(প্রিয়.কম) মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নৃশংস হত্যা-ধর্ষণ-নির্যাতনের থেকে বাঁচতে রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা যাতে আর নিজ বাড়িঘরে ফিরতে না পারে, সে জন্য দেশটির সেনাবাহিনী মিয়ানমার সীমান্তবর্তী অঞ্চলজুড়ে স্থলমাইন পুঁতে রাখছে বলে খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

রয়টার্সের খবরে বলা হচ্ছে, গত তিনদিন ধরে বাংলাদেশের সাথে সীমান্তের একাংশ জুড়ে ভূমি মাইন পেতে রাখছে মিয়ানমার, যাতে করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা আর ফিরতে না পারে।

বার্তা সংস্থাটির সূত্র জানায়, আমাদের সদস্যরা তিন থেকে চারটি গ্রুপকে সীমান্তে কাঁটাতার বরাবর মাটিতে কিছু পুঁততে দেখে। পরে আমরা নিজস্ব মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছি যে, তারা (মিয়ানমার) সেখানে স্থলমাইন পুঁতছে। এ কাজ তো ‘রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা’ও করতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে সূত্রটি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত যে, তারা রোহিঙ্গা বিদ্রোহী না।’

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের কর্মকর্তা মঞ্জুরুল হাসান খান রয়টার্স-কে বলেন, মঙ্গলবারও তিনি মিয়ানমার সীমান্তে দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। এর আগে সোমবারও এ ধরনের দুটি বিস্ফোরণ হয়েছে।

মঙ্গলবারের বিস্ফোরণে একটি বাচ্চার বাম পা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে চিকিৎসা নিতে আসে। তার সঙ্গে আসার আরেকটি বাচ্চারও সামান্য আঘাত ছিল বলে জানান বিজিবি কর্মকর্তা। এছাড়া সোমবার মাইন বিষ্ফোরণে আরো এক নারী তার একটি পা হারান।

সোমবারের বিস্ফোরণের আহত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বরাত দিয়ে তিনি আরও বলেন, সীমান্তে নো-ম্যানস ল্যান্ডে চলাচলের কাদাপানির মধ্যে স্থলমাইল পুঁতে রাখা ছিল।  

এদিকে, খবরে বাংলাদেশের অন্তত দুজন সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সীমান্তের কাছে মাইন পাতার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানাবে বাংলাদেশ। 

প্রিয় সংবাদ/শান্ত