উদ্ধারকৃত জাল টাকা। ছবি: প্রিয়.কম

জাল ১ লাখ টাকা বিক্রি হয় ১৫ হাজারে

বড় কোন উৎসব যেমন ঈদ বা দুর্গাপূজা ইত্যাদি অনুষ্ঠানকে টার্গেট করে তারা ঢাকা শহরে বিভিন্ন জায়গায় তাদের সহযোগীদের মাধ্যমে জাল টাকা সরবরাহ এবং বিক্রয় করে।

জনি রায়হান
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮ জুন ২০১৮, ১৯:৫৬ আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০১৮, ২০:৩২
প্রকাশিত: ০৮ জুন ২০১৮, ১৯:৫৬ আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০১৮, ২০:৩২


উদ্ধারকৃত জাল টাকা। ছবি: প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ১ কোটি জাল টাকা জব্দ ও টাকা তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা আসন্ন ঈদ উপলক্ষে দেশের বাজারে প্রায় অর্ধকোটি জাল টাকা ছাড়ার পরিকল্পনা করেছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। 

৮ জুন শুক্রবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার দেবদাস ভট্টাচার্য

দেবদাস ভট্টাচার্য জানান, ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা উত্তর বিভাগের একটি টিম রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদেরকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলেন, রফিক, জাকির, হানিফ, রাজন, শিকদার ওরফে রাজা, খোকন ওরফে শাওন, রিপন, মনির, সোহরাব, লাবনী। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রায় ১ কোটি জাল টাকার নোট ও জাল টাকা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

জাল টাকা ও টাকা তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামসহ গ্রেফতার ১০। ছবি: প্রিয়.কম

জাল টাকা তৈরির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে দেবদাস ভট্টাচার্য জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, জাল টাকার তৈরির মূলহোতা গ্রেফতারকৃত রফিক প্রথম জীবনে নোয়াখালী ছগির মাস্টার নামক এক ব্যক্তির সহযোগী হিসেবে জাল টাকা তৈরি করত। এক পর্যায়ে সে নিজেই সরঞ্জামাদি ক্রয় করে রাজধানীর কদমতলী থানাধীন পূর্ব জুরাইন বৌ-বাজার এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে জাল টাকা তৈরির কার্যক্রম শুরু করে। সে তার অন্যতম সহযোগীদেরকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কদমতলীসহ ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় বাসাভাড়া নিয়ে জাল টাকার ব্যবসা করে আসছিল।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, বড় কোন উৎসব যেমন ঈদ বা দুর্গাপূজা ইত্যাদি অনুষ্ঠানকে টার্গেট করে তারা ঢাকা শহরে বিভিন্ন জায়গায় তাদের সহযোগীদের মাধ্যমে জাল টাকা সরবরাহ এবং বিক্রয় করে আসছিল।

উৎপাদন ও বিক্রির বর্ণনা দিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার দেবদাস ভট্টাচার্য বলেন, ‘১ লাখ টাকা তৈরি করতে খরচ হয় প্রায় ১০ হাজার টাকা, তা পরবর্তীতে পাইকারী বিক্রেতার নিকটে ১ লাখ টাকা ১৪ থেকে ১৫  হাজার টাকায় বিক্রয় করে।পরে পাইকারী বিক্রেতা প্রথমে খুচরা বিক্রেতার নিকট বিক্রয় করে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। প্রথম খুচরা বিক্রেতা দ্বিতীয় খুচরা বিক্রেতার নিকট বিক্রয় করে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকায় এবং দ্বিতীয় খুচরা বিক্রেতা মাঠ পর্যায়ে সেই টাকার সমমূল্যে অর্থাৎ আসল ১ লক্ষ টাকায় বিক্রয় করে।

মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা বিভিন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য বা দ্রবাদি ক্রয়ের মাধ্যমে এই জাল নোট বাজারে বিস্তার ঘটায়। আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল্-ফিতর উপলক্ষে এই চক্র বাজারে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা ছাড়ার পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা এসব স্বীকার করেছে।,

প্রিয় সংবাদ/হিরা/কামরুল

  

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...