(প্রিয়.কম) বিদেশ থেকে বাংলাদেশে আসা আন্তর্জাতিক কলে আয় বৃদ্ধি করতে এবার নতুন ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে (আইজিডব্লিউ) অপারেটর দেওয়ার চিন্তা করছে সরকার। ইতিমধ্যেই ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত একটি ফাইল প্রস্তুত করা হয়েছে এবং শিগগির তা বিশ্লেষণের জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) বরাবর পাঠানোর কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই তথ্য প্রিয়.কম-কে জানিয়েছে। 

এর আগেও রাজনৈতিক বিবেচনায় দেশে ২৯টি আইজিডব্লিউ অপারেটরের অনুমোদন দিয়েছিল বিটিআরসি। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি অপারেটর যথা সময়ে বকেয়া পরিশোধ করতে পারেনি এবং শর্ত ভঙ্গের কারণে তাদের লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। তবে এবার নতুন করে কয়টি আইজিডব্লিউ অপারেটরের অনুমোদন দেওয়া হবে সে সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। 

নতুন আইজিডব্লিউ অনুমোদনের পাশাপাশি এ খাতে সরকারের আয় বৃদ্ধিতে আরও কিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে আইজিডব্লিউ ব্যবসা থেকে সরকারের আয়ের ভাগ ৪০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪৩ শতাংশ করা এবং আন্তর্জাতিক কল আনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মূল্য ২ টাকা ৮০ পয়সা থেকে ১ টাকা ২৮ পয়সায় নামিয়ে আনা হবে।

নতুন নিয়মে কল আনার সর্বনিম্ন মূল্য ১ টাকা ২০ পয়সা করার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সর্বনিম্ন দর ১ টাকা ২০ পয়সা হিসাবে সরকারসহ সব পক্ষগুলোকে আইজিডব্লিউ অপারেটরদের আয়ের ভাগ দিতে হবে। বর্তমানে আইজিডব্লিউ অপারেটররা ১ টাকা ৬০ পয়সা দরে আন্তর্জাতিক কল নিয়ে আসছেন কিন্তু ১ টাকা ২০ পয়সা দরে আয় ভাগাভাগি হচ্ছে।

নিয়ম অনুযায়ী বিদেশ থেকে আসা বাংলাদেশে প্রতি এক মিনিট কল থেকে যে আয় হয়, তার ৪০ শতাংশ সরকার, ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ আইসিএক্স, ২২ দশমিক ৫ শতাংশ মোবাইল ফোন অপারেটর আর বাকি ২০ শতাংশ আইজিডব্লিউ কোম্পানিগুলো পেয়ে থাকে। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে সরকার ৪৩ শতাংশ, আইজিডব্লিউ অপারেটর ১৮ শতাংশ ও মোবাইল ফোন অপারেটর পাবে ২১ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে আইসিএক্স অপারেটরের আয়ের অনুপাতে কোন পরিবর্তন আসছে না।

প্রসঙ্গত, মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (অ্যামটব) চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে দেশে আন্তর্জাতিক ইনকামিং কলের সার্বিক চিত্র তুলে ধরে বিটিআরসিতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০১৫ সালের মে পর্যন্ত দেশে বৈধ পথে আসা দৈনিক কলের পরিমাণ ছিল ১২ কোটি ৩৬ লাখ মিনিট। 

তখন কল টার্মিনেশন রেট ছিল ১ টাকা ২০ পয়সা। কল রেট বাড়িয়ে ১ টাকা ৬০ পয়সা করার পর বৈধ পথে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে কল এসেছে ৬ কোটি ৬৩ লাখ কোটি মিনিট। কলসংখ্যা কমায় প্রতি মাসে ৫২ কোটি টাকা হিসাবে ২০১৫ সালের জুন থেকে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকার রাজস্ব হারিয়েছে ৬৩০ কোটি টাকা। একই সময়ে আইজিডব্লিউ অপারেটরদের আয় বেড়েছে ৪৫৬ কোটি টাকা।

অ্যামটবের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৪ সালের জুলাই থেকে পরের বছরের জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট আন্তর্জাতিক ইনকামিং কল ছিল ৩৭ হাজার ১৬২ মিলিয়ন মিনিট। আর ২০১৫ সালের জুলাই থেকে ২০১৬ সালের জুলাই পর্যন্ত তা ছিল ৩০ হাজার ৬৩১ মিলিয়ন মিনিট। 

অর্থাৎ কল টার্মিনেশন রেট বাড়ানোর পর এক বছরেই আন্তর্জাতিক ইনকামিং কল কমেছে প্রায় ৭০০ কোটি মিনিট। ফলে এ সময়ে সরকার বছরে ১ হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা রাজস্ব হারিয়েছে। এ সময়ে মোবাইল ফোন অপারেটরদের ৮০০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে এবং আইসিএক্স বা ইন্টারকানেকশন এক্সচেঞ্জ অপারেটরদের ক্ষতি হয়েছে ১৩২ কোটি টাকা। তবে আইজিডব্লিউ প্রতিষ্ঠানগুলোর একই সময়ে আয়ের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৪৪ কোটি টাকা।  

প্রিয় টেক/মিজান