বাংলাদেশ ব্যাংকের ছবিটি গুগল স্ট্রিট ভিউ থেকে নেওয়া

তবুও নতুন ব্যাংকের তোড়জোড়

বর্তমানে দেশে তফসিলি ব্যাংকের সংখ্যা হচ্ছে ৫৭টি। নতুন তিনটি ব্যাংক অনুমোদন পেলে এই সংখ্যা দাঁড়াবে ৬০-এ। বাংলাদেশ ব্যাংকে ৮০টির বেশি আবেদন পড়ে আছে।

সফিউল আলম রাজা
প্রধান প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১ এপ্রিল ২০১৮, ২৩:০০ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ১৯:৩২
প্রকাশিত: ০১ এপ্রিল ২০১৮, ২৩:০০ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ১৯:৩২


বাংলাদেশ ব্যাংকের ছবিটি গুগল স্ট্রিট ভিউ থেকে নেওয়া

(প্রিয়.কম) বড় ধরনের সংকটে রয়েছে দেশের ব্যাংকিং খাত। অর্থ সংকটের কারণে সরকারের দ্বারস্থও হয়েছে বেসরকারি ব্যাংকগুলো। নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি তহবিলের ২৫ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ বেসরকারি ব্যাংকে রাখা যায়। দাবির মুখে তা ৫০ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। এমন অবস্থার মধ্যেই লাইসেন্স পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে নতুন দুই ব্যাংক।

একটি সূত্র জানিয়েছে, ২০১৭ সালের শেষ দিকে ‘বাংলা ব্যাংক’ ও ‘পিপলস ব্যাংক’ দুটিকে লাইসেন্স প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সুপারিশে গত ডিসেম্বরে চূড়ান্ত অনুমতি দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

সরকারের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের পর এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক লাইসেন্স পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে নতুন এ ব্যাংক দুটি।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, নতুন ব্যাংকের লাইসেন্স পেতে বেশ কিছু প্রক্রিয়া রয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের নিকট থেকে ব্যবসায়িক পরিকল্পনা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংক পেতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কিছু শর্তও দেওয়া হয়েছে। উদ্যোক্তারা শর্ত পরিপালন করে এবং তাদের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেবেন। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তা যাচাই-বাছাই করে পরিচালনা পর্ষদের কাছে পুনরায় ‘টেবিল মেমো’ জমা দেবে। পরিচালনা পর্ষদ পুনরায় অনুমোদন দিলে ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

বর্তমানে নতুন দুই ব্যাংকের ক্ষেত্রে এসব প্রক্রিয়া চলছে। সরকারের নীতিগত পর্যায়ে অনুমোদিত ব্যাংক দুটির মধ্যে ‘বাংলা ব্যাংক’-এর উদ্যোক্তা হচ্ছেন বেঙ্গল গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন। দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই’র সাবেক সহ-সভাপতি এই ব্যবসায়ী নেতা বর্তমানে একটি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির পরিচালক এবং বেসরকারি মেঘনা ব্যাংকেও তার শেয়ার রয়েছে।

‘পিপলস ব্যাংক’-এর উদ্যোক্তা আওয়ামী লীগের যুক্তরাষ্ট্র শাখার সহ-সভাপতি এমএ কাশেম। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ নিবাসী এই ব্যবসায়ীর হোটেলের ব্যবসা রয়েছে। প্রথমে ব্যাংকটি ‘পিপলস ইসলামি ব্যাংক’ নামে আবেদন করা হলেও পরে ‘ইসলামি’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সাত বছর আগে তিনি প্রথমে ব্যাংকের জন্য আবেদন করেছিলেন। আবেদনপত্রে কিছু ত্রুটি থাকায় তখন এটি অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

ব্যাংক দুটির লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়ার সর্বশেষ অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মো. রাজি হাসান বলেন, ‘আসলে লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি ধাপ ও প্রক্রিয়া আছে। একটি কমিটিও করা হয়েছে। কমিটি বিভিন্ন বিষয় পরীক্ষা ও পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ফলে কত দিন লাগতে পারে, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব হচ্ছে না।’

এর বাইরে সেনাবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত ট্রাস্ট ব্যাংক ও বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের (বিজিবি) সীমান্ত ব্যাংকের আদলে বিশেষ বিবেচনায় অনুমোদন পাচ্ছে ‘পুলিশ ব্যাংক’। এ ছাড়াও গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ‘সিটিজেন ব্যাংক’ নামে একটি ব্যাংককে লাইসেন্স প্রদানের অনুমতি চেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে সুপারিশ করেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। এর উদ্যোক্তা মোহাম্মদ ইকবাল একজন গার্মেন্টস মালিক বলে জানা গেছে।

সিটিজেন ব্যাংকের ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কোনো ব্যাংকের ব্যাপারে যদি অনুমোদন দেওয়া হয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয় যদি আমাদের কাছে সেটি পাঠায় তখন বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়টি বিবেচনা করে। গত ১৪ মার্চ আরও একটি ব্যাংকের আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ‘টিএমএসএস ক্ষুদ্র পুঁজি ব্যাংক’ নামের এই ব্যাংকের আবেদনকারী হলেন এনজিও ব্যক্তিত্ব অধ্যাপিকা ড. হোসনে আরা বেগম। প্রায় ৭ বছর আগে এই ব্যাংকটির জন্য আবেদন করেছিলেন তিনি। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী তার নোটে লিখেছেন, ‘আমাদের এই মেয়াদে আর কোনো ব্যাংককে লাইসেন্স দেওয়া হবে না।’

বর্তমানে দেশে তফসিলি ব্যাংকের সংখ্যা হচ্ছে ৫৭টি। নতুন তিনটি ব্যাংক অনুমোদন পেলে এই সংখ্যা দাঁড়াবে ৬০-এ। বাংলাদেশ ব্যাংকে ৮০টির বেশি আবেদন পড়ে আছে।

নতুন ব্যাংকের লাইসেন্স প্রদানের বিষয়ে ইতোপূর্বে অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশে অনেক ব্যাংক রয়েছে। তারপরও দেশের প্রচুর অঞ্চল ব্যাংক সেবার বাইরে রয়েছে। এ কারণেই নতুন ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। আমরা আরো তিন বা চারটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠান অনুমোদন দেবো।’ একই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘অনেকগুলো ব্যাংক একীভূত (মার্জার) করার চেষ্টা চলছে।’

অর্থ সংকট কাটাতে বেসরকারি ব্যাংকে সরকারি আমানত বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রচলিত বিধান অনুযায়ী, সরকারি আমানতের ২৫ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে রাখা হয়। উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) দাবির মুখে সরকার তা ৫০ শতাংশে উন্নীত করেছে। বিষয়টি নিয়ে ব্যাংকিং খাতে নানাধরনের পক্ষে-বিপক্ষে মতামত অব্যাহত রয়েছে।

সম্প্রতি ফারমার্স ব্যাংকে জলবায়ু তহবিলের ৫০৯ কোটি টাকা জমা রাখা হয়েছিল। কিন্তু ব্যাংকের অনিয়মের কারণে এবং ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ না করায় ব্যাংকটি বর্তমানে চরম অার্থিক সংকটে পড়েছে। ফলে জলবায়ু তহবিলের টাকা ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে এক ধরনের অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে।

প্রিয় সংবাদ/রিমন

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...