(প্রিয়.কম) নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলার রায় আজ। এর আগে ১৬ আগস্ট বুধবার আলোচিত এ মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শেষে বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই দিন নির্ধারণ করেন।

১৩ আগস্ট রোববার রায়ে জানা যাবে এ মামলায় বিচারিক আদালতে দণ্ডিত আসামিদের সাজা হাইকোর্টে বহাল থাকবে কি না।

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন ও গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম এবং আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহীম অপহৃত হন। পরে ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয়জনের ও ১ মে একজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। 

ওই ঘটনায় প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি বাদী হয়ে একটি এবং সিনিয়র আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার গাড়ির চালক ইব্রাহিম হত্যার ঘটনায় জামাতা বিজয় কুমার পাল বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় দু’টি মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ৮ এপ্রিল নূর হোসেন, র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। গত ৮ ফেব্রুয়ারি সাত খুনের দুটি মামলায় নূর হোসেন ও র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। 

আসামিদের দেওয়া ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি ও নানা সাক্ষ্য প্রমাণের উপর দীর্ঘ শুনানি শেষে চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি সোমবার সকাল ১০টার দিকে চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায় ঘোষণা করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন।

আলোচিত এ মামলার অন্যতম আসামি নূর হোসেন ও র‌্যাব-১১ এর তৎকালীন অধিনায়ক সাবেক সেনা কর্মকর্তা তারেক সাঈদসহ ২৬ জনের ফাঁসি এবং বাকি নয় আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

এ ঘটনায় দায়ের করা দু’টি মামলাকে একটি হিসেবে গ্রহণ করে রায় দেন আদালত। মাত্র ১৫ মিনিটেই রায় পড়া শেষ করেন বিচারক। সংক্ষিপ্ত রায়ে শুধুমাত্র আসামিদের সাজা ঘোষণা করে পূর্ণাঙ্গ রায়ে বিস্তারিত উল্লেখ থাকবে বলেও জানান তিনি।

রায় প্রদানের পরে ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামি নূর হোসেন ও তারেক সাঈদকে বেশ বিচলিত দেখা যায়। তবে রায় পড়ার পুরো সময় তাদের হাসিখুশি দেখা গেছে।

গত ৭ মে রোববার হাইকোর্টে শুনানির জন্য প্রস্তুত প্রায় ছয় হাজার পৃষ্ঠার পেপারবুক সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছায়। ১৬ মে মঙ্গলবার বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের পক্ষে আগামী সাত দিনের মধ্যে আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ দেন।

প্রিয় সংবাদ/আশরাফ