আউটসোর্সিংয়ে বাংলাদেশের সাফল্যের অজানা অধ্যায়

আইসি ডিজাইন করা, সে ডিজাইনের সিম্যুলেশন, টাইমিং অ্যানালাইসিস করে আশানুরূপ ফলাফল নিয়ে আসার মতো কঠিন কঠিন কাজগুলো এখন অন্যান্য দেশের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে করছে বাংলাদেশ।

মোঃ ইসমাইল হোসেন
Business Development Manager
১৪ মার্চ ২০১৮, সময় - ১৯:৩৬

আইসি ডিজাইন, সিম্যুলেশন, টাইমিং অ্যানালাইসিসের মতো কঠিন কাজগুলোতে এশিয়ায় প্রথম দিকে বাংলাদেশ। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম)  আউটসোর্সিং ও ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে অনেকটা জোরেশোরেই এগোচ্ছে বাংলাদেশ। অনেকেই এই খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের অবস্থান প্রতিনিয়তই পোক্ত করছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও নেওয়া হচ্ছে প্রচার ও প্রসারের নানা উদ্যোগ। 

আউটসোর্সিং বলতে আমরা অনেকেই সাধারণত ওয়েব ডিজাইন, গ্রাফিক্স ডিজাইন, কন্টেন্ট রাইটিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, সফটওয়্যার বানানো, অ্যাপ্লিকেশন ডিজাইনের বিষয়টাই বুঝে থাকি। এ ধরনের কাজগুলো করার জন্য প্রয়োজন কম্পিউটার, ট্যাব, ল্যাপটপ অথবা মোবাইল।

কিন্তু, আমরা কি জানি, এই ডিভাইসগুলোর ভেতরে যে সূক্ষ্ম চিপগুলো থাকে, তার অনেক ডিজাইনই এই বাংলাদেশেই করা হয়। তাই বাংলাদেশ থেকেই এ ডিজাইনগুলো আউটসোর্স করা হয়ে থাকে, তা হয়তো অনেকেরই অজানা। 

বাংলাদেশের আউটসোর্সিং খাতে ন্যানো-আইসি ডিজাইনের সম্ভাবনা 

হাই-টেক কাজ বলতে আসলে যা বোঝায়, তার প্রতিটা অংশেই বাংলাদেশের পদার্পণ রয়েছে। আইসি ডিজাইন করা, সে ডিজাইনের সিম্যুলেশন, টাইমিং অ্যানালাইসিস করে আশানুরূপ ফলাফল নিয়ে আসার মতো কঠিন কঠিন কাজগুলো এখন অন্যান্য দেশের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে করছে বাংলাদেশ। এমনকি এই  পাল্লা দেওয়ার প্রতিযোগিতায় এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের নাম শুরুর দিকে। মোটামুটি একটি চিপের স্পেসিফিকেশন থেকে শুরু করে ডিজাইন, ভেরিফিকেশন ও ম্যানুফ্যাকচারের আগ পর্যন্ত যা কিছু করা দরকার, তার সবই করা সম্ভব। ম্যানুফ্যাকচার যেহেতু খুবই ব্যয়বহুল একটা কাজ, তাই আপাতত এটি অনেক দেশেই নাই।

মাইক্রো ও ন্যানো লেভেলে সূক্ষ্ম চিপ ডিজাইন নিয়ে বাংলাদেশ প্রায় ১০ বছর ধরে অনেকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শুধু তাই না, সিলিকন ভ্যালির প্রথম সারির অনেক চিপ ম্যানুফ্যাকচারার বাংলাদেশের ইঞ্জিনিয়ারদের কাজে অনেক সন্তুষ্টও বটে। একটু অবাক হলেও সত্যি, বাংলাদেশে আইসি ডিজাইনের কাজের সফলতা দিনে দিনে বেড়েই চলছে।

সারা বিশ্বে সে কোম্পানিগুলোই টিকে আছে ও থাকবে যারা ৩০ ন্যানোমিটানের পরের টেকনোলজিতে কাজ করার যোগ্যতা রাখে। কারণ দিনে-দিনে চিপ আরও ছোট হচ্ছে। কিন্তু পারফরম্যান্স কিন্তু বেড়েই চলছে। তাই এত ছোট জায়গায় একটা ডিভাইসে এত ফাংশনালিটি পুশ করা কিন্তু সত্যিকার অর্থে বেশ কঠিন। তাই এ ধরনের বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকাটা জরুরি। নিঃসন্দেহে আমাদের দেশের কোম্পানিগুলোর সে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা রয়েছে।

কাদের জন্য এ শিল্প?


১. যারা আইসি ডিজাইন ভালোবাসেন ও ভালো মানের আইসি ডিজাইনার হতে চান

২. যারা দেশের বাইরে এ বিষয়ে পড়াশুনা করতে চান

৩. যারা এ শিল্পে ক্যারিয়ার গড়তে চান

খুব সহজেই বোঝা যাচ্ছে, এ শিল্পে কাজ করতে হলে আইসি ডিজাইন সম্পর্কিত বিষয় জানা থাকতে হবে। 

সারা বিশ্বে নতুন একটা প্রযুক্তি আসার সঙ্গে সঙ্গে তা নিয়ে কাজ শুরু হয়ে যায়। পাল্লা দিয়ে কাজ করতে হলে যে ব্যাপারগুলো জানতে হবে, সেগুলো খুব ভালোভাবে রপ্ত না করলে নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে যেমন পাল্লা দিয়ে চলা যায় না, তেমনি বিশ্ব বাজারের প্রতিযোগিতায়ও টিকে থাকা সম্ভব হয় না। 

ন্যানোচিপ ডিজাইন। ছবি: সংগৃহীত

যে বিষয়গুলো অবশ্যই জানতে হবে ও পড়তে হবে: 

ইলেক্ট্রনিক্স, ইলেক্ট্রিক্যাল সার্কিট, ডিজিটাল লজিক ডিজাইন, এনালগ আইসি ডিজাইন, ডিজিটাল আইসি ডিজাইন, সার্কিট পাওয়ার অ্যানালাইসিস ও এগুলোর পাশাপাশি যে জিনিসটা না জানলেই নয়, তা হলো ভালো প্রোগ্রামিং দক্ষতা।  আইসি ডিজাইনের অনেক কিছুই স্ক্রিপ্টিং করে করতে হয়। তাই অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং যত ভালো জানা থাকে, ততই ভালো।

আইসি ডিজাইন শিল্পে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান

১০ বছরের বেশি সময় ধরে কাজ করার পর এ শিল্পে সফলতা এসেছে।  হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে গেলে গ্রাহকের সঙ্গে অনেক ধরনের চুক্তি করে নিতে হয়। কারণ বিষয়গুলো অতিমাত্রায় স্পর্শকাতর।

বাংলাদেশের প্রকৌশলীরা দেশ ও দেশের বাইরে তাদের যোগ্যতা অনেক আগেই প্রমাণ করে দিয়েছেন। দরকার শুধু সৎ সাহস আর লেগে থাকার মতো আগ্রহ। যদি এভাবে চলতে থাকে ও সঙ্গে যদি আরও ভালো বিনিয়োগ আসে, তাহলে  আইসি ডিজাইন শিল্প পোশাকশিল্পকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।  

প্রিয় প্রযুক্তি/ তাশফিন ত্রপা/আজহার 

 

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


স্পন্সরড কনটেন্ট
বিশ্বকাপের নতুন প্রযুক্তি ভিএআর আসলে কী?
বিশ্বকাপের নতুন প্রযুক্তি ভিএআর আসলে কী?
বাংলা ট্রিবিউন - ১১ ঘণ্টা আগে
প্রযুক্তি কি আসক্তি?
প্রযুক্তি কি আসক্তি?
প্রথম আলো - ২০ ঘণ্টা আগে
জনপ্রিয়
আরো পড়ুন