ছবি সংগৃহীত

যে জনপ্রিয় উদ্ভাবনগুলো হয়েছিলো আকস্মিকভাব (প্রথম পর্ব)

নতুন কিছু আবিষ্কারের জন্য একজন বিজ্ঞানীকে অনেক সাধনা করতে হয়। কিন্তু এমন অনেক আবিষ্কার আছে যা হয়েছে হঠাৎ করে।

সাবেরা খাতুন
লেখক
প্রকাশিত: ১২ জানুয়ারি ২০১৭, ০২:৫৯
আপডেট: ১৬ আগস্ট ২০১৮, ১৫:১৬


ছবি সংগৃহীত

আকস্মিকভাবে উদ্ভাবিত এই স্ন্যাক্সটিই এখন বিশাল বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) বেশীরভাগ উদ্ভাবকই তাদের উদ্ভাবিত পণ্যকে নিখুঁত করার জন্য সপ্তাহ, মাস এমনকি বছরের পর বছর পর্যন্ত আপ্রাণ চেষ্টা করে যান। টমাস আলভা এডিসন আলোর বাল্বের  ফিলামেন্ট তৈরির জন্য টাংস্টেনের আদর্শ মিশ্রণ তৈরি করার জন্য হাজার বার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু কখনো কখনো হঠাৎ করেই কিছু জিনিস উদ্ভাবিত হয়। হ্যাঁ এমন কিছু বিজ্ঞানী, শেফ বা সাধারণ মানুষের কথা এবং তাদের উদ্ভাবনের কথা আমরা জানবো এই ফিচারে।

পটেটো চিপস

হোটেলের শেফ জর্জ ক্রাম রান্নায় চমৎকার দক্ষতা অর্জন করেছিলেন। নিউ ইয়র্কের সারাটোগা স্প্রিং এর কাছেই মুন লেক হাউজ নামক রেস্টুরেন্টের রান্নাঘরেই তিনি রান্না করতেন। তিনি যেকোন ভোজন উপযোগী জিনিস দিয়েই চমৎকার ডিশ তৈরি করতে পারতেন। এই লেক হাউজ সাধারণ গ্রাহকদেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলো, কারণ এখানে তাদের সাথে খুবই আন্তরিক আচরণ করা হত। 

১৮৫৩ সালে একজন বদমেজাজি অতিথি ক্রাম এর ফ্রাইড পটেটো নিয়ে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন যে, এই ফ্রাইড পটেটো অনেক পুরু, অনেক বেশি আর্দ্র এবং অনেক নরম। তিনি এটি নতুন করে তৈরি করে দেয়ার জন্য নির্দেশ দেন। 

ট্রাম এই ঘটনায় সিদ্ধান্ত নেন রাতের ভোজনে নতুন কিছু করবেন। তিনি আলুকে কাগজের মত পাতলা করে কাটেন। তারপর এগুলোকে ভাজেন এবং এতে অনেক লবণ দেন। তিনি ভেবেছিলেন তার অতিথি হয়তো অপছন্দ করবেন এটি। কিন্তু না এর বিপরীত ঘটনা ঘটে! তার অতিথি দ্বিতীয়বার এটি খেতে চান।

নতুন এই স্ন্যাক্সটি ‘সারাটোগা চিপস’ নামে নতুন ইংল্যান্ডে জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং ক্রাম্প নিজস্ব রেস্টুরেন্ট খুলেন। আকস্মিকভাবে উদ্ভাবিত এই স্ন্যাক্সটিই এখন পটেট চিপস নামে বিশাল বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে।

এক্স-রে ইমেজ   

১৮০০ শতকের শেষের দিকে বিকিরণ, বেতার তরঙ্গ এবং প্রকৃতির অদৃশ্য শক্তির মত অনেক গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হয়। এই সময়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ গবেষকও প্রেত গবেষণায় যোগ দেন এবং ভূতে বিশ্বাস করে। বিজ্ঞান অনেক রহস্যময় ঘটনার সমাধান দিয়েছে।

জার্মান পদার্থবিদ উইলিয়াম রন্টজেন এরকমই একটি অদৃশ্য শক্তিকে আবিষ্কার করতে পেরেছিলেন। রন্টজেন ক্যাথোড রশ্মির টিউব নিয়ে গবেষণা করছিলেন। এটি মূলত একটি কাঁচের টিউব যার মধ্যদিয়ে বায়ু শোষিত হতে পারতো এবং এতে বিশেষ গ্যাস দিয়ে ভরা হয়। এরা আধুনিক কালের প্রতিপ্রভ আলোর বাল্বের ন্যায় কাজ করে। রন্টজেন যখন এই গ্যাসের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করেন তখন টিউবটি উজ্জ্বল হয়ে উঠে। কিন্তু টিউবটির চারপাশ কালো পিচবোর্ড দিয়ে ঢেকে দেয়ার পরে অদ্ভুত জিনিস ঘটে। তিনি যখন মেশিন চালু করেন তখন এর থেকে কয়েকফুট দূরে রাখা একটি রাসায়নিক ও উজ্জ্বল হয়ে উঠে। পিচবোর্ডটিতো আলোকে প্রতিরোধ করার কথা! তাহলে দূরের জিনিস ও উজ্জ্বল হয়ে উঠলো কী কারণে।

তিনি এ বিষয়ে খুব সামান্যই জানতেন যে ক্যাথোড রশ্মির নল দৃশ্যমান আলোর চেয়ে বেশি আলো  পাঠানোর ক্ষমতা রাখে। এই অদৃশ্য রশ্মি কাগজ, কাঠ, এমন কি ত্বক ভেদ করেও যেতে পারে। এই রশ্মির প্রতি তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলো যে রাসায়নিকটি সেটিকে ল্যাব থেকে সরিয়ে দেন রন্টজেন। তিনি এই ঘটনাটির নাম দেন এক্স-রে, এখানে এক্স অর্থ অজানা।

প্রথম এক্স-রে। ছবি সংগৃহীত  

রন্টজেন প্রথম এক্স-রে ইমেজ নেয়ার জন্য প্রস্তুত হন। তিনি তার স্ত্রীর হাতের ছবি নেন। রন্টজেনের স্ত্রী তার হাতের কঙ্কালের ছবি দেখার পরে বলেন, ‘আমি আমার মৃত্যু দেখেছি’।

সূত্রসি এস মনিটর           

সম্পাদনা: কে এন দেয়া

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
স্পন্সরড কনটেন্ট
বিশ্বের শীর্ষ ২০ উদ্ভাবনী শহর
বিশ্বের শীর্ষ ২০ উদ্ভাবনী শহর
বাংলা ট্রিবিউন - ৫ দিন, ২২ ঘণ্টা আগে
রফতানি বাড়াতে আরও উদ্ভাবনী হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
রফতানি বাড়াতে আরও উদ্ভাবনী হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
বাংলা ট্রিবিউন - ২ সপ্তাহ, ৩ দিন আগে
সেরা উদ্ভাবনী পুরস্কার প্রদান
সেরা উদ্ভাবনী পুরস্কার প্রদান
সময় টিভি - ১ মাস, ৩ সপ্তাহ আগে