ফাইল ছবি

(প্রিয়.কম) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানা নির্দেশনা, দফায় দফায় প্রজ্ঞাপন, ব্যাংক সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতা ও এজেন্টদের স্বেচ্ছাচারিতায় হ-য-ব-র-ল অবস্থা তৈরি হয়েছে মোবাইল ব্যাংকিং সেক্টরে। অন্যদিকে বারবার টাকা পাঠানোর খরচ কমানোর কথা বললেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

২১ মার্চ মঙ্গলবার ‘মোবাইল ব্যাংকিংয়ে হ-য-ব-র-ল’ শীর্ষক শিরোনামে দৈনিক মানবজমিনে

প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানা নির্দেশনা মাঠ পর্যায়ে কার্যকর করা হচ্ছে না। ফলে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে লেনদেন পরিচালিত হচ্ছে।  এজন্য মূলত দায়ী যত্রতত্রভাবে এজেন্ট নিয়োগ, ভুয়া নিবন্ধিত সিম ব্যবহার, পর্যাপ্ত মনিটরিং না থাকা। এসব অনিয়ম ও ভুলের খেসারত দিতে হচ্ছে গ্রাহককেই। 

অন্যদিকে ১১ই জানুয়ারি মোবাইল ব্যাংকিং নিয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ ধরনের নির্দেশনাকে বিতর্কিত ও গ্রাহকবান্ধব নয় বলে মন্তব্য করেন সংশ্লিষ্টরা। যুক্তি হিসেবে তারা জানান, ব্যাংকের ওই সিদ্ধান্তে নজরদারির মধ্যে পড়ছেন ৪ কোটি মোবাইল ব্যাংকিং গ্রাহক। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় নাখোশ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও।

বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গাইড লাইনে কোথাও সার্ভিস চার্জ নির্ধারণ করে দেয়া হয়নি। গাইড লাইনে ৭-এর ৪ নাম্বারে বলা আছে, সার্ভিস চার্জ নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংক। বর্তমানে সার্ভিস চার্জ সকল ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানের একই অর্থাৎ ১.৮৫ ভাগ যা ১০০ টাকায় ১ দশমিক ৮৫ টাকা বা ১০ হাজার  টাকায় ১৮৫ টাকা। আবার রিটেইলাররা এর থেকেও অতিরিক্ত ২ ভাগ আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ২.৫০ ভাগ বেশি নিচ্ছে। যে হারে সার্ভিস চার্জ আদায়ের নামে অর্থ লুটপাট করা হচ্ছে তা ভবিষ্যতে জাতিকে ভোগাবে ও প্রান্তিক অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দেবে। 

ব্যাংকগুলো বিভিন্ন মোবাইল ফোন অপারেটরের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে এ সেবা দিচ্ছে। ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংক প্রথম এ সেবা চালু করলেও এখন সবচেয়ে এগিয়ে আছে ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিকাশ। মোট লেনদেনের ৫৫ দশমিক ১১ শতাংশ হয় বিকাশের মাধ্যমে। আর ডাচ-বাংলার ৩৮ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং অন্যান্য ব্যাংকের সর্বমোট ৬ দশমিক ৬৩ শতাংশ মার্কেট শেয়ার রয়েছে। বর্তমানে দেশে ১৯টি ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং সেবা দেয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন রয়েছে। তবে এর মধ্যে ১৭টি ব্যাংক এ সেবা চালু করেছে।

প্রিয় সংবাদ/রুবেল/খোরশেদ