নাফাখুম ঝর্ণা। ছবিঃ সংগৃহীত

নাফাখুম ট্রিপ প্ল্যান

চাইলে আপনিও ঘুরে আসতে পারেন নাফাখুম এই ট্রিপ প্ল্যান অনুসারে।

ড. জিনিয়া রহমান
লেখক
প্রকাশিত: ১০ জুলাই ২০১৭, ১৩:২৭ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ০৮:০০
প্রকাশিত: ১০ জুলাই ২০১৭, ১৩:২৭ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ০৮:০০


নাফাখুম ঝর্ণা। ছবিঃ সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) নাফাখুম, বাংলাদেশের এক অনিন্দ্য সুন্দর ঝর্ণার নাম। এই ঝর্ণা, বা ঝর্ণায় পৌঁছাবার পথটুকু এত সুন্দর যে আপনি বিশ্বাসই করতে চাইবেন না যে এত সুন্দর কোন জায়গা আমাদের এই বাংলাদেশে আছে। কিন্তু এই ঝর্ণা সহজগম্য নয়। এটি বান্দরবান জেলার থানছি উপজেলার রেমাক্রিতে অবস্থিত। রেমাক্রি থেকেও প্রায় ৩ ঘণ্টার পাহাড়ি আঁকা-বাঁকা, ঝিরি পথ ধরে যেতে হবে আপনাকে। এইটুকু পড়েই দমে গেলেন তো? ভাবছেন আপনার পক্ষে এত কষ্ট করে কোনোভাবেই সম্ভব না নাফাখুম পর্যন্ত যাওয়া? আপনি হয়তো ভাবছেন, এত মোটা শরীর নিয়ে কিভাবে হাঁটব পাহাড়ি রাস্তায়, হয়তো ভাবছেন এত বয়সে এই শরীরে এত অ্যাডভেঞ্চার পোষাবে কিনা!!! আপনি হয়তো নিজেকে আনফিট ভাবছেন নাফাখুম যাওয়ার জন্য!!! আপনার জন্যে এমন একটি নাফাখুম ট্যুর প্ল্যান প্রয়োজন যাতে আপনি একটু আত্মবিশ্বাসী হলেই যেতে পারবেন নাফাখুম। যেভাবে আপনি যেতে পারবেন নাফাখুম -

প্রথম দিনঃ সকালে বাসে করে রওনা হয়ে যান বান্দরবান। সন্ধ্যায় পৌঁছে বান্দরবান শহরটা একটু ঘুরে আরাম করুন হোটেলে। 

দ্বিতীয় দিনঃ সকালে একটা ভাড়া করা জীপে চলে যান থানছি। সেখানে দুপুরের খাবারটা খেয়ে নৌকা করে রেমাক্রি রওনা হবেন। পথে উপভোগ করতে পারবেন সাঙ্গু নদীর সৌন্দর্য, রাজা পাথর এলাকা। বিকেল নাগাদ পৌঁছে যাবেন রেমাক্রি। অনেক রেস্ট নিন রেমাক্রিতে কারণ পরদিনই কিন্তু আসল অ্যাডভেঞ্চারের দিন। 

তৃতীয় দিনঃ বেশ সকালেই রওনা হয়ে যান নাফাখুমের পথে। সাধারণত আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা লাগে রেমাক্রি বাজার থেকে নাফাখুম পৌঁছাতে। আপনি না হয় সময় একটু বেশিই নিন। ধীরে সুস্থে, যেভাবে আপনি আরাম বোধ করবেন সেভাবেই এগিয়ে যেতে থাকেন। ক্লান্ত লাগলে কোথাও বসুন ৫ টা মিনিট। প্রকৃতির অকৃত্রিম সৌন্দর্য উপভোগ করুন, ছবি তুলুন। সাথে কিছু হালকা খাবার, পানি নিবেন। যখন মনে করবেন কষ্ট হচ্ছে তখন একটা খেজুর, বা একটা ক্যান্ডি বা মাংগো বার কিছু একটা খেয়ে নিন। সাথে স্যালাইন রাখতে পারেন। কিছুক্ষণ পর পর অল্প করে স্যালাইন খাবেন যা আপনাকে অনেক সতেজ রাখবে।এভাবেই এক সময় পৌঁছে যাবেন নাফাখুম। প্রাণ ভরে উপভোগ করুন নাফাখুমের সৌন্দর্য। নিজেকে বিলিন করে দিন ঝর্ণায় অবগাহন করে।আপনি যদি দুপুর ১২ টার মধ্যে নাফাখুমে পৌঁছাতে পারেন তাহলে প্রায় ২ ঘণ্টা সময় পাবেন সেখানে কাটানোর জন্য। যথেষ্ট রেস্ট নিন, ঝর্ণার স্বচ্ছ সবুজ জলে সাঁতার কাটুন ইচ্ছেমতন। যা আপনার ভ্রমণের অানন্দকে বাড়িয়ে দেবে বহুগুন! কিছু একটা খান, দেখবেন পথের সব ক্লান্তি দূর হয়ে গেছে। ফিরতি পথেও একই ভাবে ফিরুন আপনার নিজস্ব গতিতে। কে কত সামনে এগিয়ে আছে তা আপনার দেখার বিষয় না, আপনি আপনার মত করে এগিয়ে যান। পথের দিকে খেয়াল রাখুন। পথ ডিঙোতে অসুবিধা হলে অন্য কারো সাহায্য নিন। আশা করা যায় সন্ধ্যা নামার আগেই আপনি পৌঁছে যাবেন রেমাক্রি বাজার।

চতুর্থ দিনঃ সকালে রেমাক্রি থেকে নৌকা করে রওনা হন থানছি বাজারের উদ্দেশ্যে। থানছি থেকে জীপে করে বিকেলের মধ্যে চলে যান বান্দরবান। রাতের বাসে ফিরে যান ঢাকায়। বিশ্রাম করতে চাইলে রাতটা বান্দরবান শহরে কাটিয়ে পরদিন সকালে ঢাকার বাস ধরুন।  

গুগল ম্যাপে থানছি।

নাফাখুম যেতে হলে থানছি থেকে গাইড নিতে হবে। আপনার ভ্রমণকে সহজ এবং উপভোগ্য করার জন্য গাইড সবরকমের সহযোগিতা করবে। সাঁতার না জানলে অবশ্যই লাইফ জ্যাকেট সাথে রাখুন। আর এই ট্রিপে সবচেয়ে জরুরি যে জিনিসটা তা হলো পাহাড়ি পথে চলার জন্য এক জোড়া ভালো গ্রিপওয়ালা জুতা। চোখ রাখুন প্রিয়র ভ্রমণ পাতায়। পরবর্তীতে এই জুতা নিয়ে বিশদ লিখব। 

আমরা সবাই চাই প্রিয়জনকে সাথে নিয়ে, পুরো পরিবারকে সাথে নিয়ে ভ্রমণে যেতে যাতে আনন্দটা সবার সাথে ভাগ করে নেওয়া যায়। পরিবারের সবাই হয়তো সব রকম অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরের জন্য নিজেদের উপযোগী মনে করেন না। কিন্তু এই প্ল্যানে আপনি পারবেন আপনার বাবা-মা কে সাথে নিয়ে বা অন্তত আপনার মোটকু ভাইটিকে নিয়ে নাফাখুম উপভোগ করতে।

সম্পাদনাঃ ড. জিনিয়া রহমান।

আপনাদের মতামত জানাতে ই-মেইল করতে পারেন [email protected] এই ঠিকানায়। 

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...