বিশ্ববাসীর প্রতি রোহিঙ্গা শিশু জসিমের বার্তা

‘আমরা মিয়ানমারেরই নাগরিক। যদি তারা আমাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, আমরা খুব খুশি হব। আমাদের আকাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য এটিই।’

হাসান আদিল
সহ-সম্পাদক
১১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, সময় - ১৮:২৭

রোহিঙ্গা শিশু জসিম। বড় হয়ে শিক্ষক হওয়া যার স্বপ্ন। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) মায়াবী চেহারার ছেলেটার নাম জসিম, বয়স ১২ বছর। রাখাইন অঞ্চলে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের মধ্যে সেও একজন।

বিশ্ববাসীর প্রতি রোহিঙ্গা শিশু জসিম এক বার্তা দিয়েছে, যেটি পুরো বিশ্ববিবেককে নাড়া দিয়েছে। তার বার্তায় হুবহু পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

আমার নাম জসিম। আমার বয়স ১২ বছর। এ সংকটের (সেনাবাহিনীর অভিযান) পূর্বে আমি একটি স্কুলে অধ্যয়নরত ছিলাম। আমার সবচেয়ে বেশি পছন্দের বিষয় ছিল ইংরেজি। আমি চিন্তা করেছিলাম যে, যদি আমি ইংরেজিতে কথা বলতে পারি তবে বিশ্ববাসীর সঙ্গে যোগাযোগ এবং আমার মতামত প্রকাশের জন্য তা সহায়ক হবে। আশা করছি এত দ্রুত আমার পড়ালেখায় ছেদ পড়বে না। কেননা আমি একজন শিক্ষক হতে চাই। 

যখন সেনাবাহিনী আমাদের গ্রামে আসলো তখন আমরা দূরে পালিয়ে আত্মগোপন করলাম। আমি দেখতে পেলাম অনেকগুলো সেনাকর্মকর্তা, ১০০ কিংবা ২০০ হবে। তারা আমাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ছে, আমাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিচ্ছে। এ পরিস্থিতি দেখে আমি খুব ভীত হয়ে পড়েছিলাম।

এরপর আমরা জঙ্গলে নিজেদের আত্মগোপনে রাখলাম এবং বাংলাদেশ অভিমুখে যাত্রা শুরু করলাম। প্রায় ১৩ দিন জঙ্গলের মধ্যে যাত্রার পর আমরা বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছি। জঙ্গলের বাইরে এসে একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই পেলাম।

এটা কখনও সুখকর কোনো ভ্রমণ ছিল না। আমাদের বড় বড় পাহাড় টপকাতে হয়েছে, পার হতে হয়েছে ছোট ছোট নদী। আমরা খুবই ভীত ছিলাম সীমান্ত পার হওয়ার সময়। বাংলাদেশে আসার আগে সীমান্তে আমাদের অত্যন্ত সন্তর্পণে পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। এর কারণ হলো সেনাবাহিনী সীমান্তে মাটির নিচে বোমা (মাইন) পেতে রেখেছে। আমরা যদি অসতর্কতাবশত বোমাগুলোর আওতার মধ্যে চলে আসি তবে সেগুলোর বিস্ফোরণ ঘটবে। পরিণতি নির্ঘাত মৃত্যু।  

আমি আমার গ্রামের কথা চিন্তা করে খুবই হতাশ বোধ করছি, কেননা এর কোনো অস্তিত্ব বর্তমান নেই। আমরা আসার সময় কিছুই আনতে পারিনি, সবকিছুই ধ্বংস হয়ে গেছে। আমি আমার মায়ের সঙ্গে এসেছি। আমার বাবা এখনও রাখাইন অঞ্চলে অবস্থান করছেন। তিনি আমাদের উপদেশ দিয়েছিলেন, নিজেদেরকে রক্ষা করতে। তিনি বলেছিলেন, পরবর্তীতে আমাদের সঙ্গে যোগ দিবেন। কিন্তু আমরা এখনও জানি না তিনি কোথায় আছেন এবং কেমন আছেন।

আমি খুব বেশি চিন্তিত বাবাকে নিয়ে। যদি সেনাবাহিনীর হাতে পড়ে যান। কিংবা সীমান্তে পেতে রাখা বোমায় অসতর্কতাবশ পা দিয়ে বসেন। এতকিছুর পরও আমি আনন্দিত যে, আমরা নিরাপদে আছি। তবে এখানে বসবাস করা খুবই কঠিন। কেননা এখানে কোনো ঘরবাড়ি নেই। কর্দমাক্ত মাঠে আমাদের ঘুমাতে হচ্ছে।

বিশ্ববাসীর প্রতি আমার বার্তা হচ্ছে, আমরা মিয়ানমারেরই নাগরিক। যদি তারা আমাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, আমরা খুব খুশি হব। আমাদের আকাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য এটিই।

সূত্র: আল জাজিরা

প্রিয় সংবাদ/রিমন

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গুলি বর্ষণ
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গুলি বর্ষণ
বাংলা ট্রিবিউন - ১ ঘণ্টা আগে
খালেদা জিয়ার জীবন সঙ্কটে: চিকিৎসক
খালেদা জিয়ার জীবন সঙ্কটে: চিকিৎসক
বিবিসি বাংলা - ৯ ঘণ্টা আগে
আরো পড়ুন
জনপ্রিয়