৭০ হাজার ডলারের বেতন ছেড়ে দেশে আসেন তিনি

তবে দেশ ও বাবা-মায়ের টানে ১৯৯৩ সালের আগস্ট মাসে ফিরে আসেন। কাজ শুরু করেন বাবার কোম্পানিতে

রাকিবুল হাসান
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৪ মার্চ ২০১৮, সময় - ২১:৩৮

মোস্তফা রফিকুল ইসলাম। ছবি: প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) ঘটনাটি ১৯৯৩ সালের। সেই সময়ে তিনি দেশের বাইরে থাকতেন। যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষে মাসিক বেতন পেতেন ৭০ হাজার ডলার। তবে দেশ ও বাবা-মায়ের টানে ১৯৯৩ সালের আগস্ট মাসে ফিরে আসেন। কাজ শুরু করেন বাবার কোম্পানিতে। ৭০ হাজার টাকা বেতনে কোম্পানিতে শুরু করেন কাজ। এ নিয়ে তার নেই কোনো আক্ষেপ। দেশের বাইরে চাকরি করার চেয়ে নিজের দেশে ব্যবসা করার সিদ্ধান্তকে সবচেয়ে সঠিক বলে মনে করেন এই উদ্যোক্তা।

কথা হচ্ছিল বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ফ্লোরা টেলিকম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা রফিকুল ইসলামের সঙ্গে। দেশের টানে বিদেশের মাটি ছেড়ে স্বপ্নের খোঁজে দেশে এসে এই উদ্যোক্তা এখন স্বপ্ন দেখেন দেশের সফটওয়্যার কোম্পানিগুলোকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার। এ জন্য এবারের বেসিস নির্বাহী কমিটির নির্বাচনে একটি টিমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি।

সাক্ষাৎকারের প্রথমেই তার কাছে জানতে চাওয়া হয় তার বেড়ে ওঠার গল্প 

ছোটবেলাতে জানতাম না কম্পিউটার কী, ভাবিও নাই কম্পিউটার সায়েন্সে পড়াশুনা করব। তবে ছোটবেলা থেকেই আমি পড়াশোনায় ভালো ছিলাম। গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোর্শেদ আমার সহপাঠী ছিল। ওর সঙ্গে আমার কম্পিটিশন (প্রতিযোগিতা) ছিল, এখন ও আমার বেস্ট ফ্রেন্ড। দুইজন মিলে খেলাধুলার পাশাপাশি পড়াশোনাও করতাম। একসাথেই মেট্রিক দিলাম। মেট্রিক দেওয়ার পর যা হয়, তিন মাস বন্ধ। দুই বন্ধু দুষ্টুমি করতাম। সেই সময়ে বাবা একটি ক্লাসে ঢুকিয়ে দিলেন কম্পিউটারের বেসিক ল্যাঙ্গুয়েজ শেখার জন্য। এক মাসের কোর্স ছিল। যথারীতি পরীক্ষা হলো, সেই সময়ে সেখানে একজন ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন, যিনি আমার সঙ্গে পরীক্ষা দিয়েছিলেন। তিনি পেলেন একশ’তে ১০০ আর আমি ৯৯। সেই থেকে প্রোগ্রামিংয়ে ভালো লাগা শুরু। 

এরপর ঢাকা কলেজে ভর্তি হলাম। সেখানে ইন্টারমেডিয়েট দিয়েই রেজাল্টের জন্য অপেক্ষা করি নাই। এর পর আমেরিকাতে কম্পিউটার সায়েন্সে পড়াশোনা শুরু করলাম। এইভাবে আমার যাত্রা শুরু। 

দেশে আসলেন কেন?

দেশে আসার সিদ্ধান্তটি আমার নেওয়া সবচেয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত। আমি যখন দেশে আসি তখন আমাদের আইসিটি খাতে অনেক বাধা ছিল। দেশে প্রোগ্রামার ছিল না। আমরা যখন কাজ শুরু করি, তখন দেখি আমাদের দেশে এই বিষয়ক তেমন কোনো পড়াশুনা নাই। ডিগ্রি নাই। তবে আমরা ছেলে-মেয়েদের ট্রেনিং দিয়ে শুরু করি সফটওয়্যার খাতে আমাদের পদার্পণ।

বেসিসের পেছনে আপনার ভূমিকা  

আমাদের প্রতিষ্ঠান ফ্লোরা বেসিসের ফাউন্ডিং মেম্বার। সেই সময়ে সফটওয়্যারের কোনো অ্যাসোসিয়েশন ছিল না। বিসিএস সেই সময়ে অ্যাক্টিভ ছিল। কিন্তু তাদের কাজ ছিল শুধুমাত্র হার্ডওয়্যার নিয়ে। একটি সফটওয়্যার অ্যাসোসিয়েশন ক্রিয়েট করা মূলত করিম ভাইয়ের বুদ্ধি ছিল। বেসিসের যাত্রা শুরু হয়। এর পর সরকারের কাছ থেকে আমরা সবাই মিলে বেসিসের জন্য ভবন নেই। আমি দ্বিতীয় ইসি কমিটিতে ছিলাম ট্রেজারার হিসেবে কামাল ভাইয়ের আন্ডারে, তৃতীয় ইসি কমিটিতে ছিলাম সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে। প্রথম সফট এক্সপোর কনভেনার আমি ছিলাম। এ ছাড়া বেসিসের সফটএক্সপোর পেছনে আমার ভূমিকা ছিল। বেসিসের লোগো থেকে শুরু করে সফটএক্সপোর লোগোর পেছনেও আমার ভূমিকা রয়েছে।

বেসিস নির্বাচনে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্য

বেসিসের অনেক সদস্যকে আমি প্রায়ই হতাশ দেখতে পাই। আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলি, আমার কোম্পানি ২০০৮ সাল পর্যন্ত লোকসানে ছিল। সেই সময়ে আমাকে ভাবতে হতো- কীভাবে কোম্পানিতে থাকা সহযোদ্ধাদের বেতন দেব? সেই সময়ে আমি বুঝেছিলাম টাকা থাকলে অনেক কিছুই করা সম্ভব। যখন কেউ দাঁড়ানোর চেষ্টা করে তার এই সাপোর্টটি প্রয়োজন। খুবই প্রয়োজন। এখন আমার মনে হয় টাকা পাওয়াটা অনেক কঠিন। দেশে এখন অনেক টাকা রয়েছে। তবে পলিসিগুলো এমনভাবে করা, যার ফলে টাকা পেতে পেতে অনেকে খেই হারিয়ে ফেলেন। বেসিস নির্বাচনে দাঁড়ানোর উদ্দেশ্য যারা আইসিটিতে দাঁড়াতে চায়, তাদের দাঁড়াতে সাহায্য করা। আমাদের পলিসিগত সমস্যাগুলোকে সহজ করা। মোটা দাগে যদি বলি সেটি হচ্ছে, খুব স্বল্প সময়ে, স্বল্প শর্তে বা জিরো শর্তে নতুনদের অর্থায়নের ব্যবস্থা করে দেওয়া।

সফটওয়্যার খাতে যেসব সমস্যা

আমি মনে করি, তিনটি সমস্যা রয়েছে। এক. ফান্ডিং, দুই. লোকাল ইন্ডাস্ট্রিকে প্রোটেক্ট করা আর সবশেষে পলিসিগত সমস্যা। আমাদের দেশে অনেক সফটওয়্যার তৈরি হয়ে গেছে, যা আন্তর্জাতিক অন্যান্য সফটওয়্যার থেকে এগিয়ে। তবে এই সফটওয়্যার রেখে বাইরে থেকে সফটওয়্যার নিয়ে আসা হচ্ছে। এতে আমাদের দেশীয় সফটওয়্যারগুলো হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। এ ছাড়া আমাদের ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে জড়িত সরকারের অনেক কঠিন পলিসি রয়েছে। এটি একটি বড় সমস্যা। আমার কাজ হবে এই সমস্যাগুলোর সমাধানের চেষ্টা করা।

দুই বছরের মধ্যে এসব করা সম্ভব?

আমার মূল লক্ষ্য একটিই। এই সময়ের মধ্যে আমি অবশ্যই নতুনদের অর্থায়নের বিষয়টি সফল করতে চাই। এটি করতে পারলেই আমি খুশি। আমি আশাবাদী যে, আমি এই কাজটি ২০১৯ সালের মধ্যেই করতে পারব। আমি এটির প্রচলন শুরু করতে চাই। আমি জিতি বা না জিতি, আমি চাই এই বিষয়টি সবার মনে গেঁথে যাক।

টিমের বিষয়ে 

আমাকে অনেকে জিজ্ঞেস করেছে, আমি এত পরে টিম ঘোষণা দিলাম কেন? আমার কনফিডেন্স (আত্মবিশ্বাস) রয়েছে, আমি এখানে এসেছি হারার ভয় নয়, জেতার জন্য। গতবার আমি ইলেকশনে দাঁড়িয়েছিলাম, হেরেছি। সেই সময়ে আমি কেন হেরেছি, সেই বিষয়টি আমি বিশ্লেষণ করেছি। তখনই আমি আমার খুঁতটি ধরতে পেরেছিলাম। তখন থেকেই আমি আবার নির্বাচনে দাঁড়ানোর জন্য নিজেকে তৈরি করেছি। এর ফল হিসেবে আমি তরুণদের নিয়ে আমার টিম গঠন করেছি। যারা ইনোভেটিভ কিছু করেছে, তাদেরকে নিয়ে আমার এই পথচলা। আমার মতে আমরাও তো একসময় ছোট ছিলাম। কিন্তু সুযোগ পেয়েছিলাম। এ থেকেই তো আমরা এত দূর এসেছি। আমি যেমন এই সুযোগ পেয়েছি, তেমনি আমার প্যানেলের সদস্যদেরকেও এই সুযোগ দেওয়া আমার অধিকার। একটিই কথা, যদি পরাজিত হই, পুরো দায়িত্বটি আমার। যদি জিতি, পুরো কৃতিত্ব আমার প্যানেলের সদস্যদের।

‘টিম বিজয়’ নামকরণের কারণ

আমরা কথা বলতে বলতেই এই নামটি সিলেক্ট করি। এই নামটির মানে হিসেবে আমরা বুঝি- আমাদের বিজয় হবে বেসিস সদস্যদের বিজয় এবং বাংলাদেশের বিজয় হবে। এটি আমাদের এগিয়ে যাওয়ার সাহস দেয়।

প্রিয় টেক/শান্ত 

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


দাবি নিয়ে অর্থমন্ত্রীর দপ্তরে বেসিস
দাবি নিয়ে অর্থমন্ত্রীর দপ্তরে বেসিস
বিডি নিউজ ২৪ - ৭ ঘণ্টা আগে
পুনরায় ইইএফ চালু চায় বেসিস
পুনরায় ইইএফ চালু চায় বেসিস
প্রথম আলো - ২ সপ্তাহ, ২ দিন আগে
জাপান আইটি উইকে বেসিস
জাপান আইটি উইকে বেসিস
বণিক বার্তা - ১ মাস, ১ week আগে
আরো পড়ুন
জনপ্রিয়