মধু সংগ্রহে ব্যস্ত চাষিরা। ছবি: প্রিয়.কম

মানিকগঞ্জে চাষিদের হাসিতে মধু

মিলন জানান, ডিসেম্বর মাসের প্রথমে মধু সংগ্রহের জন্য এসেছেন। তিনি ৬৭টি মৌমাছির বাক্স নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু পরে কিছু মৌমাছি মারা যাওয়ায় এখন ৫০টি বাক্সে মৌমাছি আছে।

মো. সুমন হোসেন
কন্ট্রিবিউটর, মানিকগঞ্জ
প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারি ২০১৮, ১৯:৩৯ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ২১:৩২
প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারি ২০১৮, ১৯:৩৯ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ২১:৩২


মধু সংগ্রহে ব্যস্ত চাষিরা। ছবি: প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) মানিকগঞ্জে সরিষার ফুল থেকে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। বাণিজ্যিকভাবে মধু উৎপাদনে তারা ব্যাপক লাভবান হচ্ছেন বলে জানা যায়। প্রতিবছরের মতো এবারও মানিকগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় খেতে মধু উৎপাদন করছেন চাষিরা। মধু সংগ্রহের কারণে সরিষার ফলনও ভালো হচ্ছে বলে জানান স্থানীয় কৃষকরা।

বলা হয়ে থাকে, মধু সর্বরোগের মহাওষুধ। মধুর গুণাগুণ অনেক, একটি নির্ভেজাল খাদ্য। মধুতে শর্করার পরিমাণ বেশি থাকায় রোগ প্রতিরোধে যেকোনো জীবানুর বিরুদ্ধে লড়াই করে। মধুতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ, বি ও সি আছে। এতে প্রচুর পরিমাণ প্রোটিনও রয়েছে, কোলেস্টরেল নেই। 

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উথুলি-আরিচা সংযোগের নিকটে জেলার শিবালয় উপজেলার বোয়ালি এলাকায় মধু সংগ্রহ করতে এসেছেন ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার মো. মিলন (২৮)। তিনি জানান, ডিসেম্বর মাসের প্রথমে মধু সংগ্রহের জন্য এসেছেন। তিনি ৬৭টি মৌমাছির বাক্স নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু পরে কিছু মৌমাছি মারা যাওয়ায় এখন ৫০টি বাক্সে মৌমাছি আছে। ফুলের পরাগায়ন ভালো হলে প্রতি বাক্সে ৩-৪ কেজি মধু হয়। প্রতি কেজি মধু ৩০০-৪০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা যায়।

মধু সংগ্রহের বাক্স। ছবি: প্রিয়.কম

মধু সংগ্রহের বাক্স। ছবি: প্রিয়.কম 

গত বছর মিলন ৩০ মণ মধু সংগ্রহ করেন। এ বছর আরও বেশি মধু পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তিনি। মিলন বলেন, আবহাওয়া ভালো থাকলে বেশি মধু সংগ্রহ করা যাবে। মধু সংগ্রহের একটি বিশেষত্ব হলো- শীত যত বেশি হবে, সরিষায় তত বেশি মধু হবে।

স্থানীয় কৃষক আলম মিয়া জানান, মধু সংগ্রহের কারণে পরাগায়ন ভালো হওয়ায় তারাও বেশি লাভবান হচ্ছেন। তাই তারা মধু চাষিদের সঙ্গে নিয়ে খুবই ভালো ফলাফল পাচ্ছেন। তবে এলাকার কিছু লোকজন মধু নিয়ে টাকা দেয় না। এরপরেও লাভবান হবেন বলে আশা করেন তিনি।

শাহজাহান বিশ্বাস বিকেলে হাঁটতে বেরিয়েছিলেন। রাস্তার পাশে মধু দেখতে পেয়ে তিনি কিনতে এসেছেন। এবছরই প্রথম তিনি সরাসরি খেত থেকে মধু কিনলেন। শাহজাহান বিশ্বাস বলেন, তিনি ৫ কেজি মধু নিয়েছেন ১৫০০ টাকা দিয়ে।

শাহজাহান বিশ্বাস ছাড়াও মহাসড়কের পাশে বিকেলে হাঁটতে আসা অনেকই মৌমাছির বাক্স ও মধু তৈরি করা দেখতে এবং কিনতে ভিড় করে থাকেন।

প্রিয় সংবাদ/কেএফ/শান্ত  

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...