(প্রিয়.কম) রাখাইন রাজ্যে নতুন করে সহিংসতা শুরুর পর প্রাণ বাঁচাতে প্রতিদিন হাজার হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমার ছেড়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। বিপদসংকুল নদী ও সমুদ্রপথে পাড়ি দিতে গিয়ে এ পর্যন্ত প্রায় অর্ধশত মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সেনা অভিযান থেকে বাঁচতে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসছে ‘দ্য ফিনিক্স’ নামে উদ্ধারকারী জাহাজ।

এই উদ্ধারকারী জাহাজের মাধ্যমে ২০১৪ থেকে ভূমধ্যসাগর হয়ে ইউরোপে পাড়ি দেওয়া অভিবাসীদের উদ্ধারের কাজ করে আসছে ‘দ্য মাইগ্র্যান্ট অফশোর এইড স্টেশন’ নামের একটি সংগঠন। এখন পর্যন্ত ভূমধ্যসাগর অঞ্চলে অন্তত ৪০ হাজার অভিবাসীকে সাগর থেকে উদ্ধার করেছেন তারা।

সংস্থাটি মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীদের বাঁচাতে মাল্টা থেকে তাদের উদ্ধারকারী জাহাজ ফিনিক্সকে পাঠাচ্ছেন বঙ্গোপসাগরে। মিয়ানমারের কাছে পৌঁছতে উদ্ধারকারী জাহাজটির প্রায় তিন সপ্তাহের মতো সময় লাগবে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, জাতিসংঘের পরিসংখ্যানই রোহিঙ্গাদের পাশে তাদের দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তে এনেছে।

প্রসঙ্গত, রোহিঙ্গা একটি নৃগোষ্ঠীর নাম যাদের শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ ইসলাম ও ১০ ভাগ হিন্দু ধর্মাবলম্বী। রোহিঙ্গাদের আদি আবাসস্থল মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য। শত শত বছর ধরে রাজ্যটিতে বাস করা রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের স্বীকৃতি না দিয়ে মিয়ানমার সরকার এ জাতিগোষ্ঠীকে নির্মূল করতে ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ চালাচ্ছে।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে গত ২৫ আগস্ট থেকে নতুন করে সেনা অভিযান শুরু হয়। এ অভিযানে এখন পর্যন্ত ৪০০ জনকে হত্যা এবং ২৬০০ ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার কথা শিকার করেছে দেশটির সেনাবাহিনী।

জাতিসংঘ বলছে, অক্টোবরের পর এ পর্যন্ত সব মিলিয়ে প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকেছে। প্রতিদিনই এ সংখ্যা বাড়ছে। 

এর আগে, জাতিগত দ্বন্দ্বের জেরে ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে দেশটির সেনাবাহিনীর চালানো একই রকম অভিযানে কয়েকশত রোহিঙ্গা নিহত হয়। জ্বালিয়ে দেওয়া হয় হাজারো ঘরবাড়ি।

ওই সময়ে দেশটির সেনা বাহিনীর বিরুদ্ধে হত্য-ধর্ষণ-অগ্নিসংযোগের মত গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে জাতিসংঘসহ মানবাধিকার সংগঠনগুলো। ওই অভিযানের বর্বরতায় বাধ্য হয়ে অন্তত ৮০ হাজার রোহিঙ্গা পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় গ্রহণ করে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

প্রিয় সংবাদ/আশরাফ