স্টিফেন হকিং আর নেই

বুধবার সকালে ইংল্যান্ডের ক্যামব্রিজে নিজ বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

কে এন দেয়া
সহ-সম্পাদক
১৪ মার্চ ২০১৮, সময় - ১০:০১

স্টিফেন হকিং। ছবি : সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) বিশ্বখ্যাত পদার্থবিদ স্টিফেন হকিং মারা গেছেন। তার পরিবারের মুখপাত্রের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান

১৪ মার্চ বুধবার সকালে ক্যামব্রিজে নিজ বাসভবনে মৃত্যু হয় তার। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৭৬ বছর। তার সন্তান লুসি, রবার্ট এবং টিম এক বিবৃতিতে এই খবর জানিয়েছেন।

এই বছর ৮ জানুয়ারি নিজের ৭৬তম জন্মদিনে পা রেখেছিলেন স্টিফেন হকিং। ২১ বছর বয়স থেকেই প্রাণঘাতী অ্যামিওট্রফিক ল্যাটেরাল স্ক্লেরোসিস (এএলএস) রোগে আক্রান্ত ছিলেন তিনি। এএলএস হলো একটি প্রগ্রেসিভ নিউরোডিজেনারেটিভ রোগ। রোগটি ধীরে ধীরে মস্তিষ্কের এবং সুষুম্নাকাণ্ডের স্নায়ুকোষ নষ্ট করে ফেলে। ফলে রোগী সময়ের সঙ্গে মোটোর ফাংশন হারায়, কিন্তু কগনিটিভ ফাংশন বজায় থাকে। অর্থাৎ সে নড়াচড়া করতে পারে না কিন্তু সুস্থ মানুষের মতো চিন্তা করতে পারেন। বেশির ভাগ এএলএস রোগী রেসপিরেটরি ফেইলিওরের কারণে মারা যান ডায়াফ্রাম মাসল কাজ করা বন্ধ করে দেওয়ার ফলে। অথবা খাবার গিলতে সাহায্য করা পেশী কাজ করা বন্ধ করে দেওয়ার ফলে পুষ্টিহীনতা ও পানিশূন্যতায় মারা যেতে পারেন।

এএলএস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, রোগটি ধরা পড়ার পর মাত্র অর্ধেক মানুষ তিন বছর বা তার বেশি সময় বাঁচেন। এর মাঝে ২০ শতাংশ বাঁচেন ৫ বছরের বেশি। আর ১০ বছরের বেশি বাঁচতে দেখা যায় মাত্র ১০ শতাংশ মানুষকে। স্টিফেন হকিং সেই রোগ নিয়েই বেঁচে ছিলেন পরবর্তী ৫২ বছর।

গত অর্ধ শতক তার জন্য সহজ ছিল না মোটেই। তিনি নিজের বেশিরভাগ পেশী ব্যবহার করতে অক্ষম হয়ে পড়েছিলেন। একটি মোটোরাইজড হুইলচেয়ারের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন তিনি। ১৯৮৫ সালে কথা বলার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন এবং কম্পিউটার সিস্টেমের সাহায্যে কথা বলতেন।

কিছুদিন আগেও একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তিনি, যা ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক চ্যানেলে প্রকাশিত হয় ৪ মার্চ।
এমন ভগ্ন স্বাস্থ্য এবং এবং প্রায় চলৎশক্তিহীন হওয়া সত্ত্বেও জ্ঞানচর্চায় কোন চেষ্টার ত্রুটি রাখেননি। গবেষণা চালিয়ে গেছেন নিরলস। মূলত ১৯৭০ সালে বিজ্ঞানী হিসেবে প্রথম বড় সাফল্য পান তিনি। তিনি এবং তার সহ-গবেষক রজার পেনরোজ দেখান, সিঙ্গুলারিটি তথা একটি মাত্র বিন্দু থেকেই বিগ ব্যাং এর সূত্রপাত এবং সেখানেই আমাদের মহাবিশ্বের জন্ম।

ব্ল্যাক হোল নিয়েই তিনি কাজ করতে থাকেন এবং ১৯৭৪ সালে কোয়ান্টাম থিওরি ব্যবহার করে জানান, ব্ল্যাক হোল তাপ নিঃসরণ করে এবং একটা সময় নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। মহাবিশ্বজুড়ে প্রচুর ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ব্ল্যাক হোল আছে, তাদের ভর কয়েক বিলিয়ন টন অথচ আকারে একটি পরমাণুর চাইতেও ছোট। এর পাশাপাশি থিওরি অব কজমিক ইনফ্লেশন, কোয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশন নিয়ে তার গবেষণা চলতে থাকে।

তবে তার সবচাইতে জনপ্রিয় কাজ ছিল ‘অ্যা ব্রিফ হিস্ট্রি অব টাইম’। ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত এই বইটি ২৩৭ সপ্তাহ ধরে সানডে টাইমস বেস্ট সেলার থাকার কারণে গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে ঠাঁই পায়। এখনো পদার্থবিদ্যার অন্যতম জনপ্রিয় একটি বই তার এই রচনা।

২০১২ সালে খ্যাতনামা গবেষকরা কেমব্রিজে জড়ো হন তার ৭০তম জন্মদিন উদযাপন করতে। তবে সে সময়ে তিনি অসুস্থ থাকায় এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেননি। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে মানবজাতিকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, মানুষকে অন্য গ্রহে বসবাসে উৎসাহ দিয়েছেন এবং পরিবেশ বিপর্যয়ের ব্যাপারেও করেছেন ভবিষ্যদ্বাণী।

ধর্ম নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্যের কারণে বারবার সমালোচনায় পড়েছেন হকিং। এমনকি গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের মৃত্যু নিয়েও তিনি কথা বলেছেন ২০১১ সালে। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘গত ৪৯ বছর ধরে মৃত্যুর অপেক্ষায় বেঁচে আছি আমি। আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না, কিন্তু খুব দ্রুত মরতেও চাই না। মৃত্যুর আগে আমি আরও অনেক কিছু করতে চাই।’

প্রিয় সংবাদ/গোরা 

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
জনপ্রিয়