ছবি সংগৃহীত

পোকেমন মাস্টার থেকে অনলাইন স্কুল মাস্টার

পোকেমন কার্টুন দেখতেন আর ভাবতেন বাড়ির পাশের ফুটবল মাঠটি হবে তার পোকেমন ব্যাটেল এর জন্য। আর তিনি হবেন সেই ব্যাটেলের পোকেমন মাস্টার।

এম. রেজাউল করিম
প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭ জানুয়ারি ২০১৭, ১০:০৭ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ০২:৩২


ছবি সংগৃহীত

আয়মান সাদিক। ছবি : ফেসবুক থেকে সংগৃহীত।

(প্রিয়.কম) ছোটবেলায় ‘পোকেমন’ কার্টুন সিনেমাটি তাঁর খুব প্রিয় ছিল। কার্টুন দেখতেন আর ভাবতেন বাড়ির পাশের ফুটবল মাঠটি হবে তাঁর পোকেমন ব্যাটেল এর জন্য। আর তিনি হবেন সেই ব্যাটেলের পোকেমন মাস্টার। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। পোকেমন মাস্টার হতে চেয়ে হয়ে গেলেন স্কুল মাস্টার তাও আবার অনলাইনে।

প্রিয়.কমের সাথে আলাপকালে এমনটাই জানিয়েছেন দেশের সবচেয়ে বড় ডিজিটাল বিদ্যালয় 'টেন মিনিট স্কুল' এর প্রতিষ্ঠাতা আয়মান সাদিক। প্রচণ্ড পরিমাণ ইতিবাচক মানসিকতার আইমান কোনো কিছুতেই অসন্তুষ্ট নন। বরং সবকিছুতেই ভালো কিছু, পজিটিভ কিছু খোঁজেন তরুণ এই উদ্যোক্তা।

আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যারিয়ার ক্যাম্পে কথা বলছেন আয়মান। ছবি : সংগৃহীত।

২০১৫ সালে আয়মান তৈরি করেন এই টেন মিনিট স্কুল। বর্তমানে টেন মিনিট স্কুল দেশের একমাত্র সাইট যেখানে শিক্ষার্থীদের জন্য নানা রকম টিউটোরিয়ালসের ১ হাজার ৪১১টি ভিডিও রযেছে। যেগুলো ৭০ লাখেরও বেশি বার দেখা হয়েছে। ২৮ হাজার ৪৫৫টি কুইজ ও মডেল টেস্টের মাধ্যমে অনুশীলন, নিজের অগ্রগতি সম্পর্কে ধারণা অর্জন, সহপাঠি ও অন্যদের সাথে নিজের অবস্থান যাচাইসহ ইন্টারনেটে নেই এমন খুঁটনাটি তথ্যগুলোও সহজে পেয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকের লাইভ ফিচার ব্যবহার করে প্রতিদিন লাইভ ক্লাসেরও ব্যবস্থা থাকছে এই স্কুলটিতে।

‘ব্র্যাক মন্থন ডিজিটাল ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ড’ ই-এডুকেশন, সায়েন্স অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট বিভাগে পুরস্কার জিতেছে টেন মিনিট স্কুল। ছবিঃ সংগৃহীত।

এই বিষয়ে আয়মান বলেন, আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং এ ক্লাস নিতাম তখন দেখতাম দেশের নানা প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা ঢাকায় এসে কোচিং এ ভর্তি হতো। আর এই সুযোগ লুফে নিয়ে অনেকেই শুরু করেছে কোচিং বাণিজ্য। শুধুমাত্র ভর্তির আশায় সারাদিন পড়াশোনা করে কোচিং এর পাশেই কোনো একটা মেসে থাকতো তারা। কী দুর্বিষহ জীবনযাপন। তারপরও পরীক্ষায় তেমন ভালো ফলাফল না আসায় ঝরে যাচ্ছে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী। এ তো গেলো যারা ঢাকায় আসতে পারে তাদের কথা, কিন্তু আর্থিক ঘাটতি থাকায় যারা আসতে পারে না তাদের কী হবে।

তখনই মাথায় ঢোকে কী করে সবার কাছে তাদের প্রশ্ন উত্তর নিয়ে পৌঁছানো যায়, তাও হবে বিনামূল্যে। ব্যস তৈরি করে ফেললাম বিনা খরচে পড়ালেখার এক সাইট, যেখানে একটু ভিন্নভাবে, কৌশল আর সৃজনশীলতার মিশেলে শেখানো কঠিন সব প্রশ্নের উত্তর। শেখো, অনুশীলন করো এবং উন্নত হও—এই ট্যাগ লাইন নিয়ে শুরু হয় টেন মিনিট স্কুলের পথচলা।

টেন মিনিট স্কুলের ওয়েবসাইট। ছবি: সংগৃহীত।

টেন মিনিট কেন এমন প্রশ্নের উত্তরে আইমান বলেন, ‘আমরা সাধারণত কারো সাথে যখন কথা বলি তখন ১০ মিনিট শব্দটাকে খুব বেশি ব্যবহার করি। ধরুন একটু দাঁড়াও ১০ মিনিটের মধ্যে আসছি, ১০ মিনিটের মধ্যে করে দিচ্ছি, পাঠাচ্ছি ইত্যাদি। সেখান থেকেই আসলে এই ১০মিনিট এর ধারণাটা আসে। যে এমন কিছু যদি করতে পারি যেখানে ১০ মিনিটেই হবে সমাধান, ১০ মিনিটেই পড়াশোনা।

সম্প্রতি আইসিটি ডিভিশন, রবি ও অনলাইন স্কুল- টেন মিনিট স্কুলের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। এই বিষয়ে আয়মান বলেন, এই চুক্তির ফলে শিক্ষার্থীদের জন্য ২ হাজার ১টি ডিজিটাল ল্যাব এবং ৩০ হাজারের বেশি মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমে টেন মিনিট স্কুলের ডিজিটাল এডুকেশন কন্টেন্ট শিক্ষার্থীদের মাঝে তুলে ধরা হবে। এছাড়াও আমাদের চলতি বছরের পরিকল্পনা অনুযায়ী আইসিটি ডিভিশনের ৩ হাজার ডিজিটাল ল্যাবেই আমরা টেন মিনিট স্কুলের কার্যক্রম ছড়িয়ে দিতে চাই।

গত বছর ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে সুইস অ্যাম্বাসি অ্য়াওয়ার্ড গ্রহণ করছেন আইমান। ছবিঃ সংগৃহীত।

তিনি আরও বলেন, ‘খুব শিগগিরই একসেস টু ইনফরমেশনের (এটুআই) সাথে আমরা একটি সমঝোতা করতে যাচ্ছি। এর মাধ্যমে দেশের ৩০ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমে আমরা প্রবেশাধিকার পেতে যাচ্ছি। সবমিলিয়ে এইবছর আমরা ৩৩ হাজার ক্লাসরুম ও ডিজিটাল ল্যাবে আমাদের টেন মিনিটি স্কুলের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবো।’

সম্পাদনা : ফারজানা রিংকী/ গোরা 

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
সিম্ফনিকে হটিয়ে একে স্যামসাং
প্রিয় ডেস্ক ০৯ ডিসেম্বর ২০১৮
পাঠাওকে নিয়ে আশাবাদী মাশরাফি
প্রিয় ডেস্ক ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮
স্পন্সরড কনটেন্ট