শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে সেঞ্চুরির পর মুমিনুল হক। ছবি: প্রিয়.কম

সব অভিমান ঝরল সেঞ্চুরি উদযাপনে!

মুমিনুলের করা সেঞ্চুরি শুধু তিন অঙ্কের রান নয়, সব অভিমান আর ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। অভিমানটা হয়তো সাবেক কোচ চান্দিকা হাতুরুসিংহের ওপরই। যিনি এখন লঙ্কান কোচ।

সামিউল ইসলাম শোভন
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩১ জানুয়ারি ২০১৮, ১৫:১২ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ২৩:৩২
প্রকাশিত: ৩১ জানুয়ারি ২০১৮, ১৫:১২ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ২৩:৩২


শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে সেঞ্চুরির পর মুমিনুল হক। ছবি: প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম, চট্টগ্রাম থেকে) ব্যাটটা হাতে লাফ দিতে গিয়ে মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে আরেকটু হলেই ধাক্কা খাচ্ছিলেন। সেদিকে খেয়াল নেই মুমিনুল হকের। শ্রীলঙ্কার ড্রেসিংরুমের দিকে আগ্রাসী চোখে তাকালেন, তারপর এগিয়ে গেলেন বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমের দিকে। ব্যাটটা তুলে সেঞ্চুরি উদযাপন করলেন। শান্ত-নম্র মুমিনুল যেন সব অভিমান ঝেরে ফেললেন সাগরিকার উইকেটে!

৯৬ বলে সেঞ্চুরির পর এমনই অচেনা রূপে পাওয়া গেল মুমিনুলকে। বুধবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে এক কথায় ঝড় তুলেছেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। এটা বাংলাদেশের পক্ষে দ্বিতীয় দ্রুততম টেস্ট সেঞ্চুরি। প্রথমটি ছিল তামিম ইকবালের ব্যাটে, ২০১০ সালে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ৯৪ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন বাংলাদেশের এই ড্যাশিং ওপেনার।

বুধবারেরটি মুমিনুলের ক্যারিয়ারে পঞ্চম টেস্ট সেঞ্চুরি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয়। ২০১৪ সালে একই ভেন্যুতে সেঞ্চুরি করেন তিনি। ছিলেন ১০০ রানে অপরাজিত। একই বছরে এই জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্টে ১৩১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। এর পর টানা তিন বছর পার করে আবারও টেস্ট সেঞ্চুরির স্বাদ নিলেন এই ক্রিকেটার।

সেঞ্চুরি ছাড়াও ১২টি হাফ সেঞ্চুরি রয়েছে মমিনুলের। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চলতি ম্যাচ যোগ করলে ক্যারিয়ারের ২৫তম টেস্ট খেলছেন তিনি।  

মুমিনুলের করা সেঞ্চুরি শুধু তিন অঙ্কের রান নয়, সকল অভিমান আর ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। অভিমানটা হয়তো সাবেক কোচ চান্দিকা হাতুরুসিংহের ওপরই, যিনি এখন লঙ্কান কোচ।

দেশের অন্যতম সেরা ও ধারাবাহিক ব্যাটসম্যান হয়েও জাতীয় দলে অবহেলিত হয়েছেন বারবার। স্পিন বলে দুর্বলতা, ফুটওয়ার্কে সমস্যা; আরও শত দায় দিয়ে রঙিন পোশাকে খেলার দরজাটা গেল দুই বছর ধরে বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। টেস্টে বারবার তাকে উপেক্ষা করেছেন কোচ। এমনকি ঘরের মাঠে যখন দুই টেস্টের সিরিজে অস্ট্রেলিয়া প্রতিপক্ষ, তখনও শুরুতে দলে রাখা হয়নি তাকে।

প্রধান নির্বাচক চাপে পড়ে স্বীকার করতে বাধ্য হন, মুমিনুলকে দল থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত হাতুরুসিংহের। গণমাধ্যমের তোপের মুখে শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে দলে নেওয়া হয় তাকে। তার পরও প্রথম ম্যাচের মূল একাদশে জায়গা হয়নি তার। ফিরেছিলেন চট্টগ্রামে।

অস্ট্রেলিয়ার পর শ্রীলঙ্কাতেও ড্রেসিংরুমে সময় কেটেছে মমিনুলের। দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের একটিতে একাদশে রাখা হয় তাকে। কিন্তু বাংলাদেশের শততম টেস্টে আবারও অপছন্দের তালিকায় চলে যান মুমিনুল। অথচ কোচ ছাড়া দলের জ্যেষ্ঠ ক্রিকেটার, নির্বাচক এমনকি টিম ম্যানেজমেন্ট বারবার মুমিনুলের প্রয়োজনীয়তা টের পেয়েছে। কিন্তু মন গলেনি হাতুরুসিংহের।

হাতুরুসিংহেকে ছাড়া যেমন এটাই বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট, হাতুরুসিংহের ক্ষেত্রেও তাই। সুযোগটা কাজে লাগালেন মুমিনুল। হাতুরুর ছাত্রদের পাড়ার বোলার বানিয়ে  দিলেন কড়া জবাব।

প্রিয় স্পোর্টস/আই

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...