নূর ইমরান মিঠু। ছবি: সংগৃহীত

‘কমলা রকেট’ দিয়ে বাংলাদেশকে দেখাতে চান মিঠু

কবিতার কবি হওয়ার ইচ্ছা থাকলেও সে পথে বেশি দূর হাঁটা হয়নি। তবে এখন সেলুলয়েডের কবি হওয়ার চেষ্টায় মত্ত আছেন।

মিঠু হালদার
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৩ জুন ২০১৮, ২১:৪১ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ১০:৩২


নূর ইমরান মিঠু। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) শৈশব থেকেই লাজুক প্রকৃতির। গুছিয়ে কিছু করা হয়ে ওঠে না তার। জীবনের খেয়ালে হঠাৎ করেই জাগল চারপাশের গল্প বলার আকুতি। সে জন্য হতে চেয়েছিলেন কবি। কিন্তু জীবনের বাক বদলের সঙ্গে সঙ্গে সে সিদ্ধান্ত বদলে যায়। ‘অদ্ভূত বেকার বাবা’র সন্তানটি গোলক ধাঁধায় আটকে যান। কবিতার কবি হওয়ার ইচ্ছা থাকলেও সে পথে বেশি দূর হাঁটা হয়নি। এখন তিনি সেলুলয়েডের কবি হওয়ার চেষ্টায় মত্ত।

যার কথা বলা হচ্ছে, তিনি হলেন নূর ইমরান মিঠু। সহকারী নির্মাতা হিসেবে এ মাধ্যমে শুরুটা হলেও পরিচিত পান মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর নির্মাণে ‘পিঁপড়াবিদ্যা’ ছবিতে অভিনয় করে। চলচ্চিত্র নির্মাণে হাত দেওয়ার আগে নির্মাণ করেছেন নাটক ও প্রামাণ্যচিত্র। তারপর প্রথিতযশা কথাসাহিত্যিক শাহাদুজ্জামানের ‘মৌলিক’ ও ‘সাইপ্রাস’ নামের দুটি গল্পকে এক করে নির্মাণ করলেন ছবি ‘কমলা রকেট’। আসছে ঈদে ছবিটি দেখবেন দর্শক। এখন চলছে শেষ মুহূর্তের প্রচার-প্রচারণা।

ভাগ্য বদলে মফস্বল থেকে ঢাকায় এসেছেন সিনেমার এ কারিগর। এক আড্ডায় জীবনের বাঁক বদলের গল্প শোনানোর সঙ্গে সঙ্গে তিনি প্রিয়.কমকে জানালেন তার ‘কমলা রকেট’ নির্মাণের পেছনের কথাও।

সন্ধ্যার পর যখন এফডিসি সংলগ্ন হাতিরঝিলের দাবার কোটে বসে আলাপ শুরু হলো, তখন ঘরে ফেরার তাড়া দেখা গেল শ্রমজীবীদের। যখন কথা শেষ হলো, শহর থেকে শেষ ট্রেনটি স্টেশন ছেড়ে গেল। সড়ক বাতিগুলোর আলোও তার উজ্জ্বলতা মেলে ধরল।

মিঠু জানান, তার বাবা লেখালেখি করেন। তিনি একজন কবি। তার ভাষায়, ‘সারা জীবন ‘‘এক অদ্ভূত বেকার বাবা’’র সন্তান আমি। জীবনে নানা কিছু করতে গেলেও শেষ পর্যন্ত তিনি আর সে মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হননি। এটা এই অর্থে যে অর্থ উপার্জনকে যদি সামগ্রিক দিক থেকে কিছু করা বলা হয়। আবার অনেক কিছুই করেছেন। হয়তো দেখা গেছে স্কুল প্রতিষ্ঠা করছেন।

যখন সবকিছু ঠিকঠাক, তখন দেখা গেল রাজনীতির কারণে তাকে সেখান থেকে সরে আসতে হয়েছে। এভাবেই চলে যাচ্ছে তার জীবন। তবে সারা জীবনই একটা কাজ করার চেষ্টা করেছেন, সেটা হলো কবিতা লেখা। তিনি এখনো রাজবাড়ি জেলার পাংশা থানার একটি পত্রিকার সম্পাদক। নাম ‘‘উল্টোপথ’’। আমার প্রডাকশন হাউসের নামও ‘‘উল্টোপথ’’।’

কবি বাবার এ সন্তানের মধ্যে হঠাৎ করেই ভাবের উদয় হলো, তিনি কবিতা, গল্প উপন্যাস লিখবেন। যখন আরেকটু বড় হলো, চর্চাটাও শুরু হয়ে গেল। কিছু সময় যাওয়ার পর তার মনে হলো, তিনি যেভাবে বলতে চাচ্ছেন, সেভাবে হচ্ছে না। বুঝতে পারলেন এ মাধ্যমে টিকে থাকতে হলে, অনেক মেধা ও শক্তির দরকার। তাই তার দ্বারা এ কাজ হবে না। একপ্রকার ভয়ও পেয়ে গেলেন। কিন্তু তার মধ্যে একটা প্রতিজ্ঞা কাজ করল, ‘আমি এই কথাগুলো কখনো না কখনো বলব’।

‘কমলা রকেট’ ছবির একটি দৃশ্যে মোশাররফ করিম ও জয়রাজ। ছবি: সংগৃহীত

শৈশবে মিঠুর নায়করা

মিঠু যখন সপ্তম কিংবা অষ্টম শ্রেণিতে পড়তেন, সে সময় রুবেল-জসিমের ছবি দেখতেন, কোথাও সুযোগ পেলেই। কারণ ছবিতে মারামারির দৃশ্য থাকত অনেক। তা ছাড়া নায়ক ফারুকের ছবিও ভালো লাগত। কিন্তু তার কাছে মারামারির ছবি ছাড়া কোনো ছবিকেই ছবি মনে হতো না! মিঠুর ভাষায়, ‘মনে হতো সেটাই আসল সিনেমা। যদি সিনেমাতে মারামারি না থাকত, আমার ভীষণ মন খারাপ হত। তখন আমার মারামারির সিনেমা মানেই একটা ঈদ লেগে যেত। এরপর মান্না আসল, তারপর সালমান শাহ। তাদের সিনেমাও আমার ভালো লাগত। এগুলো দেখে দেখেই আমার জীবনের সে সময়গুলো কেটেছে।’

মিঠু জানান, কোনো এক ঈদে গিয়ে তিনি দেখলেন ‘হঠাৎ বৃষ্টি’ সিনেমাটি। খুব ভালো লাগল তার। তার কথায়, ‘মনে হয় এটা তো অন্যরকম সিনেমা। এখানে নায়ক-নায়িকার বিষয় নেই, কিন্তু খুব মজা লাগল। তারপর তানভীর মোকাম্মেলের একটা সিনেমা দেখলাম, নাম ‘‘চিত্রা নদীর পাড়ে’’। তখন ভাবনায় এলো এমন গল্পেও সিনেমা হতে পারে! বয়সের ফাঁরাকে মারামারির বাইরে গিয়ে অন্য ধরনের গল্পের সিনেমাও আমার ভালো লাগতে লাগল। রুচিরও একটা পরিবর্তন হলো।’

মিঠুর দাদাও লেখালেখি করতেন। পারিবারিক এ দিকটা তাকে তাড়া দিলো নতুন কিছু সৃষ্টির। নতুন সব স্বপ্নরা তার জানালায় ভিড় জমায় প্রতিদিন। কত কিছুর করার যন্ত্রণা তাকে আষ্ঠেপৃষ্টে রাখে। এভাবে ভাবতে ভাবতে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে পা রাখলেন মিঠু। স্বপ্ন ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাতে পড়বেন। আর একটু একটু সিনেমা বানানো শিখবেন। পরীক্ষা দিলেন, কিন্তু সুযোগ পেলেন অন্য বিষয়ে, ভর্তি হলেন না।

এরপর বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ হলেও মিঠু ভর্তি হলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে। কারণ হিসেবে বললেন, ‘খুলনা আমার বাড়ি থেকে অনেক দূরবর্তী জায়গা। পাংশা স্টেশন থেকে ট্রেনে যেতে আট ঘণ্টা লাগে। তাই সেখানেই থাকাটাই শ্রেয়, সেখানেই যাব। আবার হলের থেকে বাড়ি যাব। ভাবতেই ভালো লাগে। প্রকৃতির কাছে থাকা যাবে। দীর্ঘ এ জীবনের ছয় বছর আলাদা করে রেখে সুন্দরবনের ওপর একটা উপন্যাস লিখব, দারুণ হবে। কিছু তো একটা করা হবে।’

নতুন জীবনের যাত্রা শুরু

কোনো এক শীতের দিনে একটা লেপ, দুইটা বালিশ নিয়ে কবি বাবা মিঠুকে খুলনার ট্রেনে তুলে দিলেন। দুপুর দুইটার সময় ট্রেনে ওঠার পর রাত একটায় গিয়ে খুলনা পৌঁছলেন। যাওয়ার পথে প্রায় ৩০টা স্টেশন দেখলেন।

এ নিয়ে মিঠু বলেন, ‘কত নাম না জানা স্টেশন! কোথাও আবার ছোট ছোট স্টেশন। আবার অনেক পুরনো ভাঙা স্টেশন। আবার কত পুরনো বট গাছ, নিঃসঙ্গ জীবনে ডাল-পালাই তার সঙ্গী। এই ট্রেনের জানালা দিয়ে ছয় বছর যাইতাম-আসতাম আর ভাবতাম যে, এই নিঃসঙ্গ স্টেশনগুলোর গল্পগুলো বলতে পারলে কতই না ভালো হতো। শুটিং করতে খুব ইচ্ছে করত আমার।’

মিঠু ভাবতেন, এই বিচ্ছিন গল্পগুলো টুকরো টুকরোভাবে কোনো সিনেমার গল্পে আনা যেত, তবে খুব দারুণ হতো। তিনি বলেন, ‘তবে আনার যে প্রক্রিয়া কী, সেটা তো আমি জানি না। এগুলো ভাবতে ভাবতে পড়াশোনা শেষ হয়ে গেল। সবাই ঢাকা আসতেছে চাকরির পরীক্ষা দিবে। আমি খুলনা থেকে ভাবলাম কী করব, তার চেয়ে ঢাকায় যাই।

কোনো পরিচালকের সঙ্গে থাকার চেষ্টা করব, সিনেমা বানানোর চেষ্টা করব। তারপর মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী, গিয়াস উদ্দিন সেলিম, তারেক মাসুদসহ এ রকম আরও কয়েকজন লোকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলাম। কিন্তু রেসপন্স পেলাম না।’

এভাবেই কয়েক বছর চলে গেল। কোথাও থেকে মিঠুর ডাক পড়ল না। জীবিকার তাগিদে ঢাকায় এসে প্রাইভেট পড়াতে শুরু করলেন। যেহেতু সমাজকর্মে পড়েছেন তাই, এনজিওতে চাকরির চেষ্টা করলেন, মিলেও গেল। কাজ করতেও শুরু করলেন। পাশাপাশি তানভীর মোকাম্মেলের কাছে সিনেমার ওপর ক্লাস করতে শুরু করলেন। কেটে গেল চার-পাঁচ বছর। হঠাৎ করেই ডাক পড়ল মোস্তফা সরওয়ার ফারুকীর ‘ছবিয়াল’ থেকে।

ছবিয়ালে কাজের সুযোগ

ইন্টারভিউ দিলেন। কাজের সুযোগও মিলল। ‘টেলিভিশন’ সিনেমার সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজও করলেন। মিঠুর ভাষায়, ‘ওই প্রথম জীবনে শুটিং দেখলাম। তারপর আমি ভাবতে লাগলাম, আমি যে গল্পগুলো বলতে চাই, সেগুলো অনেক কঠিন। আমি তো কল্পনা কল্পনায় অনেক সিনেমা বানাতাম। কিন্তু আমি খুব দুর্বল ও অপদার্থ টাইপের লোক। দেখলাম সিনেমা বানাতে গেলে আসলে পদার্থ হতে হয়। শুটিং মানে তো একটা যুদ্ধ। আমার দ্বারা এ কাজ হবে না। তার থেকে বরং আমি মাথার ভেতরেই সিনেমা বানাই।

তখন আমি আবার সব ছেড়ে দিয়ে ফের এনজিওর কাজ শুরু করলাম। মনে হলো এগুলোই আমার উপযুক্ত কাজ। দেশটা ঘুরে দেখা যাবে। আর ভাবলাম সবারই ছবি বানাতে হবে কেন? সবারই শিল্পী হওয়ার কী প্রয়োজন? আমার যেহেতু সে গুণ নাই, তাই দেশ-দুনিয়া ঘুরে বেড়াই।’

কিন্তু মিঠুর মন তাকে আবার টেনে ধরে। বলে, ‘আবার এদের গল্প বলো। এটা কষ্টের, তারপরও আবার ফিরে যাও। যা হয় হোক, চেষ্টা করে দেখো।’

‘এ রকম করতে করতে ফারুকী ভাই একদিন ফোন দিলেন। বললেন, তুমি চাকুরি ছেড়ে দিয়ে আসো। আমি একটা সিনেমা বানাব। তখন চাকরি ছেড়ে দিয়ে আসলাম। এক বছরের মতো ছিলাম তার কাছে’, বলেন মিঠু।

মিঠুর জীবনের বিস্ময়কর একটি ঘটনা

‘টেলিভিশন’ সিনেমায় কাজ করার পরের ঘটনা। বহুদিন হয় মিঠুর সঙ্গে ফারুকীর কোনো যোগযোগ নেই। হঠাৎ করে ফোন করে বললেন, চাকরি ছেড়ে দিয়ে ঢাকায় চলে আসার জন্য। কারণ হিসেবে জানালেন, সিনেমাতে নায়ক হিসেবে অভিনয় করার কথা। মিঠু আকাশ থেকে পড়লেন!

মিঠু স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘আমি ফারুকী ভাইকে বললাম, আমি তো অভিনয় পারি না। ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালে পা কাঁপে। তখন ফারুকী ভাই বললেন, আমি পা কাঁপানো থামিয়ে দিবোনি। তারপরও কাজটা করলাম। মানুষজন সিনেমাটা দেখল, বলল ভালোই হয়েছে। আমি জানি না কাজটা ভালো না খারাপ হয়েছে।

এরপর আমি আবার এনজিওতে কাজ শুরু করলাম। সেখানে যাওয়ার পর আবার এক বছর কাজ করলাম। তখন মনে হলো, আবার সিনেমা বানানোর কথা। কিন্তু এটাও মনে হলো, এত ত্যক্ত-বিরক্তের কাজ। এত মানুষের হাত-পা ধরে কাজ, এত লবিং কে করবে, কে দেবে টাকা, কীভাবে গল্প দাঁড় করাব? কোন লোকেশন গিয়ে শুটিং করব?’

‘কমলা রকেট’-এর পোস্টার। ছবি: সংগৃহীত

প্রথম নাটক নির্মাণ

জীবনের বেড়াজালে আটকে গিয়ে ফের চাকরিতে ঢুকলেন মিঠু। চাকরির সুবাদে পথে পথে ঘুরে বিচিত্র সব জীবন দেখে দিন কাটে তার। এর মধ্যেই একদিন তার এক ছাত্র ইতালি থেকে ফোন করে বলল, ‘স্যার আপনি তো নাটক সিনেমা বানাবেন। আপনার কি বানানোর ইচ্ছা এখনো আছে?, আমি বললাম, আছে। সে বলল, আমার কাছে কিছু ফালতু টাকা আছে, আপনি নেবেন? আমি বললাম, আমি তো এমন ফালতু টাকাই খুঁজতে ছিলাম। ও দিলো এক লাখ। আরেকজনে দিলো ৫০ হাজার। বাকি ৫০ হাজার আমি দিয়ে একটা নাটক বানালাম।

কোনো নায়ক-নায়িকা নিলাম না। আমিই নায়ক। আর একটি মেয়েকে নিলাম। একটা নাটকের শুটিং হয় দুই দিন। আমি করলাম ছয়দিন। আমি ডিরেক্টর, আমি অভিনেতা-আমিই সবকিছু। এরপর এক মাস ধরে এডিট করলাম। এরপর সব চ্যানেলে গিয়ে একটা করে নাটকের কপি দিয়ে আসলাম। কিন্তু কোনো চ্যানেল থেকে রেসপন্স করল না। কারণ নাটকে কোনো স্টার নাই।’

ওই নাটক নির্মাণের পর একটি এনজিওতে কাজ শুরু করলেন মিঠু। এভাবে দেড় বছর চলে গেল। এরপর হঠাৎ একদিন এটিএন বাংলা থেকে তার কাছে ফোন এলো। তারা জানাল, নাটকটি কিনতে চায়। মিঠু বললেন, ঠিক আছে। দুই লাখ টাকায় নাটকটি বিক্রি করলেন, মনে মনে খুব শান্তি পেলেন এই ভেবে যে, তিনি অন্তত একটি নাটক শেষ করতে পেরেছেন। মিঠুর ভাষায়, ‘সাহসও বেড়ে গেল। কোনো স্টার ছাড়া নাটকও বিক্রি করা যায়। এক ধরনের আত্মবিশ্বাস পেলাম।’

‘কমলা রকেট’ ও তার নাবিকের গল্প

বেশ কিছুদিন পরের ঘটনা। চ্যানেল আইয়ের জন্য একটি নাটক বানালেন মিঠু। সেটি দেখার পর চ্যানেল কর্তৃপক্ষ প্রশংসা করল। একটা সময় গিয়ে তাদের একজন বললেন, ‘আপনি নাটক না বানিয়ে সিনেমা বানান।’ এ কথা শুনে মিঠু চমকে গেলেন। তখন ইবনে হাসান খান (মার্কেটিং হেড) সাহস দিয়ে বললেন, ‘আপনি পারবেন।’ মিঠু বলেন, ‘তারপর আমি বাসায় ফেরার জন্য বাসে উঠতে গেলাম, কিন্তু পারছিলাম না। আমি সারাজীবন এ কথাটাই শোনার অপেক্ষায় ছিলাম।’

মিঠুর চোখ থেকে ঘুম উধাও হয়ে গেল। মনের ভেতরে এক অদ্ভূত যন্ত্রণা। চিত্রনাট্যের কাজ শুরু করে দিলেন। মিঠু যোগাযোগ করলেন কথাসাহিত্যক শাহদুজ্জামানের সঙ্গে। তাকে তিনি বললেন, ‘স্যার আপনার গল্প দুটো আমার ভালো লাগে। এটাকে চিত্রনাট্যে রূপ দিতে পারি? তিনি বললেন, ঠিক আছে, করেন। তারপর তিনি দেশে আসার পর তাকে দেখালাম। বললাম, আপনার সাহায্য ছাড়া আমি পারব না। তিনিও রাজি হলেন। প্রায় বছরখানেক সময় নিয়ে আমরা চিত্রনাট্য করলাম। তারপর শুটিং করলাম। এখন দর্শকের দেখার অপেক্ষা। দেখি অপদার্থ লোকের এ ছবিটা দর্শক দেখে কি না।’

মিঠু জানান, তারা যে জাহাজে শুটিং করেছেন, সেটা ভাড়া না করেই। মানে অনেকটা চলতে চলতে শুটিং করা। ভাড়া করতে গেলে ৬০ লাখ টাকা লাগবে। মিঠু বলেন, ‘আমরা ১৮ দিন শুটিং করেছি। আর এ জাহাজটি বিআইডব্লিটিএ ভাড়া দেয় না। আমরা এর মধ্যে গেছি-আসছি আর শুটিং করেছি। অনেকটা গেরিলা সিস্টেমে শুটিং হইছে। এই অভিজ্ঞতাটা দুর্দান্ত।’

‘কমলা রকেট’ সম্পর্কে মিঠু বলেন, ‘সবার ভালোবাসার কারণেই সিনেমাটি করতে পারছি। আমি মনে করি, এই ছবিটা দেখলে পৃথিবীর অন্য কোনো দেশের, মানুষের কিংবা অন্য কারো ছবির মতো মনে হবে না। মনে হবে এটা মিঠুরই ছবি। শিল্পীর মূল কাজ তার মতো করেই কিছু করা। এই সিনেমায় ছোট্ট একটা বাংলাদেশ দেখা যাবে। মনে হবে এই জাহাজটাই ছোট্ট এক কাল্পনিক বাংলাদেশ। নানা রকম মানুষ। বিচিত্র সব পেশার মানুষের দেখা মিলবে এই সিনেমায়।’

মিঠু আরও বলেন, ‘আমাকে গল্পটা বলতে হয় আলো দিয়ে, ক্যামেরা দিয়ে, চিত্রনাট্য দিয়ে, সংলাপ দিয়ে, সংগীত দিয়ে। এই রকম এত বিষয়ের ওপর আশ্রয় নিয়ে আমি আমার গল্পটা বলি। সে ক্ষেত্রে হয় যে, আমারও তো এই গল্প বলাটা শিখতে সময় লাগবে। সিনেমায় আমি এখনো শিশু পর্যায়ে রয়েছি। অভিজ্ঞতা কম বিধায় প্রতিনিয়ত শিখছি।

সেই অর্থে আমি স্মার্ট লোকও না। ছোটবেলায় পড়েছি ডিরেক্টরকে হতে হয় ক্যাপ্টেন অব দ্য শিপ, তাকে ডিকটেটরের মতো শাসন করতে হয়। সে ক্ষেত্রে আমার কিছুটা সীমাবদ্ধতা ছিল। গল্প বলার ক্ষেত্রে আমার সবসময় মনে হয়েছে আমি লার্নিংয়ের মধ্যে আছি, চলচ্চিত্রে আমার ভাষাটা খোঁজার চেষ্টা করছি। এটা আসলে আমার শুরু।’

‘কমলা রকেট’ নাটকে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম, তৌকীর আহমেদ, জয়রাজ, সামিয়া সাঈদ, সেওতি, ডমিনিক গোমেজ, বাপ্পা শান্তনু, সুজাত শিমুল, শহীদুল্লাহ সবুজ, আবু রায়হানসহ আরও অনেকেই।

কাহিনি সংক্ষেপ: কমলা রকেট একটি স্টিমার। এই স্টিমারে অনেক যাত্রী। নানা পেশার নানা মানুষ। এই স্টিমারের একজন যাত্রী আতিক। পেশায় ব্যবসায়ী। ইনস্যুরেন্স থেকে টাকা পাওয়ার আশায় নিজের কারখানায় অগ্নিকাণ্ড ঘটিয়েছেন। কিন্তু তা জানাজানি হয়ে যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখকে ফাঁকি দিয়ে তিনি ঢাকা থেকে স্টিমারে করে মোংলায় যাচ্ছেন।

মোংলায় বন্ধুর বাসায় আত্মগোপন করে থাকবেন আতিক। এই স্টিমারে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে একটি মরদেহ। সেই কারখানার অগ্নিকাণ্ডে নিহত একজন নারী কর্মীর মরদেহ নিয়ে যাচ্ছেন তার স্বামী। এভাবেই এগিয়ে যায় গল্প।

‘কমলা রকেট’ ছবির ট্রেলার দেখুন নিচের লিংকে।

প্রিয় বিনোদন/আজহার

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
আইনি জটিলতা পেরিয়ে ‘মাতাল’ আসছে
নিজস্ব প্রতিবেদক ২৩ অক্টোবর ২০১৮
বিয়ে করছেন কপিল শর্মা
তাশফিন ত্রপা ২৩ অক্টোবর ২০১৮
বলিউডের ছবিতে সিয়াম-পূজা
মিঠু হালদার ২৩ অক্টোবর ২০১৮
আমার হাসিটাই সবচেয়ে বড় শত্রু: পরী মণি
তাশফিন ত্রপা ২৩ অক্টোবর ২০১৮
বলিউড তারকাদের ব্যক্তিগত জেট বিমান
তাশফিন ত্রপা ২৩ অক্টোবর ২০১৮
প্রিয় অবসর : ২৩ অক্টোবর ২০১৮
প্রিয় ডেস্ক ২৩ অক্টোবর ২০১৮
ঈশা আম্বানির বিয়েতে গাইবেন বিয়ন্সে
তাশফিন ত্রপা ২২ অক্টোবর ২০১৮
স্পন্সরড কনটেন্ট
ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের আবেদন | চিঠিপত্র
ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের আবেদন | চিঠিপত্র
ইত্তেফাক - ২ দিন, ৫ ঘণ্টা আগে
মাথা যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে | কালের কণ্ঠ
মাথা যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে | কালের কণ্ঠ
কালের কণ্ঠ - ২ দিন, ৭ ঘণ্টা আগে
২০ বছর পর মুক্তি পেল যে ছবি
২০ বছর পর মুক্তি পেল যে ছবি
নয়া দিগন্ত - ২ দিন, ৭ ঘণ্টা আগে
ট্রেন্ডিং