গণভবনে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: ফোকাস বাংলা

অশুভ শক্তি যেন ক্ষমতায় আসতে না পারে: প্রধানমন্ত্রী

দেশের ঐতিহ্য, ভাষা এবং সংস্কৃতির ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টিকারী কোনো অশুভ শক্তি যাতে আর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসতে না পারে, এ ব্যাপারে সজাগ থাকতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শেখ নোমান
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ১৪ এপ্রিল ২০১৮, ১৮:২৮ আপডেট: ১৮ আগস্ট ২০১৮, ০৫:১৬
প্রকাশিত: ১৪ এপ্রিল ২০১৮, ১৮:২৮ আপডেট: ১৮ আগস্ট ২০১৮, ০৫:১৬


গণভবনে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: ফোকাস বাংলা

(প্রিয়.কম) দেশের ঐতিহ্য, ভাষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টিকারী কোনো অশুভ শক্তি যাতে আর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসতে না পারে, সে বিষয়ে সজাগ থাকতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

১৪ এপ্রিল, শনিবার সকালে গণভবনে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। খবর বাসসের।

‘আমরা বাঙালি, বাংলাদেশ আমাদের দেশ এবং বাংলা আমার ভাষা-বঙ্গবন্ধুর এই বক্তব্য আমাদেরকে সর্বদা স্মরণ রাখতে হবে। ফলে কোনো অশুভ শক্তি যাতে আর ক্ষমতায় আসতে না পারে, এ জন্য সকলকে সজাগ থাকতে হবে’, বলেন প্রধানমন্ত্রী।
দেশে-বিদেশের সব বাঙালিকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশে নববর্ষ উদযাপন একটি সার্বজনীন উৎসব। এই উৎসবটা ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে সকলে একাত্ম হয়ে একত্রে উদযাপন করে। এমনকি প্রবাসে বসবাসকারী বাঙালিরাও উদযাপন করে।

আমাদের সরকারি, বেসরকারি পর্যায়ে, সাধারণ জনগণ-সকলেই উৎসবটা উদযাপন করে। এমনকি আমাদের একদম গ্রাম পর্যায় পর্যন্তও এই উৎসব উদযাপন হয়। কারণ এখানে সকলে খুব মন খুলে একাত্ম হয়ে উদযাপন করতে পারে। সেই সুযোগটা সৃষ্টি হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ উৎসব উদযাপনে যত বাধাই আসুক, বাঙালি কখনো কোনো বাধা মানে না। এ জাতি বাধা ভাঙতে জানে। পৃথিবীতে অনেক দেশ আছে। সব দেশেই নববর্ষের অনুষ্ঠান হয়। কিন্তু ভাষাভিত্তিক রাষ্ট্র এই উপমহাদেশে শুধু বাংলাদেশ।

কাজেই এখানে নববর্ষের উৎসব এক ভিন্ন মাত্রা লাভ করে। আমরা বাংলা ভাষায় কথা বলি, বাংলায় হাসি, বাংলায় কাঁদি, বাংলায় জীবন চর্চা করি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সবাই মন খুলে একাত্ম হয়ে যাতে এ উৎসব পালন করতে পারে, সে জন্য তার সরকার বৈশাখী ভাতার ব্যবস্থা করেছে। সরকারি ও বেসরকারি সেক্টরে এখন এ ভাতা চালু হয়েছে।’

অতীতে বর্ষবষণ উৎসবে নানা প্রতিবন্ধকতা থাকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পাকিস্তান আমলে বাংলাদেশি সংস্কৃতি এবং মূল্যবোধের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ষড়যন্ত্র ছিল। ’৭৫ এর ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর যারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেছিল, তাদের অনেককেও বাঙালির বর্ষবরণে বাধা প্রদান করতে দেখা যায়।

১৯৯২ সালে আমরা ১৪০০ বঙ্গাব্দকে বরণ করতে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলাম। কিন্তু সেখানে তৎকালীন খালেদা জিয়া সরকার বাধা দেয়। আমরা কবি সুফিয়া কামালকে নিয়ে সেসব বাধা উপেক্ষা করে রমনা পার্কে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নতুন শতাব্দীকে বরণ করি।’

দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা ফুলের তোড়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান। সাম্যবাদী দলের নেতা দিলীপ বড়ুয়া তাঁর দল এবং ১৪ দলীয় জোটের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও দক্ষিণ, মহিলা আওয়ামী লীগ, ঢাকা সিটি করপোরেশন দক্ষিণের মেয়র, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুব মহিলা লীগ, ছাত্রলীগ, বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদ, কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসেসিয়েশনের পক্ষ থেকেও প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে বাঙালি ঐতিহ্যপূর্ণ খাবার মিঠাই, মোয়া, মুড়ি-মুড়কি, মুড়লি, কদমা, জিলাপি দিয়ে অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয়।

প্রিয় সংবাদ/নোমান