(প্রিয়.কম) অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি। সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সেই বাল্যকাল থেকেই আনাগোনা তার। স্বপ্ন দেখতেন বড় অভিনেত্রী হবেন। সেই স্বপ্ন অধরা থাকেনি, ধরা দিয়েছে পরিপূর্ণভাবেই। ২০০৫ সালে ‘আয়না’ সিনেমায় অভিনয় করে অভিষেকেই দর্শক হৃদয়ে পাকাপোক্ত স্থান করে নিয়েছেন এ পর্দাকন্যা। এর আগের বছর লাক্স-আনন্দধারা ফটোজেনিক প্রতিযোগিতায় সেরা দশে ছিলেন জ্যোতিকা।

এছাড়াও নন্দিত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের রচিত ‘নন্দিত নরকে’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। স্বল্পদৈর্ঘ্যেও রয়েছে তার পদচারণা। যারা জ্যোতিকা অভিনীত স্বল্পদৈর্ঘ্য ‘ব্রেক আপ’ দেখেছেন, তাদের কাছে জ্যোতির অভিনয় দক্ষতা নিয়ে নতুন করে কিছু বলতে হয় না। এ তো গেল চলচ্চিত্রের কথা। নাটকেও তার অভিনয় শৈলী মুগ্ধ চোখে দেখেছে নাট্যপ্রিয় দর্শক। প্রথম নাটক অনন্ত হীরার 'স্বপ্নের পাঠশালা'। অবশ্য আলোচনার তুঙ্গে ঠাই পেয়েছেন 'মোহনা' ধারাবাহিকে অভিনয় করে। এছাড়াও জ্যোতি অভিনীত আরও কিছু ধারাবাহিক নাটক হচ্ছে- পালাবার পথ নেই, কলেজ রোড, আপন আপন খেলা, রঙ্গিলা এবং গৃহদাহ। রবী ঠাকুরের নাটকেও তার অভিনয় অনন্য।

বাদ যায়নি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত নাটকও। রবী ঠাকুরের 'সম্পত্তি সমর্পণ' ও 'দৃষ্টিদান' এবং কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিগিরি', 'এক কুঠরী দুই দরজা' ছাড়াও ধারাবাহিক নাটক 'চতুর্ভূজ', 'রাতের গল্প', 'শেষ অধ্যায়', 'পিছুটান', 'দহন' ইত্যাদিতে অভিনয় করেছেন অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি। বাদ যায়নি উপস্থাপনাও। ২০১৩ ‘ভ্যালেন্টাইন স্পেশাল কমেডি আওয়ার’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উপস্থাপনায় যাত্রা শুরু করেন তিনি। আজ তার সঙ্গে কথা হলো আসন্ন দুর্গা পূজা বিষয়ে। অভিনেত্রী জ্যোতিকার ছোটবেলার পূজার মজার স্মৃতি, ব্যতিক্রমী স্মৃতি, এবারের পূজার কেনাকাটা, গত বছরের পূজার স্মৃতি, পূজার বিশেষ ভালোলাগা, দুর্গা মায়ের কাছে চাওয়া, পূজার আড্ডা ও বর্তমান ব্যস্ততা নিয়ে বর্ণীল করা হয়েছে আমাদের আজকের ‘পূজার স্মৃতি’র আয়োজন।

ছোটবেলার পূজার মজার স্মৃতিচারণ...

জ্যোতিকা জ্যোতি: এখনকার মতোই ছোট বেলার পূজাগুলো কাটতো। আমরা দু'বোন নতুন জামা পরে মণ্ডপে ঘুরতে যেতাম। আমি একটু দূরে দূরে থাকতাম, সেগুলো মনে পড়ে। ঘুম থেকে উঠে দু'বোন নতুন জামা পরতাম, সেই স্মৃতি মনে পড়ে। খাবার চুরি করে করে খেতাম ঘরে। মিষ্টি বা নাড়ু। চুরি করে খেলেও দু'বোন শেয়ার করে খেতাম না, আলাদা আলাদাই খেতাম। তখন আমি অনেক ছোট, স্কুলেও ভর্তি হইনি। বড় হওয়ার পর দু' তিন বছর আগে পূজা মণ্ডপে গিয়েছিলাম। টাঙ্গাইল ও মানিকগঞ্জের পূজা মণ্ডপে।

ব্যতিক্রমী স্মৃতি...

জ্যোতিকা জ্যোতি: আমি আমার মামার বাড়িতে বড় হয়েছি। তো, আমার যতদূর মনে আছে, আমি কিছুক্ষণের জন্য হারিয়ে গিয়েছিলাম মণ্ডপে গিয়ে। বেশিক্ষণের জন্য নয়। অল্প কিছু সময়ের জন্য হারিয়ে গিয়েছিলাম। আমি কান্না শুরু করে দিয়েছিলাম, কারণ তখন তো আমি অনেক ছোট। ভীষণ ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। অসহায়ের মতো এদিক ওদিক তাকিয়ে ছিলাম। কিছুক্ষণের মধ্যেই আমার পরিবারের লোকজন আমাকে খুঁজে পেয়েছিল।

গতবছরের পূজা...

জ্যোতিকা জ্যোতি: গত বছরের পূজায় ছিলাম কলকাতা। সেটা ছিল খুবই মজার।

এবারের পূজার কেনাকাটা...

জ্যোতিকা জ্যোতি: এবারের কেনাকাটা হয়ে গিয়েছে আগেই, কলকাতা থেকে করেছি। আর এখনও যেসব কেনাকাটা বাকি রয়েছে, সেগুলো কিনছি। কিছু গিফটও পাচ্ছি আমি। আমি আমার পরিবারের সবাইকেই কিছু না কিছু দেই। সেসব কেনাকাটা হচ্ছে আর কি।

পূজার ঠিক কোন বিষয়টি সবচেয়ে বেশি উপভোগ করেন...

জ্যোতিকা জ্যোতি: আসলে আমি ব্যক্তিগতভাবে পূজা করা কিংবা পূজা ফিল করা- এই ভাবনা নিয়ে অত গভীরে যেতেও চাই না, এবং সেটি আমি শেয়ারও করতে চাই না। কিন্তু আমি মানুষের আনন্দকে খুব উপভোগ করি। পূজার সময় যা যা করে মানুষ, ঘোরাফেরা করা, খাওয়া দাওয়া করা, মণ্ডপে নাচ-গান করা, ঢাকের শব্দ- সেগুলো। এবং বিসর্জনের সময় যেটা হয়, সেটা হচ্ছে আমি ম্যাক্সিমাম ময়মনসিংহেই থাকি। ময়মনসিংহ শহরে এবারও থাকব বিসর্জনের দিন। সেখানে অনেক প্রতিমা ব্রহ্মপুত্রে বিসর্জন দেওয়া হয়। সেই বিসর্জনের সময় ট্রাক ভর্তি হয়ে প্রতিমা আসে, বিসর্জন হয়। তখন তাদের সেই অনুভূতি, তাদের সেই ডেডিকেশন, মা চলে যাচ্ছেন, কান্না-কাটি করছেন অনেকে। আবার অনেক ছোট ছোট শিশুরা পানিতে নেমেই থাকে। ওরা বিসর্জনের পর পানিতে ভেসে যাওয়া বিভিন্ন ফুল বা অর্নামেন্টস- সেগুলো সংগ্রহ করে। ঘট বা ফলমূল- এসব সংগ্রহ করে। আমরা একবার নৌকা নিয়ে মাঝ নদীতে গিয়ে বসেছিলাম। তো, মানুষ যে এই উৎসবের সঙ্গে এত বেশি যুক্ত থাকে, এই বিষয়টিই আমার ভালো লাগে।

দুর্গা মায়ের কাছে এবারের চাওয়া...

জ্যোতিকা জ্যোতি: আমি যেটা চাইব সেটা মানুষ নামাজেও চায়, সকাল সন্ধ্যা পূজায়ও চায়। দুর্গা মায়ের কাছে যদি আলাদা করে চাই, তাও একই জিনিস চাইব। আমি চাই যে মানুষ শান্তিতে থাকুক। কারণ, অন্য মানুষ শান্তিতে না থাকলে আমিও থাকব না। আমার জন্য আলাদা করে কিছু চাওয়ার নেই। ভালো থাকতে চাই, সেটা সবাইকে নিয়েই।

পূজার আড্ডা...

জ্যোতিকা জ্যোতি: আমার এক ভাই দেশের বাইরে থাকে। ও এবার আসবে। এবার আমরা সব ভাইবোন একসঙ্গে হবো। সেটা আরও মজা হবে। এছাড়াও আমার নতুন ও পুরাতন বন্ধুদের সঙ্গে বরাবরই একটি গেট-টুগেদার হয়। সারা বছর যাদের সঙ্গে দেখা হয় না, পূজার সময় তাদের সঙ্গে দেখা হয়।

বর্তমান ব্যস্ততা...

জ্যোতিকা জ্যোতি: এই তো কিছু নাটক করছি। পূজার পরপরই আমার কিছু শুটিং নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যেতে হবে। কিছু সিনেমা করার কথা চলছে। এ বছরের শেষের দিকে অথবা সামনের বছর শুটিং শুরু হয়ে যাবে।

প্রিয় বিনোদন/সিফাত বিনতে ওয়াহিদ