয়ালশের সাথে মানিক। ছবি: বিসিবি

- এখন তো ঘরোয়া ক্রিকেটে সুযোগ পান। এখন যেমন এনসিএলে ঢাকা মেট্রোর হয়ে খেলছেন। এনসিএলের এই মৌসুম শেষে নিজেকে কোথায় দেখতে চান?

আলী আহমেদ মানিক: আসলে প্রথম ইনিংসে তেমন ভাল বল করতে পারিনি। উইকেট থেকে তেমন সাহায্য পাইনি। উইকেট বুঝতেও সময় লেগেছে। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে ভাল করেছি। এভাবে বল করতে পারলে মৌসুম শেষে আশা আছে সেরা পাঁচ বোলারের মধ্যে থাকার।

- ঢাকা মেট্রোতে সুযোগ পেয়ে কতোটা সন্তুষ্ট?

আলী আহমেদ মানিক: আমার কাছে দল হিসেবে আমরা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতো। দলের অনেকেই ভাল ফর্মে আছেন। আমরা টায়ার ওয়ানে যাওয়ার মতো দল। আশা আছে টায়ার টু থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়ে নিজেদের প্রমাণ করেই টায়ার ওয়ানে উঠব। প্রথম ম্যাচে অলরেডি একটা সেঞ্চুরি, তিনটি হাফ সেঞ্চুরি আছে আমাদের ব্যাটসম্যানদের। বোলাররাও ভাল করছে। পাঁচ উইকেট পেয়েছে। এভাবে এগোতে থাকলে ভাল কিছু করতে পারব।

১৯তম এনসিএলে ঢাকা মেট্রোর হয়ে খেলছেন মানিক।

এবারের এনসিএলে ঢাকা মেট্রোর হয়ে খেলছেন মানিক। ছবি: সংগৃহীত

কোর্টনি ওয়ালশের সাথে আপনার বিশেষ ক্লাস চলছে। কাজ করে কেমন লাগছে? কী মনে হয়, কতটুকু শিখতে পেরেছেন?

আলী আহমেদ মানিক: প্রথমত তার সাথে কাজ করাই অনেক বড় ব্যাপার। তিনি সব সময় তার ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতাগুলো আমাদের সাথে শেয়ার করেন। সব সময় পাশে দাঁড়িয়ে থেকে বোলিং দেখেন। হাতে ধরে শিখিয়ে দেন। ভুল হলে আবার বলে দেন। কীভাবে বল ধরতে হবে, ব্যাটসম্যানের মুভমেন্ট বুঝে কীভাবে বল করতে হবে এসবই শেখান। আমি আউট সুইংটা ভাল পারি। ওয়ালশ আমাকে নতুন বলে ইনসুইং ও আউট সুইং দুটোই শেখাচ্ছেন। তিনি যখনই সময় পান, আমাদের ডেকে নেন।

- বিপিএলে আপনার সমসাময়িক ও আপনার সতীর্থ অনেকেই বিভিন্ন দলে ডাক পেয়েছেন। আক্ষেপ হয়?

আলী আহমেদ মানিক: আসলে সত্যি কথা বলতে, প্রিমিয়ার লিগে  ভাল করতে পারিনি। এটাই বিপিএলে দল না পাওয়ার মূল কারণ। তাই আক্ষেপটাও কম। ভাল করে দল না পেলে আক্ষেপ থাকতো অবশ্যই।

জাতীয় দল নিয়ে পরিকল্পনা কী? কীভাবে এগোচ্ছেন ?

আলী আহমেদ মানিক: আপাতত ফরম্যাট বাই ফরম্যাট এগোনোর পরিকল্পনা। বর্তমানে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলছি। এখানে ভাল খেলে নিজেকে প্রমাণ করতে পারলে বোর্ডের নজরে থাকব। সামনে প্রিমিয়ার লিগ আছে। সেটাই মূলত আমার লক্ষ্য। প্রিমিয়ার লিগে ভাল করতে পারলে অবশ্যই জাতীয় দলে খেলার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।

প্রিয় স্পোর্টস/শান্ত মাহমুদ