(প্রিয়.কম) দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটকে নেটওয়ার্ক সমস্যা ও কাভারেজ কম, রাত ১২টার পর নেটওয়ার্ক কাভারেজ কমে যায়, সব জায়গায় থ্রিজি নেটওয়ার্ক নাই, গ্রাহকসেবা কেন্দ্র কম, রিচার্জ করার দোকান পাওয়া যায় না, টাওয়ারের সংখ্যা কম, নেট প্যাকেজ সুবিধাও কম। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) সম্প্রতি ‘টেলিটকের থ্রিজি প্রযুক্তি চালুকরণ ও ২.৫জি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ’ প্রকল্পের ওপর একটি মূল্যায়ন জরিপ করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। 

এই জরিপ পরিচালনার জন্য সরেজমিনে সারাদেশে ৩২টি উপজেলার ২৭টি স্থানে ৭২০ জন টেলিটক ব্যবহারকারী অংশ নিয়েছে। জরিপ পরবর্তী প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, টেলিটক চালু হওয়ার পর এর সুফল এবং দুর্বলতাগুলো তুলে ধরা হয়েছে। সমীক্ষার মাধ্যমে টেলিটক ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন অভিযোগ ও সমস্যাগুলো তুলে ধরা হয়েছে। সেইসাথে সমস্যা সমাধানের কিছু সুপারিশও করা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। 

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, টেলিটক সিম ব্যবহারকারীদের মধ্যে গড়ে প্রায় ৯৬ শতাংশ সামাজিক মাধ্যমগুলোর মাধ্যমে যোগযোগ স্থাপনের জন্য ইন্টারনেট ব্যবহার করে। তবে টেলিটক মোবাইলের ভৌগোলিক কাভারেজ অন্যান্য মোবাইলের ভৌগোলিক কাভারেজের তুলনায় অনেক কম বলে উল্লেখ করেছেন টেলিটক ব্যবহারকারীরা।

জরিপে অংশ নেওয়া প্রতি তিন জন গ্রাহকের মধ্যে এক জনের মতে সমস্যায় পড়লে মোবাইল সংযোগ কোম্পানি দ্রুত সেবা প্রদান করে। অন্যান্য মোবাইল অপারেটরদের এ হার প্রায় দ্বিগুণ। অর্থাৎ দ্রুত সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে টেলিটক। শহরের বাইরে নেট স্পিড ভালো না, টাওয়ারের সংখ্যা কম, নেট প্যাকেজ সুবিধাও কম। কম বাজেট বরাদ্দ থাকায় প্রকল্পের আওতায় থ্রিজি নেটওয়ার্ক স্বল্প পরিসরে বিভাগীয় ও জেলা শহরে দেওয়া হয়েছে যা গ্রাহক চাহিদার তুলনায় কম বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

আইএমইডি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, থ্রিজি প্রযুক্তি চালু ও ২.৫জি প্রযুক্তি বাস্তবায়নে নেটওয়ার্ক কাভারেজ সম্প্রসারিত হয়েছে। ফলে মোবাইলে আগের চেয়ে কল ড্রপের সংখ্যাও হ্রাস পেয়েছে। তথ্য আদান প্রদান এবং সরকারি কাজের গতিশীলতা ব্যাপক হারে বেড়েছে। তবে বিনিয়োগ স্বল্পতার কারণে চাহিদা অনুসারে বেস স্টেশন প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রত্যন্ত এলাকার লোকজন কম রেটে কথা বলার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। 

প্রসঙ্গত, ২০০৫ সালে চালুর পর গত এক যুগে টেলিটকের গ্রাহক প্রবৃদ্ধির হারও তুলনামূলক ধীর। টেলিটকের পরে যাত্রা করা এয়ারটেল বাংলাদেশের গ্রাহক বর্তমানে টেলিটকের প্রায় তিন গুণ। ওয়ারিদ টেলিকমের সিংহভাগ শেয়ার কিনে নেয়ার পর ২০১০ সালের শেষ দিকে এয়ারটেল বাংলাদেশ নামে সেবাদান শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। 

বিটিআরসি থেকে সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন মাস শেষে দেশে মোট মোবাইল ফোনের গ্রাহক ১৩ কোটি ৫০ লাখ ৯৮ হাজার। এর মধ্যে গ্রামীণফোনের গ্রাহক সংখ্যা ৬ কোটি ১৫ লাখ ৭৯ হাজার। রবি’র গ্রাহক সংখ্যা ৩ কোটি ৯৫ লাখ ৭০ হাজার, বাংলালিংকের ৩ কোটি ১৫ লাখ ৭২ হাজার এবং টেলিটকের গ্রাহক মাত্র ৩২ লাখ ৬০ হাজার। 

প্রিয় টেক/আশরাফ