(প্রিয়.কম) অভিনয়শিল্পী অর্চিতা স্পর্শিয়া। অল্প সময়ের ক্যারিয়ারে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করেছেন। আপন কক্ষপথে হেঁটে অনেকটা পথ পাড়ি দিয়েছেন। সুনামও কুড়িয়েছেন। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরেই ব্যক্তিজীবনে আনুষ্ঠানিকভাবে বেজে চলছে বিচ্ছেদের সূর! গত ২১ আগস্ট রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কাজী অফিসে তার স্বামী নির্মাতা রাফসান আহসানের সঙ্গে তার ডিভোর্সের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। আর সে খবর গতকাল প্রথম গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এরপরই শোবিজ অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে হইচই পড়ে যায়। আজ ২৫ সেপ্টেম্বর দুপুরের পর সংসার জীবন, বিচ্ছেদ, আর নতুন দিনগুলোর জন্য আগামীর পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রিয়.কমের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।

প্রিয়.কম: আপনাদের (স্পর্শিয়া-রাফসান) বিচ্ছেদ হয়ে যাওয়ার পর বেশ কয়েকটি দিন অতিবাহিত হয়ে গিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে আপনার দু’পক্ষই নিরবতা অবলম্বন করেছেন, এরপর হঠাৎ করেই কেন?

অর্চিতা স্পর্শিয়া: সেটা আমারও প্রশ্ন। আমিও বুঝে উঠতে পারিনি। কেন এমন করেই বিষয়টি ঘটল। এর বাইরে আমার আর কিছুই বলার নেই।

প্রিয়.কম: দুই বছরের সংসার জীবন, বন্ধুত্ব, প্রেম তারপর বিয়ে। এরপর হঠাৎ কী এমন ঘটল যে আপনারা এ ধরনের সিদ্বান্তে একমত হলেন?

অর্চিতা স্পর্শিয়া: দুই বছরের সংসার নয়। এক বছরের সংসার আমাদের। তার আগে তিন মাসের পরিচয়। কোন প্রেম ছিল না। আর এই সিদ্বান্ত হঠাৎ করে নিইনি। আমরা গত বছর থেকেই আলাদাই আছি। এবং তখনই সিদ্বান্ত নিই আমি। ও (রাফসান) একটু দেরী করে সম্মতি প্রদান করেছে। আর এই বিচ্ছেদের কারণ টানতে চাই না। আর বলতেও চাই না। কিছু অবশ্যই কারণ ছিল যেটা আমাকে বাধ্য করছে এরকম একটা বড় সিদ্বান্ত নেওয়ার পেছনে।

প্রিয়.কম: স্যাক্রিফাইস কিংবা কম্প্রোমাইজে গিয়ে পারিবারিক বিষয়গুলো কী ঠিক করা যেত না?

অর্চিতা স্পর্শিয়া: স্যাকরিফাইস কিংবা কমপ্রোমাইজে আমরা ১ বছর ছিলাম। এরপর আমার দ্বারা আর হচ্ছিল না। সব মেনে নেওয়া গেলেও যে মা আমাকে এত কষ্ট করে একা বড় করেছে, তাকে কেউ নোংরাভাবে যুক্তি ছাড়া কোন গালি দেবে, সেটা আমি মানব না।

প্রিয়.কম: আপনার মা বলেছেন, ‘বিয়ে বিচ্ছেদের পেছনে তো অবশ্যই বড় কারণ রয়েছে।’ সে বড় কারণটি কী?

অর্চিতা স্পর্শিয়া: বড় কারণ ছোট কারণ জানি না কিন্তু কারণ তো ছিলই। যেগুলো বলে ওকে ছোট করতে চাই না।

প্রিয়.কম: আপনি কী মনে করেন, জীবনসঙ্গী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আপনার সে সময়কার সিদ্বান্ত ভুল ছিল?

অর্চিতা স্পর্শিয়া: হুমম। এর বাইরে আর কিছুই বলার নেই এখন। 

প্রিয়.কম: আপনার সাবেক স্বামী রাফসান বলেছেন, ‘এখনো আমরা দুজন দুজনকে ভালোবাসি। কিন্তু চারপাশের কিছু মানুষের কারণে বিষয়টি জটিল হয়ে গেছে। সংসারের মধ্যে তৃতীয় ব্যক্তি ঢুকেছিল। এরপরই ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত নেই’। সে তৃতীয় পক্ষ বলতে কাকে বুঝিয়েছে, আপনি নির্দিষ্ট করে বলবেন কী?

অর্চিতা স্পর্শিয়া: ভালবাসা ছিল না বলব না। অবশ্যই ছিল না হলে সেই এক বছর একসঙ্গে থাকা তো সম্ভব হত না। কিন্তু তৃতীয় ব্যক্তির জন্য ডিভোর্স হয়নি। ও (রাফসান) যাকে তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে বুঝছে সে আমার মা। রাফসানের বেকারত্ব নিয়ে আমার মায়ের অভিযোগ ছিল। যেটা থাকাও স্বাভাবিক। এবং রাফসান মনে করে আমার মায়ের জন্যই আমাদের সম্পর্কটা খারাপ হয়েছে। কিন্তু আমার ডিভোর্স চাওয়ার পিছনে মা ছাড়াও আরও অনেক কারণ রয়েছে।

প্রিয়.কম: সে কারণগুলো কী বলা যাবে?

অর্চিতা স্পর্শিয়া: থাক না বিষয়গুলো, আর কথা বাড়াতে চাই না। সে বিষয়গুলো টেনে কাউকে ছোটও করতে চাই না।

প্রিয়.কম: সামনের দিনগুলোর জন্য আপনার ব্যক্তিজীবনের পরিকল্পনা কী?

অর্চিতা স্পর্শিয়া: আর জীবনেও বিয়ে করব না। কানে ধরছি!

প্রিয়.কম: তবে কী আর প্রেমও করবেন না?

অর্চিতা স্পর্শিয়া: আপতত না। নতুন সম্পর্কে যেতে আমার সময় প্রয়োজন। আর প্রেম বলে কয়ে আসে নাকি? দেখা যাক।

প্রিয়.কম: আপনার বিচ্ছেদের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত যে ধরনের প্রতিক্রিয়া পাচ্ছেন, আপনি কী সেটা আগে থেকেই অনুমান করতে পেরেছিলেন, আর বাস্তবতা কী? আপনার প্রতিবেশিরা কীভাবে দেখছে?

অর্চিতা স্পর্শিয়া: আমি ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা বলতে কখনই আড়ামবোধ করি না। আর খেয়াল করলে দেখবেন আমি ফেসবুকেও ব্যক্তিগত কিছু শেয়ার করি না। কিন্তু এক দিন না একদিন এ বিষয় নিয়ে সবার সামনে আমাকে কথা বলতে হবে জানতাম, কিন্তু এখনই প্রস্তুত ছিলাম না। কিন্তু এখন সব ঠিক আছে। আর আমি আগে থেকেই একটু চুপচাপ থাকতে ভালোবাসি।

মানুষ আমাকে চিনবে, জানবে, কথা বলবে, আর আমাকে দেখবে আমার কাজ দিয়ে। আর একজন তারকা হিসেবে আমার ব্যক্তিগতজীবনকে নিয়ে আগ্রহ থাকটাও স্বাভাবিক। কিন্তু আমি ভাগ্যবান। কেউ আমাকে বিষয়টি নিয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। আর রাফসানের বিষয়টা আরও আগে থেকেই সবাই জানত। তাই কেউ অবাক হচ্ছে না। বরং এমনও ম্যাসেজ পেয়েছি, যেখানে লেখা রয়েছে, খুব ভাল সিদ্বান্ত নিয়েছো।

প্রিয়.কম: সিনেমায় অভিষেক হলো কিছুদিন আগে, সেটির কী খবর?

অর্চিতা স্পর্শিয়া: সিনেমাটির শুটিং চলছে। ওভাবে বলার মত এখন নতুন কোন খবর নেই। সময় হলে জানাব। তবে এটুকু বলতে পারি যতটুকু শুটিং হয়েছে, বেশ ভাল কাজ হয়েছে।

প্রিয়.কম: আর অন্যান্য কাজের খোঁজ খবর কী?

অর্চিতা স্পর্শিয়া: খুব ভাল গল্প, চরিত্র ছাড়া নাটক করব না। আর সিনেমা দেখা যাক কী হয়। সর্বশেষ ‘শ্যাওলা’ করে খুব ভাল সাড়া পেয়েছি।

প্রিয়.কম: এখন সময় কাটছে কীভাবে?

অর্চিতা স্পর্শিয়া: কাজে ফেরার জন্য একটু প্রস্তুতি নিচ্ছি। এই আর কি। বাসাতেই আছি।

প্রিয়.কম: আপনি কী খুব একটা উচ্চাকাঙ্ক্ষী নন?

অর্চিতা স্পর্শিয়া: না, আমি তো শুধু অভিনয়টা করতে চাই। পৃথিবী ঘুরে দেখতে চাই। জীবনে সুখি হতে চাই। নিজের মত নিজে থাকতে চাই। এর বাইরে আমার খুব একটা চাওয়া নেই।

প্রিয়.কম: ফুরিয়ে যাওয়ার ভয় আছে আপনার?

অর্চিতা স্পর্শিয়া: শিল্পীরা কখনও ফুরিয়ে যায় না। আমি তো নিজেকে স্টার মনে করি না। তাই আমার পড়ে যাওয়ার ভয় নাই। আমি শিল্পী, আমি অমর।

প্রিয়.কম: ইন্ডাস্ট্রিতে কী আপনার নতুন কোন বন্ধু হয়েছে নাকি যার সঙ্গে সব শেয়ার করতে পারেন?

অর্চিতা স্পর্শিয়া: হ্যাঁ। তাসনুভা তিশা, নাফা, নাদিয়া, সাফা কবির এরা আমার খুব ভাল বন্ধু।

প্রিয়.কম: সর্বশেষ প্রশ্ন-গুঞ্জন রটেছে, টিভি পর্দার এক নির্মাতার প্রেমে মজেছেন?

অর্চিতা স্পর্শিয়া: না, টিভি পর্দার কোন নির্মাতার প্রেমে মজিনি। (হা, হা, হা)

প্রিয়.কম: প্রিয়কে সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।

অর্চিতা স্পর্শিয়া: প্রিয়কেও।

প্রিয় বিনোদন/গোরা