(প্রিয়.কম) গত চার নভেম্বর পর্দা উঠেছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) পঞ্চম আসরের। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম পর্বের আটটি ম্যাচ। যদিও সিলেট পর্ব শেষে জয়জয়কার ছিল বিদেশি ক্রিকেটারদের। শীর্ষ পাঁচ রান সংগ্রাহকে তালিকায় বাংলাদেশের কেউ না থাকলেও বোলিংয়ে দাপট দেখিয়েছেন দেশি ক্রিকেটাররা। সিলেট পর্ব শেষে বিপিএলের পঞ্চম আসর ঢাকায় ফিরতেই সেই আক্ষেপ কিছুটা হলেও ঘোচালেন মুমিনুল হক

বিপিএলের চলতি আসরে দেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে প্রথম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন নামের পাশে ‘টেস্ট বিশেষজ্ঞ’ তকমা বসে যাওয়া মুমিনুল। শনিবার 'হোম অব ক্রিকেট' খ্যাত মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে মাত্র ৩৪ বলে তিন ছক্কা ও চার চারে হাফ সেঞ্চুরি করেন মুমিনুল। অবশ্য সেখানেই থামেননি তিনি। দলকে জয়ের বন্দরে ভিড়িয়ে ৪৪ বলে ৬৩ রান করে অপরাজিত থেকেই মাঠ ছাড়েন রাজশাহী কিংসের এই ব্যাটসম্যান।

অথচ এই মুমিনুলকে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বারবারই উপেক্ষা করা হয়েছে। নামের পাশে ‘টেস্ট বিশেষজ্ঞ’ তকমা বসে যাওয়া মুমিনুল সর্বশেষ বাংলাদেশের হয়ে টি-টোয়েন্টি খেলেছিলেন ২০১৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। এরপর ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত এই ফরম্যাটে জাতীয় দলের হয়ে আর খেলা হয়নি তার। গত বিপিএলেও অবশ্য আলো কেড়েছিলেন তিনি। বিপিএলের চতুর্থ আসরে ১৫ ম্যাচে তিন হাফ সেঞ্চুরিতে করেছিলেন ৩৩১ রান। সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় ছিলেন নবম।

বিপিএলের চলতি আসরের শুরুটা অবশ্য সাদামাটাই ছিল মুমিনুলের। নিজেদের প্রথম ম্যাচে এই রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষেই নয় রানে সাজঘরে ফিরেছিলেন তিনি। দ্বিতীয় ম্যাচে সিলেট সিক্সার্সের বিপক্ষে করেছিলেন ২৪ রান। তবে সিলেট পর্ব শেষে বিপিএলের পঞ্চম আসর ঢাকায় ফিরতেই যেন দেখা গেল নতুন মুমিনুলকে। রংপুরের বিপক্ষে দ্বিতীয়বারের দেখায় ব্যাট হাতে ঝড় তুললেন সেই মুমিনুল। 

এদিন লক্ষ্যমাত্রা ছিল মাত্র ১৩৫ রান। শুরুটা তাই দেখে শুনেই করেছিলেন রাজশাহীর দুই ওপেনার লেন্ডল সিমন্স ও মুমিনুল। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে মাশরাফির বলে জীবন পেয়েছিলেন মুমিনুল। তবে এরপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যান সিমন্সকে সঙ্গে নিয়ে রংপুর রাইডার্সের বোলারদের উপর চড়াও হয়ে দৃষ্টিনন্দন সব শট উপহার দিতে থাকেন মুমিনুল।

সিমন্স-মুমিনুল জুটিতেই এবারের আসরের প্রথম জয়ের দেখা পেল রাজশাহী কিংস। ছবি: প্রিয়.কম

চোখ আর মনকে প্রশান্তি দেওয়া মুমিনুলের সব ড্রাইভ ছড়িয়েছে সৌন্দর্যের ছটা, পুল শটে ফুটে উঠেছে শৌর্য, একেকটি লফটেড শট প্রমাণ দিয়েছে সাহসিকতার। শুরুটা অবশ্য রংপুর অধিনায়ক মাশরাফিকে দিয়েই করেছিলেন মুমিনুল। ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে লং অন দিয়ে মাশরাফিকে উড়িয়ে সীমানা ছাড়া করেন তিনি। এরপর নাজমুল ইসলাম অপু, আব্দুর রাজ্জাক, লাসিথ মালিঙ্গা কাউকেই ছাড় দেননি কক্সবাজারের এই ক্রিকেটার। 

আরেক প্রান্তে তাকে যোগ্য সঙ্গই দিচ্ছিলেন ওয়েস্ট ইণ্ডিজের সিমন্স। দু'জনের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে এক পর্যায়ে ১০ উইকেটেই হারের শঙ্কা দেখা দিয়েছিল রংপুরের সামনে। ইনিংসের ১৩তম ওভারেই এই জুটির কল্যাণে ১০০ পেরোয় দল। ওই ওভারেই মালিঙ্গাকে লং অন দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মুমিনুল। এরপর হাফ সেঞ্চুরি করেন সিমন্সও। ৫৩ রানে সিমন্স ফিরে গেলেও দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন মুমিনুল।

এদিন বলের গুনাগুন যাচাই করে খেলেই পুরো ইনিংসটি সাজিয়েছেন মুমিনুল। প্রত্যেকটি শটেই প্রমাণ দিয়েছে সাহসিকতার। যেন এই এক হাফ সেঞ্চুরিতেই মুমিনুল দিয়েছেন অনেক প্রশ্নের জবাব! 

প্রিয় স্পোর্টস/শান্ত মাহমুদ