(প্রিয়.কম) হাসিবুল ইসলাম বাপ্পী, ভালোবাসেন ঘুরে বেড়াতে। ছাত্রজীবনে টিউশনির টাকা বাঁচিয়ে, চাকরি জীবনে বেতন থেকে বাঁচিয়ে ছুটে যেতেন প্রকৃতির কাছে। এক সময় এভাবেই টাকা বাঁচিয়ে কিনেছেন শখের সাইকেল। সেই থেকে এই দুই চাকাই তার সাথী।

দূরের পথে পকেটে রাখেন ম্যাংগো বার আর স্নিকার্স। সাইকেলে ভর করে ইতোমধ্যে ঘুরেছেন দেশের ৬৪ জেলা। সাইকেলেই ছুঁয়েছেন দার্জিলিংয়ের কালিম্পং চূড়া। তার সাথে গল্প হয় প্রিয়.কম ট্রাভেলের। তুলে ধরছি মজার সেই আড্ডার কথা-

আপনার ভ্রমণের অনুপ্রেরণা কার কাছ থেকে পেলেন?

ছোটবেলা থেকেই আমার বাসায় অনেক বই ছিল। সেই বইগুলো আমি পড়তাম। এই বই পড়ার সময় থেকেই ভ্রমণের বইগুলো আমাকে বার বার অনুপ্রাণিত করতে থাকে। আমি এই বইগুলো পড়তে পড়তে নিজের ভেতরে হারিয়ে যেতাম। আমার সবসময় মনে হতো, যে জায়গাগুলো সম্পর্কে পড়তে এত ভালো লাগে সেগুলো সামনা-সামনি দেখতে কতটা সুন্দর হতে পারে? এই সুন্দরকে নিজের চোখ উজাড় করে দেখতে শুরু করলাম। দেখার অপূর্ব আনন্দানুভূতি আমাকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় টেনে নিয়ে যায়।

কবে থেকে ভ্রমণ শুরু করলেন?

২০১৩ সাল থেকে আমি সাইকেলে বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ শুরু করি। ২০১৪ সালের ৬ নভেম্বর টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানীর কবর জিয়ারতের মাধ্যমে সাইকেলে ৬৪ জেলা ভ্রমণের উদ্দেশে ভ্রমণ শুরু করি।

তারপর কি একা একাই ৬৪ জেলা ভ্রমণ করলেন?

সবসময় না। ১৬ ডিসেম্বরকে সামনে রেখে ২০১৪ সালের ১১ ডিসেম্বর আমি কিছু বন্ধুর সাথে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া একটা ক্রস-কান্ট্রি সাইকেল ভ্রমণ করেছি। আর এরপর এক বছরে বিভিন্ন সময়ে কিছু বন্ধুর সাথে আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই একা এক এক করে ৬৪টি জেলাতেই ভ্রমণ করতে থাকি। ২০১৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর ভোলা জেলায় যাওয়ার মধ্য দিয়ে আমার সাইকেলে ৬৪ জেলা ভ্রমণ অভিযান শেষ হয়।

৬৪ জেলায় ভ্রমণের সময় আপনি কোথায় থাকতেন

ভ্রমণের সময় আমি সাধারণত সরকারি ডাক বাংলো আর সার্কিট হাউজগুলোতেই বেশি থাকতাম। তবে এর বাইরেও বিডি সাইক্লিস্ট এর বিভিন্ন সদস্যদের বাসায় বা হোস্টেলেও থাকি। আমি সচরাচর হোটেলে থাকি না। 

বাপ্পিসাইকেলে ৬৪ জেলা ভ্রমণের ফাঁকে মুজিবনগর। 

৬৪ জেলা ভ্রমণ ছাড়া আপনি আর কোথায় কোথায় ভ্রমণ করেছেন?

দেশের বাইরে ভারত, প্যারিস, জার্মানি ও সুইজারল্যান্ডে আমি সাইকেলে ভ্রমণ করেছি। আর ৬৪ জেলা বলতে আসলে জেলা শহরে ভ্রমণের চাইতে গ্রামে আর প্রত্যন্ত অঞ্চলে ভ্রমণ করতেই বেশি পছন্দ করি।

৬৪ জেলায় সাইকেলে কি আপনি কোনো দলের সাথে ভ্রমণ করেছেন?

সাইকেলে আমি সাধারণত একা ভ্রমণ করি। আর বাকি সময়ে বিডি সাইক্লিস্ট এবং আরও কিছু ছোট ছোট দলের সাথে ভ্রমণ করে থাকি।

জেলাগুলোতে ভ্রমণের সময় কি নিরাপত্তার অভাব বোধ করেছেন?

না, আমি একা ভ্রমণের ক্ষেত্রে তেমন অনিরাপদ কখনোই বোধ করি না। অনেকেই বলে থাকেন ঢাকার বাইরে গ্রামে গঞ্জে একা ভ্রমণ নিরাপদ না। কিন্তু আমি তাদের সাথে একমত না। আমি বরং ঢাকা থেকে বের হতে পারলেই অনেক বেশি নিরাপদ বোধ করি। ঢাকার এই শহুরে মানুষের চাইতে শহরের বাইরের মানুষের আচরণ আমার কাছে অনেক বেশি আন্তরিক লাগে। পাশাপাশি আমি বলব যে রাজধানীর বাইরের পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও অনেক বেশি আন্তরিক। 

bappiসাইকেলে ৬৪ জেলা ভ্রমণের এক পর্যায়ে আনারসের দেশ মধুপুরে

আপনার ভ্রমণের স্বপ্নে কি কি বাঁধা রয়েছে বলে মনে করেন?

আমাকে ভ্রমণের ক্ষেত্রে জীবনের বিভিন্ন সমেয়ে ভিন্ন ভিন্ন বাঁধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। প্রথমত আগেই বলেছি যে আমি অনেক ছোট বেলা থেকে ভ্রমণ করার জন্য অনুপ্রাণিত হয়েছি। কিন্তু আমি ছোট থাকায় তখন বাসা থেকে ভ্রমণে যাবার জন্য অনুমতি পেতাম না। তারপর যখন আমি ঢাকায় আসলাম পড়াশোনার জন্য তখন আমি ভ্রমণের সুযোগ অনেক পেলেও বেশিরভাগ সময়ে ক্লাস, পরীক্ষা এসব কারণে সময় পেতাম না। চাকরি জীবনে আসার পর ছুটি না পাওয়াও একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও আমার মনে হয় ভ্রমণের জন্য অন্যদের চাইতে বেশি ছুটি পাই।

ভ্রমণ নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্যে প্রথমত আরো অনেক অনেক জায়গা ভ্রমণের ইচ্ছা আছেই। পাশাপাশি আছে বিভিন্ন জায়গায় করা ভিডিওগুলো দিয়ে একটি ইউটিউব ব্লগ তৈরি করা। কারণ আমার কাছে মনে হয় ছবিতে বা বইয়ে অনেক কিছুই বোঝানো যায় না, যা ভিডিওর মাধ্যমে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

৬৪ জেলা তো ভ্রমণ করলেন, বাংলাদেশের মানুষ আসলে কেমন?

আমি মানুষের সাথে মিশতে খুব ভালবাসি। এজন্য আমার ট্রিক্স হলো, আমি যখন সাইকেল নিয়ে সারা দেশে ঘুরে বেড়াই তখন নিজের সাথে পানি রাখি না। পানি চাইতে গেলে কিছু কথা হয়, কিছু বিষয় জানা যায়। আমার অভিজ্ঞতায় বাংলাদেশের মানুষ অসাধারণ আন্তরিক। এতো আন্তরিক আর অতিথিপরায়ণ মানুষ খুব কম দেশেই আছে। এক কথায় এই দেশের মানুষেরা আসলে ভালো মানুষ।

সাইকেলে ভ্রমণের আরো অনেক রেকর্ড গড়ার স্বপ্ন আছে বাপ্পীর। শুধু দেশে নয়, দেশের বাইরেও অনেক ঘুরে বেড়াবেন তিনি। ছোট ছোট কিছু ভিডিও তৈরি করেছেন বিভিন্ন জায়গার। সেগুলো নিয়েও কিছু কাজ করার ইচ্ছে আছে তার। এই ভিডিওগুলো আরো বিশদভাবে তুলে ধরবে তার ভ্রমণকে, সেইসব জায়গার প্রকৃত রূপকে। শুভ কামনা বাপ্পীর জন্য।

 

সম্পাদনাঃ প্রিয় ট্রাভেল/ জিনিয়া/আরএ

প্রিয় ট্রাভেল সম্পর্কে আমাদের লেখা পড়তে ভিজিট করুন আমাদের ফেসবুক পেইজে। যে কোনো তথ্য জানতে মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। ভ্রমণ বিষয়ক আপনার যেকোনো লেখা পাঠাতে ক্লিক করুন এই লিংকে - https://www.priyo.com/post