অসীম সাহা। ছবি: সংগৃহীত

এ রাষ্ট্রে এখন সত্য কথা বলে নির্বোধেরা: অসীম সাহা

যারা মনে করেন পুরস্কার দ্বারা কোনো লেখক বা কবি অনুপ্রাণিত হতে পারেন, আসলে তারা কোনো লেখকই নন।

সিফাত বিনতে ওয়াহিদ
সহ-সম্পাদক
১৬ এপ্রিল ২০১৮, সময় - ১৫:০২


অসীম সাহা। ছবি: সংগৃহীত

বাংলা সাহিত্যের ষাট দশকের একজন অন্যতম প্রতিনিধিত্বশীল কবি অসীম সাহা। ১৯৪৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেছিলেন এ গুণী সাহিত্যিক। লেখালেখি জীবন শুরু করেন ১৯৬৪ সালে। ১৯৬৫ সালে ঢাকার পত্রিকায় ছোটদের জন্য তার লেখালেখির মুদ্রণ শুরু। সেই থেকে কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, ছড়া, কিশোর কবিতা, গান প্রভৃতি রচনায় সিদ্ধহস্ত কবি অসীম সাহা এখনো অব্যাহতভাবে লিখে চলেছেন। সাহিত্যের সকল বিষয়ে তুখোড় এই লেখক ঋদ্ধতায় বিশ্বাসী বলে অতিপ্রজ হওয়ার দিকে তাঁর মনোযোগ কম। প্রিয়.কমের সঙ্গে এক একান্ত সাক্ষাৎকারে খ্যাতিমান এ কবি কবিতা, নিজের ব্যক্তিগত জীবন দর্শন এবং সমসাময়ীক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন।

প্রিয়.কম: শৈশব কোথায় কেটেছে আপনার?
অসীম সাহা:আমার জন্ম নেত্রকোনা শহরের বড় পুকুরপাড়ে, আমার মামার বাড়িতে। সেখানে জমিদার ভুবন রায়ের একটি বাড়ি ছিল। সে বাড়ির নিচতলাতেই আমার জন্ম। কিন্তু আমার আদিবাড়ি মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার তেওতা গ্রামে। সেখানে কাজী নজরুল ইসলামের স্ত্রী প্রমীলা নজরুলেরও জন্ম। পাঁচ-ছয় বছর বয়স পর্যন্ত তেওতার যমুনা নদীর ধারে আমার সময় কেটেছে।

আমাদের একটা দোচালা টিনের ঘর ছিল সেখানে, তার সামনে ছিল একটা কামরাঙা গাছ, পেছনে ছিল বাঁশবাগান এবং একটা বিলেতি গাবের গাছ। সেইসব স্মৃতি আমার খুব মনে পড়ে। যমুনা নদীর তীর ভেঙে যাওয়ার কারণে আমার বাবা ওই স্থান থেকে একটু ভেতরের দিকে একটা জমি কিনেছিলেন। সেখানে তিনি গাছ ও পুকুরঘেরা একটি চমৎকার বাড়ি তৈরি করেন। সিরাজগঞ্জ থেকে তখন যমুনা নদী দিয়ে স্টিমার যেত আরিচা ঘাটে। স্টিমার আসার সময় ভেঁপু দিত, সেই ভেঁপুর শব্দ শুনে আমি দৌড়ে চলে যেতাম নদীর পাড়ে। কাঠের চাকার ঘূর্ণন তুলে তুলে স্টিমার চলে যেত আর আমি এক দৃষ্টিতে সেদিকে তাকিয়ে থাকতাম।

প্রিয়.কম: শৈশবের তো অনেক গল্প থাকে, তবে কিছু গল্প কোনোদিন ভুলে যাওয়া সম্ভব হয় না। আপনার সে রকম  উল্লেখযোগ্য কোনো গল্প শুনতে চাই।
অসীম সাহা: একবার একটি ঘটনা ঘটলো। বন্যা হয়েছিল, মাত্র বন্যার পানি নেমে গিয়ে পলি পড়ছিল, চার ইঞ্চির মতো নিচে নেমেছে পানি। আমরা গ্রামের অনেক ছেলেমেয়ে মিলে যমুনার ধারে খেলতে গিয়েছি। পা দিয়ে মাটিতে চাপ দিচ্ছি আর সেখান থেকে পানি বের হচ্ছিল, খুব মজা করে সেই খেলায় সবাই মগ্ন। আমার পায়ে সে সময় বালি লেগেছিল, আমি কাউকে কিছু না বলে আস্তে আস্তে যমুনা নদীর পাড়ে গিয়েছি পা ধোয়ার জন্য। এ সময় পলিমাটি ভেঙে আমি নদীতে পড়ে যাই। হঠাৎ আমার মামা খেয়াল করেন, আমি হারিয়ে গেছি। ওই এলাকায় একজন জেলের ধীরেন নামে ১৩ বছরের একটি ছেলে ছিল। আমার বাবা তাকে ধীরা বলে ডাকতো। সে আমাকে ভীষণ আদর করতো। সে-ই প্রথম বুঝতে পারে যে আমি নদীতে পড়ে গিয়েছি। ধীরা দা একদৃষ্টিতে নদীর দিকে তাকিয়ে থাকে। হঠাৎ দেখে খুব প্রবল ঢেউ, সেই ঢেউয়ের তালে তালে আমার কালো চুল ভেসে ভেসে উঠছে আবার ডুবে যাচ্ছে। সে নদীর পাড় ধরে এক দৌড় দিয়ে অন্তত বিশ হাত গিয়ে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। বুক উঁচু করে দাঁড়িয়ে সে অপেক্ষা করে কখন আবার চুলটা ভেসে উঠবে। আমার চুল ভেসে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই সে চট করে ধরে ফেলে। চুলের মুঠি ধরে সে টানতে টানতে তীরে নিয়ে যায়। ওই সময় যদি সে আমাকে ধরতে না পারতো তাহলে কিন্তু আমি অনন্তকালের গর্ভে হারিয়ে যেতাম, আজকে আমার অস্তিত্ব থাকতো না। আমার ত্রাণকর্তা হিসেবে, জীবনদাতা হিসেবে এখনো আমি ধীরা দাকে স্মরণ করি। এই ঘটনা আমার লেখায়ও বিভিন্নভাবে এসেছে।

প্রিয়.কম: লেখালেখির শুরুটা করেছিলেন কীভাবে?
অসীম সাহা: একেবারে আকস্মিকভাবে। আমরা বৈশ্য মানে বণিক বা ব্যবসায়ী গোত্রভুক্ত। আমার ঠাকুরদা ব্যবসায়ী ছিলেন; কিন্তু আমার বাবা গোত্রের সেই ঘেরাটোপ থেকে বের হয়ে শিক্ষকতা করলেন। আমার মা ছিলেন একজন সু-গায়িকা। তার বাবাও গায়ক ছিলেন। জমিদার বংশে জন্ম নেওয়া সত্ত্বেও তারা যাত্রাদলে গান করেছেন। আমাদের বাড়িতে সে সময়-ই ভারত থেকে ‘দেশ’, ‘আনন্দবাজার’, ‘নবকল্লোল’ এবং ‘সন্দেশ’-এর মতো পত্রিকা আসতো। এই পত্রিকাগুলো পড়তে পড়তে কখন আমার মনের মধ্যে কবিতা লেখার ইচ্ছে জেগেছিল আমি নিজেও জানি না। ১৩-১৪ বছর বয়সে একদিন আমি রবীন্দ্রনাথের ‘বসন্ত’ কবিতা অনুকরণ করে কিংবা বলা যেতে পারে প্রায় নকল করেই একটা কবিতা লিখলাম। রবীন্দ্রনাথকে নকল করেছি বলে সবাই সেই কবিতা নিয়ে খুব হাসি-ঠাট্টা করল। তখন আমার মধ্যে একটা জেদ চেপে গেল যে আমাকে নিজের স্বতন্ত্র কবিতা লিখতেই হবে। ৬৪ সালের দিকে আমি ছোটদের জন্য ছন্দ মিলিয়ে কবিতা লেখা শুরু করলাম। সেই থেকে লেখালেখির যাত্রা শুরু বলা যেতে পারে।

প্রিয়.কম: প্রথম লেখা প্রকাশের স্মৃতি মনে আছে?
অসীম সাহা: প্রথম লেখা ছাপার ঘটনা বেশ মজার। ১৯৬৫ সালে আমার প্রথম লেখা ছাপা হয় তবে সেটি কবিতা নয়, ছিল গল্প। সে সময় পাকিস্তানের গভর্নর মোনায়েম খানের আর্থিক সহায়তায় ‘পয়গাম’ নামের একটি পত্রিকা বের হত। ওই পত্রিকায় কাজ করতেন আমাদের রফিকুল হক দাদুভাই। আজকে যারা বিখ্যাত কবি-লেখক, তাদের সবাই সেখানে লিখতেন। যদিও পত্রিকাটি ছিল মুসলিম লীগের কিন্তু একমাত্র রফিকুল হক দাদুভাইয়ের কারণে সেখানে সবাই লেখা পাঠাতো। ১৯৬৪ থেকে ১৯৬৫- একবছর আমি ওই পত্রিকাটিতে নিয়মিত লেখা পাঠাই; কিন্তু তারা আমার লেখা ছাপেনি। তখন আমার ভেতরে একটা ধারণা জন্মালো যে, ওই পাতায় বোধহয় কেবল তাদের পরিচিত লেখকদের লেখাই ছাপানো হয়। একবছর অপেক্ষার পর ১৯৬৫ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসে আমার লেখাটি ছাপা হয়, তখন আমার ভুল ভাঙে। এরপরে আমাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি- গল্প, কবিতা থেকে শুরু করে একের পর এক লেখা আমার ছাপা হতে থাকে।

আমার প্রথম আধুনিক কবিতা ছাপা হয় পাকিস্তান সরকার প্রকাশিত ‘পরিক্রম’ নামে একটি পত্রিকায়। পত্রিকাটির সম্পাদক ছিলেন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। তার কাছে একদিন কবিতা দিতে গিয়ে তাকে পেলাম না। না পেয়ে তার অফিসের বাক্সের ভেতরে কবিতাটি দিয়ে এলাম। পরের মাসে কবিতাটি ছাপা হয়। তখন একটা আত্মবিশ্বাস জন্মে, বোধহয় আমি লিখতে পারবো।

প্রিয়.কম: প্রথম লেখা ছাপায় নিশ্চয় উত্তেজনা ছিল?
অসীম সাহা: আমরা তখন বাবার চাকরিসূত্রে মাদারীপুরের বাসিন্দা। মাদারীপুর শহরে সে সময় একজন লেখক ছিলেন, তিনি শুধু গল্পই লিখতেন। তিনিই প্রথম আমাকে খবর দেন যে আমার লেখা ছাপা হয়েছে। তখন সেই পত্রিকার দাম ছিল ২০ পয়সা আর পত্রিকা অফিসে আসা-যাওয়ার রিকশা ভাড়া ছিল চার আনা চার আনা আট আনা। আমি আট আনা খরচ করে পত্রিকা কেনার জন্য গিয়েছিলাম। সেই পত্রিকা হাতে নিয়ে গোটা শহর ঘুরে বেড়িয়েছিলাম। সবাইকে ডেকে ডেকে বলেছিলাম, এই দেখো আমার লেখা ছেপেছে, আমি লেখক হয়েছি। সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছিলেন আমার মা। তার উচ্ছ্বাসটা ছিল দেখার মতো।

প্রিয়.কম: লেখালেখির পাশাপাশি নিশ্চয় আপনার একটা কর্মজীবন ছিল বা আছে, সে সম্পর্কে জানতে চাই।
অসীম সাহা: মাদারীপুর শহরে থাকার সময়ই আমার কর্মজীবনের শুরু। তখন লেখালেখির পাশাপাশি সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে আমি যুক্ত হই। সেখানে ‘লহরী’ বলে আমাদের একটি সঙ্গীত ও আবৃত্তির দল ছিল। আমি সে দলের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলাম। মাদারীপুর শহরে ‘লহরী’র সঙ্গে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে গান গেয়ে বেড়াতাম। সেটা বড় আনন্দের সময় ছিল। ঢাকায় আসার পর আমার নতুন জীবন শুরু হল। জীবন-জীবিকার জন্য আমাকে অনেক বেশি সংগ্রাম করতে হয়েছে।

ঢাকায় আমি বিভিন্ন পত্রিকায় সাংবাদিকতাও করেছি। ১৯৭৫ সালে সাংবাদিকতা জীবনে আমি বেকার হয়ে যাই। আমার জীবনধারণ বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। তখন আমি একটা প্রবন্ধের বই নিয়ে মুক্তধারায় যাই, সেই প্রবন্ধের বইয়ের বিনিময়ে কিছু টাকা পেয়েছিলাম। সেটাই ছিল আমার প্রথম প্রকাশিত বই। ১৯৮২ সালে বের হয় আমার প্রথম কবিতার বই। আমার ভেতরে সব সময় একটা প্রতিজ্ঞা ছিল কোনোকিছুর সঙ্গে আমি আপস করব না। এক্ষেত্রে আমার বাবা হচ্ছেন আমার আদর্শ। মিথ্যে কথা বলা, অসততা করা, অশোভন আচরণ করা, নিষ্ঠা থেকে সরে আসা- এ কাজগুলো আমি কখনো করিনি। কেউ কোনোদিন বলতে পারবে না আমি অসৎ পথে টাকা কামিয়েছি, আমার রক্তে এগুলো নেই। নিজের অজান্তে যদি কখনো করে থাকি, তার জন্য আমি সকলের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।

প্রিয়.কম:কবিতা কী? কবিতা কেন কবিতা নয়?
অসীম সাহা: এ প্রশ্নের উত্তর আজ পর্যন্ত কেউ দিতে পারেননি। পৃথিবীর কোনো কবি বলতে পারেননি কবিতা কী? একেক জন একেকভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। একজন কবি বলেছেন- ‘কবিতা হল আবেগের স্বতস্ফূর্ত বহিঃপ্রকাশ।’ কেউ কেউ বলেছেন, শব্দই হচ্ছে কবিতা। আবার কেউ কেউ বলেছেন- শব্দই ব্রহ্ম, ব্রহ্ম মানেই কবিতা। আসলে কেউ বলতে পারবে না অন্তর্গতভাবে অনুভূতির মধ্যে কী একটা অনুরণন তৈরি হয়, যার ফলে কবিতা তাতে ভর করে বা কবিতা তার মধ্যে আসে। কবিতা কিন্তু নির্মাণ করা যায় না। এটা ইট, কাঠ কিংবা পাথরের কোনো দালান নয়। এটা অনুভূতির ব্যাপার, ফলে কবিতাকে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। আমি যদি কবিতাকে আমার মতো ব্যাখ্যা করি সেটা পূর্ণতা পাবে না। কবিতা সম্পর্কে চূড়ান্ত কথা বলা সহজ নয়।

প্রিয়.কম: আপনার কি মনে হয় প্রকৃত কবি হতে গেলে কারও আনুকূল্যের প্রয়োজন হয়?
অসীম সাহা: আমি মনে করি, না। আমি মনে করি, কবি নিজেই একটা প্রতিষ্ঠান। কবি কারও দ্বারা অনুপ্রাণিত হতে পারেন না। যদি হন, তিনি কবি নন। কবি কারও সহায়তা নিতে পারেন; কিন্তু আনুকূল্য নিতে পারেন না। একজন কবিকে নিজেকেই তার কবিতা সৃষ্টি করতে হয়। আমি কাউকে পাঠ করে নিজের ভেতরে কবিতার বীজ তৈরি করতে পারি; কিন্তু সেটা স্বতন্ত্র হবে, কাউকে অনুকরণ করে নয়।

প্রিয়.কম: ‘সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি’- জীবনানন্দের এই উক্তির সঙ্গে আপনি কতটা সহমত?
অসীম সাহা: তিনি সত্যি কথাই বলেছেন, তবে আমি একটু উল্টো দিক দিয়ে আসি। আসলে সকলেই কবি, তবে যারা প্রকৃতভাবে প্রকাশ করতে পারেন তারাই হচ্ছেন ‘কেউ কেউ’। একজন রিকশাওয়ালা যখন খুব ‍নিভৃতে গান গাইতে গাইতে যান, তার মনের ভিতর কী অনুভূতি জাগ্রত হয় আমরা তা জানি না। হয়তো দেখা যাবে গ্রামের কোনো একজন কৃষক, যিনি হয়তো সামান্য লেখাপড়া জানেন তার মনের মধ্যে দুটো লাইন গুণ গুণ করছে, তিনি হয়ত কোথাও লিখে রাখলেন বা তুলে রাখলেন। কাউকে পেলে তিনি দু-এক লাইন শোনালেন। অতএব ভেতরে ভেতরে একটা কবিতা, অন্তর্লীন স্রোতের মতো প্রবহমাণ হতে থাকে। আর সে অনুভূতিকে খুব শৈল্পিকভাবে যিনি রূপায়িত করতে পারেন, তিনিই কবি।

এখন প্রশ্ন আসতে পারে- শৈল্পিকভাবে উপস্থাপনা কীভাবে করে। যেমন পূজোর সময় হাজার হাজার প্রতিমা নির্মাণ করা হয়। একেকটার চেহারা একেক রকম। এর কোনোটার সঙ্গে কোনোটার মিল নেই। এই প্রতিমাগুলো শুধু মাটি, খড় এবং বাঁশের কাঠামো ছাড়া কিছুই নয়। কিন্তু যখন একজন পুরোহিত তার পূজো করা শুরু করেন, তখন তার মধ্যে প্রাণপ্রতিষ্ঠা হয় বলে তার ভক্তরা মনে করেন। কবিকেও ওই শব্দ এবং বাক্যের কাঠামোর মধ্যে প্রাণ নির্মাণ করতে হয়, তাহলে সেটাই কবিতা হয়। সেই প্রাণ নির্মাণ করতে সবাই পারেন না, কেউ কেউ পারেন। সে জন্যেই জীবনানন্দ দাশ বলেছেন, ‘সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি’।

প্রিয়.কম: সাহিত্য সৃষ্টির ক্ষেত্রে কোন বিষয়টা সবচেয়ে বেশি জরুরি?
অসীম সাহা: জীবন এবং মানুষ। এর বাইরে কোনো কিছু নেই। এই যে প্রকৃতির কথা বলছি, নদী, পাহাড়, পর্বত যা কিছুর কথাই বলছি-মানুষের জীবন বা অস্তিত্ব না থাকলে কি এগুলো আমরা বলতে পারতাম? যে জীবনের কথা কবি বলেন, সেটা যখন অনেকের জীবনের সঙ্গে মিলে যায় তখন একজন কবির লেখার সার্থকতা।

প্রিয়.কম: জীবনের জন্য শিল্প, নাকি শিল্পের জন্য শিল্প- আপনি কী মনে করেন?
অসীম সাহা: চিরকাল একটা দ্বন্দ্ব চলে এসেছে- ‘জীবনের জন্য শিল্প’ নাকি ‘শিল্পের জন্য শিল্প’। যারা প্রগতিশীল তারা বলছেন, ‘জীবনের জন্য শিল্প’ আর যারা কলাকৈবল্যবাদী তারা বলছেন ‘শিল্পের জন্য শিল্প’। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, জীবনের জন্য শিল্প হলেও, শিল্পের জন্য শিল্প হতে কোনো বাধা নেই। কারণ আমি যদি জীবনকে ধারণ করি এবং তাতে শিল্প নির্মাণ করি তাহলে তো সেটা শিল্পই হয়ে উঠল। এই দ্বন্দ্বটা হলো মূলত রাজনেতিক, শৈল্পিক কোনো দ্বন্দ্ব এখানে নেই। যারা রাজনীতি করেন, যারা কূটনীতি করেন, তারাই এইসব বিভাজন তৈরি করেন। জীবন এবং মানুষের বাইরে শুধু কবি কেন, কোনো স্রষ্টারই কোনো অবস্থান নেই, ভূমিকাও নেই।

প্রিয়.কম: কবির জীবনে পুরস্কার প্রাপ্তি কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
অসীম সাহা: আমি যেবার বাংলা একাডেমি পুরস্কার পাই, মঞ্চে দাঁড়িয়ে অনেকেই বলেছিলেন এই পুরস্কার প্রাপ্তিতে তারা অনুপ্রাণিত হয়েছেন, এই পুরস্কার আগামী দিনে লেখালেখিতে তাদের অনেকটাই অনুপ্রাণিত করবে। আমি মঞ্চে গিয়ে বলেছিলাম, যারা এ কথা বলেছেন আমি তাদের সঙ্গে একেবারে একমত নই। যারা মনে করেন পুরস্কার দ্বারা কোনো লেখক বা কবি অনুপ্রাণিত হতে পারেন, আসলে তারা কোনো লেখকই নন। লেখক উৎসাহিত হতে পারেন; কিন্তু লেখককে নিজের মধ্যে নিজেকে অনুপ্রাণিত হতে হয়, যদি না হয় তার পক্ষে কবি হওয়া সম্ভব নয়। অন্যের দ্বারা অনুপ্রাণিত হলে সেটা সহায়তা হয়, প্রেরণা হয় না। সহায়তা আর প্রেরণা এক জিনিস নয়, এটি অন্তর্গত ব্যাপার।

প্রিয়.কম: এখন যারা পুরস্কার পান, তাদের অধিকাংশই রাজনৈতিক কারণে –এ রকম একটা বিতর্ক সাহিত্য জগতে বেশ প্রচলিত। সাহিত্যের এ দিকটাকে আপনি কীভাবে দেখেন?
অসীম সাহা: সাহিত্য পুরস্কার নিয়ে সর্বত্রই একটা মূল্যবোধহীনতার জায়গা তৈরি হয়েছে। এমনকি নোবেল পুরস্কার নিয়েও। আমাদের দেশের সাহিত্যে সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কার- বাংলা একাডেমি পুরস্কার। এটা আমার বক্তব্য নয়, সকলেই বলে যে এই পুরস্কারের মানটা কমে গিয়েছে। অর্থাৎ যে পদ্ধতিতে পুরস্কারটা দেওয়ার কথা, সেটার অনুপস্থিতি লক্ষণীয়।

যারা বাংলা একাডেমির নমিনি থাকেন তাদের একটা ফর্ম দেওয়া হয়। সেই ফর্মে নমিনি যাকে সমর্থন করছেন তার জীবনপঞ্জি দিতে হয়। তার কর্মজীবন বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করতে হয় এবং কেন নমিনি তাকে সমর্থন করছেন, কী যোগ্যতায় সমর্থন করছেন সেগুলো উল্লেখ করতে হয়। এই নমিনি যারা হন, তাদের কাছে বিভিন্ন লেখক-কবি তদবির করেন। যারা নমিনি বা বিচারক তাদের নাম তো সর্বোচ্চ গোপনীয়তায় থাকার কথা, তাদের নাম প্রকাশ হয় কী করে? যেহেতু বিচারকদের নাম আগেই প্রকাশিত হয় তাই পুরস্কারের আশায় তাদের কাছে বিভিন্ন ব্যক্তি যান এবং তদবির করেন। সেই নামগুলো নিশ্চয় বাংলা একাডেমির কারো না কারো দ্বারা প্রকাশিত হয়।

আমি দু’বার নমিনি ছিলাম, আমার কাছে তদবিরের জন্য অনেকেই এসেছেন। আমি যে নমিনি হয়েছি সেটা তো আমি কাউকে জানাইনি, তাহলে লোকে জানলো কী করে? নিশ্চয় বাংলা একাডেমির কেউ নামটি প্রকাশ করেছেন। যদি বাংলা একাডেমি সেটা করে থাকে তবে তারা অপরাধ করেছে, অন্যায় করেছে। যিনিই বিচারক হোন না কেন, তার নাম কেউ জানবে না- এটাই নিয়ম। আমি বলছি না, বাংলা একাডেমির পরিচালক নাম প্রকাশ করছেন, তবে কেউ না কেউ এটার সঙ্গে জড়িত। এখন বিচারের আগেই যদি বিচারকের নাম প্রকাশিত হয়, বিচার তো সেখানে প্রভাবিত হবেই। রাজনৈতিক আনুকূল্য নেই তা বলব না, সব সরকারের আমলেই কম বেশি এ ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলে। যারা প্রভাবিত হয়ে পুরস্কার প্রদান করেন কিংবা সুপারিশ করেন সেটা তাদের মানসিক দীনতা। যাকে প্রভাবিত করার পাঁয়তারা করা হবে তিনি যদি এটা প্রতিহত করার ক্ষমতা রাখেন তবে পুরস্কার যোগ্য ব্যক্তিই পাবেন। আমি মনে করি, শামসুজ্জামান (বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক) ভাই খুব কর্মঠ লোক, তিনি নিজেও একজন লেখক। বাংলা একাডেমির পুরস্কারের মান রক্ষার্থে তাকে কঠিন গোপনীয়তা বজায় রাখার পদক্ষেপ নিতে হবে।

প্রিয়.কম: আপনার সমসাময়িক কবি-সাহিত্যিকরা অনেক আগেই বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেলেও, আপনি পেয়েছেন কিছুটা বিলম্বে। এটার কোনো বিশেষ কারণ ছিল কি?
অসীম সাহা: সেটা তো আমি বলতে পারবো না। তবে আমার একটা প্রতিজ্ঞা ছিল, এখনো আছে- জীবনে আর যাই হোক, তদবির করে আমি পুরস্কার নেব না। আমি সেটি করিওনি। বাংলা একাডেমি পুরস্কার পাওয়ার পরে আমি মঞ্চে উঠে বলেছিলাম, ‘আজকের পুরস্কার প্রাপ্তিতে আমি মোটেও আনন্দিত নই, উচ্ছ্বসিত নই, মোটেও উল্লসিত নই। আমি প্রতিজ্ঞা করেছিলাম তদবির করে পুরস্কার  নেব না- সে জায়গায় আমি জয়ী হয়েছি, আমার আনন্দ সেখানে, পুরস্কার প্রাপ্তিতে নয়।’

এ রাষ্ট্রে এখন সত্য কথা বলে নির্বোধেরা, আমি সেই নির্বোধদের একজন। আমি নির্বোধই থাকতে চাই। তাতে আমার কোনো দুঃখ নেই। আমি আমার বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ, সত্যের পক্ষ আমাকে সবসময়ই নিতে হবে। এই বিবেককে আমি কোনো অবস্থাতেই বিসর্জন দিতে পারবো না। আমার হয়তো কোনো সম্পদ নেই, আমার একটাই সম্পদ আছে- আত্মসম্মানবোধ। কোনোকিছুর বিনিময়ে সেটি আমি হারাব না।

প্রিয়.কম: আমাদের দেশে এমন অনেক কবি-লেখক আছেন যাদের লেখা আন্তর্জাতিকমানের বড় পুরস্কার পাওয়ার দাবি রাখে। এ ধরনের পুরস্কার না পাওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় প্রতিকূলতা কী বলে আপনি মনে করেন?
অসীম সাহা: অনুবাদের অভাব। বিশ্বের সামনে তো আমাদের সাহিত্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে তারপর না পুরস্কার। রবীন্দ্রনাথ যখন নোবেল পুরস্কার পান, তাকে উপস্থাপন করেছিলেন ইয়েটস। তিনি গীতাঞ্জলি নিয়ে বিশ্বসভায় তুলে ধরেছিলেন যে এই দেখো, ভারতের এক কবির লেখা। এরপরেই না রবীন্দ্রনাথ পুরস্কার পেয়েছেন। আমাদের অনেকেই ভাবেন সুইডেন পর্যন্ত যদি কোনোভাবে যাওয়া যায় তাহলে বোধহয় তার নোবেল পুরস্কার নিশ্চিত। যেন নোবেল পুরস্কার তাদের জন্য বসে আছে, তারা গেলেই পেয়ে যাবেন। বিশ্ব দরবারে পৌঁছুতে আমাদের সাহিত্য সঠিকভাবে অনুবাদ এবং উপস্থাপন প্রয়োজন।

প্রিয়.কম: রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে যোগ্য ব্যক্তির বড় অভাব। গণগ্রন্থাগার, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রসহ সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে শিল্পমনস্ক ব্যক্তি বা যোগ্য লেখকদের নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন বলে অনেকেই মনে করেন- এক্ষেত্রে আপনার মতামত কী?

অসীম সাহা: এই দেশে শিক্ষিত-সচেতন এবং শিল্পমনস্ক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যদি আমলাদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে না পারেন তাহলে যোগ্য লোক কখনো আসবেন না। গণগ্রন্থাগার, শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমির মতো জায়গায় এক সময় ছিলেন কবীর চৌধুরী, সরদার জয়েনউদদীন-এর মতো ব্যক্তিত্ব। আজকে যারা আছেন, বইয়ের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক নেই। হয়তো পাঠ্যপুস্তক ছাড়া কোনো কিছু তারা ধরেননি। শুধু বিসিএস পাস করেছেন কিংবা রাজনৈতিক কারণে যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও তাকে মহাপরিচালক বানানো হয়। একজন গান গাইতে পারেন বলে কিংবা কবিতা লেখেন বলেই তো আর তাকে শিল্পকলা একাডেমি বা বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক বানিয়ে দেওয়া যায় না। গান গাওয়া এবং কবিতা লেখার পাশাপাশি একটি প্রতিষ্ঠান চালানোর মতো ক্ষমতা এবং যোগ্যতাও তার থাকতে হবে। এগুলো না মানার কারণে এবং চুনোপুটি আমলাদের আধিপত্যের কারণে আমাদের চোখের সামনে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ধসে পড়ছে।

এদেশে মন্ত্রণালয়ের একজন পিয়নের যে শক্তি ও ক্ষমতা আছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটা প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালকেরও সে ক্ষমতা বা শক্তি নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সংস্কৃতিমনা, তিনি এ বিষয়গুলো জানেন, দেখেন, বোঝেন। কিন্তু তার পক্ষে সবসময় সবদিক দেখা সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী এবং কর্মকর্তাদেরই এ দায় নিতে হবে। প্রকৃতপক্ষে, তাদের ব্যর্থতার সুযোগ নিয়েই অনেকে কিছু অসৎ-অযোগ্য লোক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করছে।

প্রিয়.কম: সমকালীন বাংলা কবিতা এবং সাহিত্য নিয়ে আপনার অভিমত কী?
অসীম সাহা: এখন আমাদের সাহিত্য, বিশেষ করে কবিতা এবং গল্প যে জায়গায় আছে, তা কিন্তু পৃথিবীর সমান্তরাল জায়গায় যাওয়ার পথে ধাবিত হচ্ছে। এর সঙ্গে আমাদের রাষ্ট্র, সমাজ, জীবনযাপনের পদ্ধতি, অর্থনীতি সবকিছু জড়িত। যখন আমার এই দেশে সংস্কৃতি বিকশিত হবে, অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে, জীবনযাপনের মাত্রা বদলে যাবে তখন স্বাভাবিকভাবে আমরা বিশ্বের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারবো। অসমমাত্রিক পাল্লা কখনো হয় না। আমি দুর্বল একটা মানুষ, সবল একটা মানুষের সঙ্গে আমার প্রতিযোগিতা করা সম্ভব নয়। ইউরোপে যেমন ত্রিশ দশকের কবিরা কবিতাই দিয়ে ছুঁয়েছিল সমৃদ্ধির শিখর, সে জায়গা থেকে আমরা একটু পিছিয়ে আছি। আমার বিশ্বাস এ জায়গার পরিবর্তন হবে। আামাদের দেশে অনেক ভালোমানের কবি-সাহিত্যিক আছেন। তাদের সৃষ্টিকর্ম যদি ভালোভাবে অনুবাদ হয়, বিশ্ব দরবারে পৌঁছায় তবে আমরা পৃথিবীর সমান্তরাল স্থানে অবশ্যই পৌঁছুতে পারবো।

আমাদের আরেকটা বড় প্রতিবন্ধকতা- আমরা বড্ড বেশি পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্যের মুখাপেক্ষী হয়ে আছি। আমরা ভাবি আমাদের সাহিত্য বোধহয় ওদের তুলনায় দুর্বল। এ ধারণাটা একদমই ঠিক নয়। আমাদের পাঠকরাও বেশ হীনমন্যতায় ভোগেন, তারা ভাবেন পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্য পড়ে যে আনন্দ পাওয়া যায়, আমাদের সাহিত্যপাঠে বোধহয় সেটির অভাব। কিন্তু এদেশেই তো হুমায়ূন আহমেদ তার লাখ লাখ পাঠক তৈরি করেছিলেন। সেটা কীভাবে করেছিলেন? তার মধ্যে নিশ্চয় এমন কিছু উপাদান ছিল, যেটা পাঠককে আকর্ষণ করে। এ জায়গা থেকে আমরা ধ্রুপদী সাহিত্যের দিকে ধীরে ধীরে এগুতে পারতাম; কিন্তু প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে আমাদের সমাজ এবং রাষ্ট্র। এত সামরিক শাসন পৃথিবীর কোন দেশে আছে, পাকিস্তান ছাড়া? আমরা গণতন্ত্রের চর্চা করতে পারছি না, মুক্ত সাহিত্যচর্চাও করতে পারছি না। সংস্কৃতি মানে তো কেবল নাচ-গান না, একজন মানুষের ভেতরকে আলোকিত করাও সংস্কৃতি। সেই জায়গায় আমাদের বড় বেশি দুর্বলতা রয়ে গেছে।

প্রিয়.কম: রাষ্ট্র, সমাজ এবং সংস্কৃতির প্রতি কবির কী ধরনের দায়বদ্ধতা রয়েছে?
অসীম সাহা: কবির অনেক দায়বদ্ধতা আছে। রাষ্ট্র, সমাজ তো জীবনের বাইরে নয় কিংবা জীবনও এর বাইরে নয়। জীবন কোনো বায়বীয় বিষয় নয়। এ রাষ্ট্রের ভূ-খণ্ডে থেকেই আমি বাংলাদেশি। এ রাষ্ট্রের প্রতি আমার দায়বোধ অনেক বেশি এ জন্য যে আমরা বহু রাষ্ট্র থেকে পিছিয়ে আছি। এখানে নিরন্ন মানুষ, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ, দরিদ্র মানুষের সংখ্যাই বেশি। এই রাষ্ট্রে থেকে, এই সমাজে বাস করে, এই মানুষগুলোর দিকে দৃষ্টিপাত না করে আমরা কী কলাকৈবল্যবাদী শিল্প রচনা করতে পারি?

যে জীবনের বাইরে কোনো স্বপ্ন নেই, যে জীবনের বাইরে জীবন নেই, সেই জীবনকে তাহলে আমরা কীভাবে রূপায়িত করবো? ’৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, ’৯০-এর স্বৈরাচার পতনের আন্দোলন- সবকিছুতেই কতিপয় আঁতাতকারী ছাড়া এ দেশের কবিদের ধারাবাহিকভাবে বিরাট ভূমিকা ছিল। আমাদের দেশের কবিরা কিন্তু এ দায়িত্বগুলো অতীতেও পালন করেছেন, আগামীতেও করবেন। দুঃখের বিষয় যারা স্বাধীনতা সংগ্রামে শত্রুপক্ষের সঙ্গে আঁতাত করেছিল তারাই আজ হালুয়া-রুটির ভাগ নিচ্ছে।

প্রিয়.কম: এক সময় পত্রিকার সাহিত্যপাতার ভার ছিল আহসান হাবীব, রোকনুজ্জামান খান, রণেশ দাশগুপ্ত, সিকানদার আবু জাফর কিংবা আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, আবু হাসান শাহরিয়ারের মতো বাঘা বাঘা ব্যক্তিদের ঘাড়ে। এ প্রজন্মের সাহিত্যপাতা সম্পর্কে আপনার অভিমত কী?
অসীম সাহা: আমি আমার বই ‘কবিতা-টবিতা নিয়ে কিছু কথা’য় এ প্রসঙ্গে লিখেছি। ব্যতিক্রম কিছু বাদ দিলে সাহিত্যপাতার ভার এখন ‘ভাঁড়’দের হাতে আছে। তারা না বোঝে সাহিত্য, না বোঝে সংস্কৃতি। আমাদের খুব দুর্ভাগ্য যে আমাদের পত্রিকাগুলোর মালিকানা এখন মাফিয়াচক্রের হাতে চলে গেছে। সাহিত্যপাতার মর্যাদা এখন আর নেই বললেই চলে। দেশের প্রচারবহুল বাংলা দৈনিকগুলোর সাহিত্যপাতা হলো নিকৃষ্ট। যারা পুরস্কার দেন, বড় বড় কথা বলেন, ‘হে ফেস্টিভাল’ করেন, তাদের পাতাটি হাতে নেওয়ার যোগ্যই নয়।

কে এই পাতাগুলোর দায়িত্বে আছেন? কেউ একজন কালকে গ্রাম থেকে উঠে এসে কয়দিন টিএসসি-আজিজ মার্কেট ঘোরাঘুরি করেছেন তাকে তারা পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে বলছেন সাহিত্যপাতা দেখে দিতে। এভাবে তো সাহিত্য হয় না। এখন সাহিত্য নিয়ন্ত্রণ করছে সব মাস্তানরা। এ কথা বলার জন্য যদি আমাকে কালকে শাহবাগে হত্যা করা হয়, আমি একদমই অবাক হবো না। অযোগ্যদের হাতে দায়িত্ব দিয়ে, সাহিত্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রবীণ ব্যক্তিত্ব যারা, তাদের আজ সাহিত্যপাতার সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে দিচ্ছে। এর চেয়ে লজ্জার আর কী হতে পারে! সাহিত্য নিয়ে এ রকম করুণা আর কোনো জাতি করেনি।

প্রিয়.কম: আগে সাহিত্য সম্পাদকরা কবি-লেখকদের কাছে লেখা চাইতেন, জোরপূর্বক লেখা আদায় করে নিতেন। কিন্তু এখন লেখকরা লেখা ছাপানোর জন্য সাহিত্য সম্পাদকদের তোষামোদ করতে হয়- এ পার্থক্যটা কেন সৃষ্টি হয়েছে?
অসীম সাহা: খুব বিখ্যাত একটা কথা আছে, “জ্ঞানীরা যেখানে যেতে ভয় পান, মূর্খরা সেখানে ঝাঁপিয়ে পড়ে।” মূর্খদের তো অন্য কোনো বিকল্প নেই, যদি যোগ্যতার বিচার করা হয় তাহলে তাদের লেখা ছাপা হবে না। অতএব সাহিত্য সম্পাদকের বাজার করে দিয়ে, তার বাচ্চাকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে এখনকার লেখকরা নিজের লেখা ছাপেন। কারণ সে তো লেখা নিয়ে যাচ্ছে না, লেখা নামের কিছু শব্দ ভাণ্ডার নিয়ে যাচ্ছে ছাপানোর জন্য।

প্রিয়.কম: কবিতার জগতে বেশ কয়েক বছর ধরে ‘আধুনিকতা’ এবং ‘উত্তরাধুনিকতা’ নিয়ে একটি বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে- সে বিতর্ককে আপনি কীভাবে দেখছেন?

অসীম সাহা: উত্তরাধুনিকতার সূত্রপাত হয়েছিল ফরাসি দেশে। উপন্যাসে এবং ভাস্কর্যের মধ্যে কেউ কেউ তার আভাস দেখতে পেয়েছেন আজ থেকে ১০০ বছরেরও বেশি আগে। জে স্পিঙ্কলার এবং বুলার নামে দুই ভদ্রলোক সর্বপ্রথম উত্তরাধুনিকতা নিয়ে গবেষণা করতে থাকেন। আধুনিকতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে তারা বলেন, ‘আধুনিকতার দিন শেষ, অনন্ত উত্তরাধুনিকতার মুখোমুখি আমরা।’ তারা যে ধারণা তৈরি করেন তার স্বপক্ষে আধুনিকতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে উত্তরাধুনিকতার কতগুলো সংজ্ঞা তারা নির্ধারণ করেন। অর্থাৎ আধুনিকতা যা পূরণ করতে পারেনি, উত্তরাধুনিকতা সেটা পূরণ করতে পারবে। পৃথিবীর মানচিত্র, যন্ত্রসভ্যতা সবকিছু মিলিয়ে পৃথিবীর মধ্যে একটা ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে গেছে, সে পরিবর্তনের ছোঁয়া এখানে দরকার। কিন্তু তারা সারা পৃথিবীতে এমন কোনো পরিবর্তন করতে পেরেছেন কী যা মানুষের চিন্তাধারায় তোলপাড় সৃষ্টি করেছে, যেটা আধুনিক কবি বদলিয়্যারের হাত ধরে, তাদের সৃষ্টির মধ্য দিয়ে সম্ভব হয়েছিল? হয়নি। তাদেরই অনুসরণ করে পশ্চিমবঙ্গে সত্তর দশকে দুটি আন্দোলন হয়েছিল, ‘হাংরি আন্দোলন’ এবং ‘শ্রুতি আন্দোলন’।

অমিতাভ গুহের নেতৃত্বে শক্তি চট্টোপাধ্যায়, তপনরায় চৌধুরী, মলয়রায় চৌধুরী, অঞ্জন সেন, উজ্জ্বল কুমার সিংহসহ অনেকেই একটি গোষ্ঠী গড়ে তুলেছিলেন। এরা প্রাতিষ্ঠানিকতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে একটা নতুনধারা সৃষ্টি করতে গিয়ে তাদের জেল খাটতেও হয়েছে। সত্তর দশকে তারা উত্তরাধুনিক কবিতার পক্ষে যে চেষ্টাটা করেছেন, সেটা লিখে প্রমাণ করতে পারেননি। আধুনিক কবিতাকে অতিক্রম করতে পারেননি বলে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে তারা যার যার মতো চাকরি নিয়ে এ জগৎ থেকে নির্বাসন গ্রহণ করেছেন। তার অনেক বছর পরে এসে বাংলাদেশে নতুন প্রজন্মের কবিরা সে চেষ্টা করছেন কিন্তু তারাও লিখিতভাবে উত্তরাধুনিক কবিতার প্রমাণ দেখাতে পারছেন না। তারা অনুকরণ করছেন আমেরিকাকে, বাংলার শিকড়ের কোনো সন্ধান সেখানে নেই। যার ফলে উত্তরাধুনিকতা আজো প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারেনি।

প্রিয়.কম: ৬০-৭০ দশকে উত্তাল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আপনার কবি জীবনের ভূমিকা কী ছিল?

অসীম সাহা: ১৯৬২ সালে প্রথম আমি আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে ছাত্রলীগের মিছিলে অংশ নিই। ’৬০ ও ’৭০ দশকে প্রতিটা আন্দোলন আমি আমার লেখার মাধ্যমে এনেছি। এখন প্রায়ই আমি মজা করে বলি, তখন যদি কবিতার জগতে না এসে সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতাম তাহলে কে জানে আজকে হয়তো আমি মন্ত্রী থাকতাম।

আমার ভাগ্য ভালো যে, আমি রাজনীতির জগতে থাকিনি। আমি অনেকদিন আগে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম- আমার মন্ত্রী হওয়ার খায়েশ হয়েছে। কেউ যদি আমাকে প্রশ্ন করে এতো কিছু রেখে কেন আমার মন্ত্রী হবার খায়েশ জন্মালো- আমি বলবো, কীভাবে চোর, বদমায়েশ, বাটপার, ঘুষখোর, দুর্নীতিবাজ হওয়া যায় সেটা শেখার জন্যে আমি মন্ত্রী হতে চাই। ওইটুকু শেখার পরে আমাকে মন্ত্রিসভা থেকে বের করে দেবে আমার তাতে আপত্তি নেই। আমি তো মন্ত্রী হতে চাই না, আমি শুধু দেখতে চাই ওই পদে বসে মানুষ কীভাবে ওগুলো করতে পারে।

প্রিয়.কম: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক বার্তায় আপনি লিখেছিলেন- ‘আমার পক্ষে আর যাই হোক, মূর্খ কবিতা কিংবা অকবিতা লেখা সম্ভব নয়’- কোন ধরনের কবিতাকে আপনি মূর্খ বা অকবিতা বলছেন?

অসীম সাহা: কবিতাকে আমি দুটি ভাগে ভাগ করেছি। একটা হচ্ছে বিশুদ্ধ কবিতা। বিশুদ্ধ কবিতা সেগুলোই যেগুলো শিল্পমান বজায় রেখে লেখা হয়। যেটা পৃথিবীর কবিতার সঙ্গে পাল্লা দিতে পারে এবং ঐতিহাসিকভাবে আমাদের সাহিত্যের যে পরম্পরা তার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে একটা উচ্চতর মানে পৌঁছুতে পারে। আর আরেক ধরনের কবিতা হলো শব্দের কসরত, শুধু বয়ান করে যাওয়া অর্থাৎ বর্ণনামূলক কবিতা। এ বর্ণনামূলক কবিতা আসলে কবিতা নয়, এগুলো হচ্ছে পদ্য। আমি ঠাট্টা করে এ ধরনের কবিদের নাম দিয়েছি ‘বয়াতি কবি’। কবিতার মধ্যে শিল্পের যে গভীরতর উপস্থিতি, শিল্পের যে দর্শন, যে পুরাণ, শিল্পের যে মিথ এসব মিলে যে বিশাল ভাণ্ডার তৈরি হয় তা এই বর্ণনামূলক কবিতায় অনুপস্থিত। সেগুলোকে আমি অ-কবিতা বলছি।

প্রিয়.কম: এক সময় অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের বেশ সুনাম ছিল, সাম্প্রতিক সময়ে ধর্মীয় সংঘাত, মৌলবাদ, জঙ্গিবাদের উত্থান লক্ষণীয়। এ ধরনের অস্থিরতা মোকাবেলার উপায় কী?

অসীম সাহা: আমি এটা নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত নই। চিন্তিত নই এই কারণে, জঙ্গিবাদের উত্থান তো হবেই, সারা বিশ্বে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটেছে। জঙ্গিবাদকে লালন করছে কারা? শিকড়টা কোথায়? যারা জঙ্গি হিসেবে ধরা পড়ছে তারা তো কেবল ডালপালা। শিকড় তো অন্য কেউ। সেই শিকড় উৎপাটনে কাজ কে করবে? আজকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ক্ষমতায় আছে। আমি জানি কাজটা সহজ নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। তিনি স্বাধীনতাবিরোধী এবং বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফাঁসি দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন- তিনি পারেন। তিনি একা কতটা করবেন? একা কতটা পথ তিনি পাড়ি দেবেন? তিনি একটা জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ডের মধ্যে বসে আছেন। দক্ষিণ এশিয়ায় তার মতো ঝুঁকিপূর্ণ জীবন আর কারও নেই। এই ঝুঁকিপূর্ণ জীবন নিয়ে সারা দুনিয়ার বিরুদ্ধে তিনি একা দাঁড়িয়ে লড়ছেন। তার আশেপাশে যারা আছে, তারা নেত্রীকে শেষ করে দেবার জন্য যা যা অশুভ কাজ করা দরকার, সব করছে।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল কি কেবল ডালিমরা? খন্দকার মোশতাকরাও সেখানে জড়িত ছিল। আজও খন্দকার মোশতাকরা শেখ হাসিনার পাশে রয়েছে। নেত্রীকে তাদের সম্পর্কে সবার আগে সচেতন হতে হবে। যদি তিনি তা না হন, তবে আবার যদি এ রাষ্ট্রে কোনো বিপর্যয় ঘটে, বিস্মিত হওয়ার কিছুই থাকবে না। সারা বিশ্বেই ধর্মভিত্তিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। কেউ যদি ভেতর থেকে অসাম্প্রদায়িকতা লালন না করে তাহলে সাম্প্রদায়িকতা বন্ধ করা সম্ভব নয়। এগুলো বন্ধে অসাম্প্রদায়িকতার পক্ষ নিতেই হবে, এখানে কোনো চালাকি চলবে না। আমার দুর্ভাগ্য আমি একজন হিন্দুর ঘরে জন্মেছি, কিন্তু কই আমি তো কখনো নিজের ভেতরে সাম্প্রদায়িকতার বীজ থেকে বিষবৃক্ষ জন্মাতে দিইনি। ধর্মটাকে ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে নিয়ে যেতে হবে, রাষ্ট্রীয় জায়গায় রাখলে চলবে না। রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম বা হিন্দু হলে চলবে না। আপনি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের কথা বলবেন অথচ রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম করবেন, সেটা তো হতে পারে না। বাঙালি জাতির ঐতিহ্য হচ্ছে অসাম্প্রদায়িকতার ঐতিহ্য। সে ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে, তাহলেই একমাত্র এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব।

প্রিয়.কম: ২০১০ সালে ময়মনসিংহে বাংলাদেশ ও ভারতের কবিদের এক কবিতা পাঠের আসরে ভারতের কবিদের উদ্দেশে আপনি বলেছিলেন, “এদেশে মুসলমানের অত্যাচারে হিন্দুরা ভালো নেই।” সে খবর আপনি দিল্লিতে পৌঁছিয়ে দিতে বলেছিলেন বলে অভিযোগ আছে। সেই বক্তব্যকে অনেকেই সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক মন্তব্য মনে করেন। এ প্রসঙ্গে আপনার বক্তব্য কী?

অসীম সাহা: আমি এ ধরনের কোনো বক্তব্য সেখানে দিইনি। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচার। আমি সেখানে বরং ৩৪ জন ভারতীয় কবির বিরুদ্ধে একা আক্রমণ করেছিলাম। সেই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়ে আমি দেখলাম সেখানে কবির তুলনায় অকবির সংখ্যাই বেশি। যার নেতৃত্বে ওই কবিদের আনা হয়েছে তাকে আমি কবি মানি; কিন্তু বাকি যারা এসেছেন তারা কবি হিসেবে কেউই গণ্য নন। আমি মঞ্চে গিয়ে বলেছিলাম, ‘আমি জানতাম নারীর দালালরা বিভিন্ন জায়গা থেকে নারী সংগ্রহ করে পাচার করে; কিন্তু কবিরা যে পাচার হয় সেটা জানতাম না। পশ্চিমবঙ্গের এক কবি দেখছি অকবিদের পাচার করে বাংলাদেশে এনেছেন, এটা আমাদের জন্য লজ্জাজনক। কলকাতা থেকে কবি এলে আমি তাদের প্রণাম করবো; কিন্তু অকবি এলে আমি তাকে আক্রমণ করবোই।” কলকাতার কবিরা সেখানে দাঁড়িয়ে সেটার প্রতিবাদ করেছিলেন, বলেছিলেন বাংলাদেশে ডেকে এনে তাদের অপমান করা হয়েছে। আমি তো হিন্দু-মুসলমান প্রসঙ্গে একটি কথাও সেখানে উচ্চারণ করিনি। এটা যারা বলেছে তারা সাম্প্রদায়িকতা কাকে বলে জানে না। অসীম সাহা সারা জীবনে একটিও সাম্প্রদায়িক শব্দ উচ্চারণ করেনি, করবেও না। আমি তো নিজের গোত্রেই বিশ্বাস করি না, পরজন্মেও আমার বিশ্বাস নেই, আমার লেখাতেই বারবার আমি অসাম্প্রদায়িকতার কথা বলেছি- আমি কী করে সাম্প্রদায়িক মন্তব্য করতে পারি?

আমার বড় পুত্রবধূ মুসলিম। আর কারোর প্রয়োজন নেই, আমার বউমা-ই সাক্ষ্য দেবে অসীম সাহা সাম্প্রদায়িক কিনা, আমার ঘরে সে কেমন আছে। যারা আমার সম্পর্কে এসব বলছে তাদের আরেকবার জন্ম নিতে হবে এ কথা বলতে।

প্রিয়.কম: আপনাদের সময় লেখায় এক ধরনের মেসেজ থাকতো। আপনারা সাহিত্য জগতে নতুন বাঁক সৃষ্টি করতে পেরেছিলেন; কিন্তু এখন এতো এতো কবি-লেখক থাকার পরও সাহিত্যে কেন নতুন কোনো বাঁক সৃষ্টি হচ্ছে না?

অসীম সাহা: আমরা যখন লিখেছি তখন আমাদের সামনে একটা লক্ষ্য ছিল, একটা আন্দোলন ছিল দেশকে স্বাধীন করার। এখন তো কোনো ভিশন নেই, আমাদের কোনো নেতা নেই, কোনো স্বপ্ন নেই। স্বপ্ন যখন হবে তখনই লেখায় নতুন বাঁক তৈরি হবে।

প্রিয় সাহিত্য/গোরা 

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
ময়নাপাখি
জাকির সোহান ১৫ জুলাই ২০১৮
নিশির কীর্তন
মো: আলী আহাম্মেদ আমান ০৯ জুলাই ২০১৮
কেমুসাসের ১০০০ তম সাহিত্য আসর অনুষ্ঠিত
কেমুসাসের ১০০০ তম সাহিত্য আসর অনুষ্ঠিত
দৈনিক সিলেট - ১ দিন, ১৭ ঘণ্টা আগে
নৃত্য কবিতা আর গানে ’বর্ষা মঙ্গল’
নৃত্য কবিতা আর গানে ’বর্ষা মঙ্গল’
বাংলা নিউজ ২৪ - ২ দিন, ৫ ঘণ্টা আগে
রাঙামাটিতে সাহিত্য আসর | কালের কণ্ঠ
রাঙামাটিতে সাহিত্য আসর | কালের কণ্ঠ
কালের কণ্ঠ - ২ দিন, ১৩ ঘণ্টা আগে
সাহিত্য চর্চা হৃদয়কে বদলে দেয়: মিলন
সাহিত্য চর্চা হৃদয়কে বদলে দেয়: মিলন
বাংলা নিউজ ২৪ - ২ দিন, ২০ ঘণ্টা আগে
পল্লী সাহিত্য | আয়োজন
পল্লী সাহিত্য | আয়োজন
ইত্তেফাক - ৩ দিন, ১৪ ঘণ্টা আগে
ট্রেন্ডিং