নেপালে বিমান দুর্ঘটনা: সত্যি হলো প্রেমিকার অভিমানী স্ট্যাটাস

তবে কি প্রেমিকার ভালোবাসামাখা অভিমানভরা স্ট্যাটাস সত্যি হয়ে গেল? সত্যিই চলে গেলেন পিয়াস!

আবু আজাদ
সহ-সম্পাদক
১৪ মার্চ ২০১৮, সময় - ২০:২৬

ভুটানে বেড়াতে গিয়ে দেশটির ঐতিহ্যবাহী পোশাকে ছবি তোলেন পিয়াস রায়। ছবি: পিয়াসের ফেসবুক থেকে

(প্রিয়.কম) গোপালগঞ্জের শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন পিয়াস রায়। ১২ মার্চ, সোমবার পাঁচ দিনের প্লেজার ট্যুরে হিমালয়ের দেশ নেপাল গিয়েছিলেন তিনি। 

ভ্রমণই ছিল পিয়াসের নেশা। তাই নিজের সম্পর্কে তুলে ধরতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের প্রোফাইলে পিয়াস লিখেছিলেন, ‘ভ্রমণই আমার আবেগ। আমি আমার দেশ এবং বিদেশে ভ্রমণ ভালোবাসি।’

কিন্তু পৃথিবীর নানা প্রান্তের টানে কিছুদিন পরপর হঠাৎ কয়েক দিনের জন্য উধাও হয়ে যাওয়া খুব একটা মেনে নিতে পারতেন না তার প্রেমিকা মৌমিতা রায় (ছদ্মনাম)। মৌমিতা যখন জানতে পারেন ১২ মার্চ আবারও নেপাল ভ্রমণে যাচ্ছেন পিয়াস, তখন হয়তো কিছুটা অভিমান হয়েছিল তার। তাই তো ভালোবাসা মিশ্রিত অভিমানে প্রেমিকা তার ফেসবুকে পিয়াসকে উদ্দেশ্য করে লিখেছিলেন, ‘আমার জন নেপালে যাওয়ার জন্য রওনা হয়েছে। এভাবে ছ্যাঁকা দিয়ে তোমার মত নিষ্ঠুর মানুষ হয়ে চলে যাচ্ছ।’

তবে কি প্রেমিকার ভালোবাসামাখা অভিমানভরা স্ট্যাটাস সত্যি হয়ে গেল? সত্যিই চলে গেলেন পিয়াস!

ওই স্ট্যাটাসে মৌমিতা আরও লিখেছিলেন, ‘যাই হোক যেমন সুস্থভাবে যাচ্ছো তেমন সুস্থভাবে ফিরে এসো।’

কিন্তু সুস্থভাবে ফেরা হয়নি পিয়াসের।

পিয়াস

পিয়াসের প্রেমিকা মৌমিতা (ছদ্মনাম) ও তার এক ফেসবুক বন্ধুর কথোপকথন। ছবি: প্রিয়.কম

এ ছাড়া স্ট্যাটাসের সব শেষে মৌমিতা আরও লেখেন, ‘তোমায় অনেক মিস করব।’ কিন্তু এ মিস করা যে সারা জীবনের জন্য হয়ে যাবে তা কে বলতে পারত? হয়তো ভাবেনি মৌমিতাও। 

এর আগে, ১২ মার্চ  হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর উদ্দেশে রওনা হন পিয়াস। 

বিমানে ওঠার আগে ফেসবুকে জীবনের শেষ স্ট্যাটাস হিসেবে পিয়াস লেখেন, ‘পাঁচ দিনের জন্য বিদায় আমার স্বদেশ, এভারেস্টের দেশের ডাক শুনতে পাচ্ছি।’

এই স্ট্যাটাস দেওয়ার কিছু সময় পরই নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া ইউএস-বাংলার বিএস-২১১ মডেলের ওই বিমানটিতে ওঠেন পিয়াস। দুপুর ১২টা ৫১ মিনিটে ৬৭ জন যাত্রী নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে ওই বিমানটি। এ সময় বিমানটিতে চারজন ক্রু ছিলেন।

পরবর্তীতে বিমানটি নেপালের স্থানীয় সময় বেলা ২টা ২০ মিনিটে ত্রিভুবন বিমানবন্দরে অবতরণের সময় একটি ফুটবল খেলার মাঠে বিধ্বস্ত হয়। ঘটনায় কমপক্ষে ৫০ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে পিয়াস রায়ও রয়েছেন।

পিয়াস রায় বরিশাল নগরীর হাসপাতাল রোড এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। বরিশালের চন্দ্রগন্ধ্যা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক পিয়াসের বাবার নাম সুকেন্দু বিকাশ রায়।

প্রিয় সংবাদ/আজাদ চৌধুরী

আরো পড়ুন
জনপ্রিয়