ছবি সংগৃহীত

প্রিয় গন্তব্য: মিরপুর বোটানিক্যাল গার্ডেন

ঢাকার মাঝে এক বিশাল প্রাকৃতিক উদ্যান, মিরপুর বোটানিক্যাল গার্ডেন।

খন্দকার ইশতিয়াক মাহমুদ
লেখক
প্রকাশিত: ১৪ মার্চ ২০১৭, ০৮:১০ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ২১:১৬
প্রকাশিত: ১৪ মার্চ ২০১৭, ০৮:১০ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ২১:১৬


ছবি সংগৃহীত
আলো ছায়ায় ঢাকা পায়ে হাঁটা পথ। ছবি: সজল জাহিদ।
 
(প্রিয়.কম): জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান বা বাংলাদেশ ন্যাশনাল হার্বেরিয়াম (ইংরেজি: National Botanical Garden of Bangladesh) বাংলাদেশে উদ্ভিদ প্রজাতি সংরক্ষণ, গবেষণা ও প্রদর্শনের সবচেয়ে বড় কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত। কেন্দ্রটি ন্যাশনাল বোটানিক্যাল গার্ডেন নামেও পরিচিত। সাধারণ মানুষের কাছে মিরপুর বোটানিক্যাল গার্ডেন নামে পরিচিত। ১৯৬১ সালে প্রায় ২০৮ একর (৮৪ হেক্টর) জায়গা জুড়ে উদ্যানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ঢাকার আরেকটি উদ্যান বলধা গার্ডেন প্রশাসনিক দিক দিয়ে এই উদ্যানেরই অংশ। মিরপুর বোটানিক্যাল গার্ডেন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উদ্ভিদ উদ্যান।
 
কোথায়: মিরপুরে উত্তর দিকে বেড়িবাঁধ এর কাছাকাছি রয়েছে ঢাকা চিড়িয়াখানা, ঠিক তার পাশেই করা হয়েছে এই উদ্যান।
 
হঠাৎ করে মনে হতেই পারে এটা কোন বন জঙ্গল! ছবি: উইকিপিডিয়া।
 
কীভাবে: গাবতলি বাসষ্ট্যান্ড থেকে ছোট লেগুনায় করে ১০-১৫ টাকা ভাড়া দিয়ে সরাসরি বোটানিক্যাল গার্ডেনে যাওয়া যায়। সদরঘাট বাসষ্ট্যান্ড থেকে মিরপুর-১ এ যে সব গাড়ী গুলো যায় তাতে উঠলে ২৫-৩৫ টাকা ভাড়া দিয়ে বোটানিক্যাল গার্ডেনে যাওয়া যায়। এছাড়াও ঢাকার যে কোন জায়গা থেকে বাসে করে মিরপুর দশ অথবা মিরপুর এক এ গিয়ে এর পরে সেখান থেকে রিকশা করে যাওয়া যাবে বোটানিক্যাল গার্ডেন।
 
পুরো বোটানিক্যাল গার্ডেন জুড়েই আছে বিভিন্ন আকারের পায়ে হাঁটা পথ। ছবি: ইশতিয়াক হীরা।
 
কী দেখবেন: ঢাকা শহরে বিশাল আকারে প্রাকৃতিক পরিবেশ খুব বেশি নেই। অল্প যে কটি আছে, তার মাঝে একটি হল মিরপুর বোটানিক্যাল গার্ডেন। ২০৮ একর আয়তনের এই উদ্যানটিতে রয়েছে ১১টি জলাশয়, অনেক গুলো ছোট বড় পায়ে হাঁটা পথ। কোনটা পিচ ঢালা, কোনটা হয়ত ইটের, আবার একদম মেঠো-পথ ও আছে। হাঁটতে হাঁটতে চারপাশে চোখে পড়বে বিভিন্ন প্রকৃতির গাছ। উঁচু টিলা আর নিচু জলাশয়ের পাশ দিয়ে হেঁটে যেতে ভালই লাগবে সবার।
 
জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে বর্তমানে ১১৭টি গোত্রভুক্ত ৯৫২ প্রজাতির গাছপালা রয়েছে। এর মধ্যে ২৫৬টি প্রজাতির ৩৫ হাজার বৃক্ষ, ৩১০ প্রজাতির ১০ হাজার গুল্ম , ৩৭৮ প্রজাতির ১২ হাজার বিরুৎ ও লতা জাতীয় উদ্ভিদ। ২০৮ একর উদ্যানটি মোট ৫৭টি সেকশনে বিভক্ত। রয়েছে শাপলা পুকুর ও গোলাকৃতির পদ্ম-পুকুর। শাপলা পুকুরে বছরের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাসে শাপলা ফোটে। একসময় শীতকালে বড় জলাশয়গুলোতে হাঁসজাতীয় পরিযায়ী পাখিরা আসত। এখন আর আসে না। জাতীয় উদ্যানের ১.৫ একর জুড়ে রয়েছে মৌসুমি ফুলের বাগান। সালভিয়া, মর্নিংগ্লোরি, মেরি-গোল্ড, ডালিয়াসহ প্রায় ৫২ জাতের বিদেশি মৌসুমি ফুলের চাষ করা হয় এ বাগানে। বাগান ঘিরে রয়েছে একটি আঁকাবাঁকা কৃত্রিম লেক। ১৯৮০ সালে প্রায় ৩.৫ একর জায়গার উপর নির্মিত হয় উদ্যানের গোলাপ বাগান। দু'টি পৃথক বাগানে প্রায় ২০০ প্রজাতির গোলাপ সংগ্রহে রয়েছে। একটি গোলাপ বাগানের মাঝে রয়েছে গোলাকৃতির একটি জলাশয়। এই জলাশয়ে সংরক্ষিত রয়েছে ব্রাজিলের আমাজন লিলি। ১৯৮০-৮১ সালে নির্মাণ করা হয় উদ্যানের দেবদারু-ইউক্যালিপটাস বাগান। ইউক্যালিপটাসগুলো অস্ট্রেলিয়া থেকে সংগ্রহ করা। ১৬ প্রজাতির ইউক্যালিপটাস ও আকাশমণি রয়েছে এখানে। বাঁশ-বাগানে রয়েছে প্রায় ২২ প্রজাতির বাঁশ। গর্জন বাগানের উত্তর পাশে সৃষ্টি করা হয়েছে ভেষজ উদ্ভিদের বাগান। এই বাগানে রয়েছে কালমেঘ, তুলসী, আতমোরা, শতমূলী, পুনর্নভা, থানকুনি, আদা, বোতল ব্রাশ, তেলাকুচা, কুমারী লতা, বাসক, বচসহ হরেক ভেষজ উদ্ভিদের সংগ্রহ।
 
উদ্ভিদ উদ্যানের প্রায় ৫ একর জায়গা জুড়ে একটি নার্সারি রয়েছে। এ নার্সারিতে ফুল, ফল, লতা, গুল্ম ইত্যাদি উদ্ভিদের চারা চাষ করা হয়। সরকার নির্ধারিত মূল্যে এই নার্সারি থেকে চারা কেনা যায়।
 
প্রবেশমূল্যবড়দের ১০টাকা, ছোটদের ৫ টাকা। কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষ শিক্ষা সফরে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রবেশ মূল্য ৩ টাকা।
 
সতর্কতা: প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং একটু নির্জন হবার কারণে সন্ধ্যার পরে এই এলাকাটি নিরাপদ থাকে না। তাই একটু হাতে সময় নিয়েই বের হয়ে আসা উচিত। ভেতরে খাবারের ফেরিওয়ালা পাবেন, তবে তারা উচ্চমূল্য নিয়ে থাকে। তাই খাবার সাথে নেয়া ভাল হবে।
 
তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া।
সম্পাদনা: ড. জিনিয়া রহমান।
 
আপনাদের মতামত জানাতে ই-মেইল করতে পারেন [email protected] এই ঠিকানায়।