(প্রিয়.কম) রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান হত্যা-নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সংখ্যা এবার ৩ লক্ষ ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে বলে ধারণা করছে জাতিসংঘ।

১২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার কক্সবাজারের উখিয়ায় কুতুপালং শরণার্থী শিবিরে রোহিঙ্গা পরিদর্শনে গিয়ে মিয়ানমার সরকারকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

প্রধানমন্ত্রীকে পাশে পেয়ে নির্যাতনের বর্ণনা দেন রোহিঙ্গারা। সে সময় রোহিঙ্গা শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন দেখে চোখের পানি আটকে রাখতে না পেরে কেঁদে ফেলেন তিনি। ছবিতে এক রোহিঙ্গা শিশুর চোখের পানি মুছে দিতেও দেখা যায় প্রধানমন্ত্রীকে। তিনি রোহিঙ্গাদের সান্ত্বনা দেন এবং এই দুঃসময়ে পাশে থাকার আশ্বাসও দেন।

সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষে দুপুরের দিকে সেখানে ত্রাণ বিতরণ শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এটাই তার প্রথম সফর। প্রধানমন্ত্রীর কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শনের সময় তোলা বেশ কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফেসবুক ব্যবহারকারীরা ছবিগুলো শেয়ার দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মানবিকতার প্রশংসা করছেন।

এদিকে মঙ্গলবার জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ-বাংলাদেশের শিশু সুরক্ষা ইউনিটেরে প্রধান জঁ লিবির দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, নির্যাতনের মুখে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে দুই লাখের বেশি শিশু ঝুঁকিতে রয়েছে

প্রসঙ্গত, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে গত ২৫ আগস্ট থেকে নতুন করে সেনা অভিযান শুরু হয়। এ অভিযানে এখন পর্যন্ত ৪০০ জনকে হত্যা এবং ২৬০০ ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার কথা শিকার করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। জাতিসংঘ বলছে, অক্টোবরের পর এ পর্যন্ত সব মিলিয়ে প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকেছে। প্রতিদিনই এ সংখ্যা বাড়ছে। 

‘গত দুই সপ্তাহে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে’ করে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর’র। জাতিসংঘ ধারণা করেছিল সংঘর্ষের জেরে এবার তিন লাখের মতো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে। কিন্তু ইতিমধ্যেই সংস্থাটির ধারণারও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে।

মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সংখ্যা এবার ৩ লক্ষ ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে বলে ধারণা করছে জাতিসংঘ। ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার শিকার হয়ে তারা ধাপে ধাপে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র ভিভিয়ান তান

এর আগে জাতিগত দ্বন্দ্বের জেরে ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে দেশটির সেনাবাহিনীর চালানো একই রকম অভিযানে কয়েকশত রোহিঙ্গা নিহত হয়। জ্বালিয়ে দেওয়া হয় হাজারো ঘরবাড়ি। ওই অভিযানের বর্বরতায় বাধ্য হয়ে অন্তত ৮০ হাজার রোহিঙ্গা পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় গ্রহণ করে।

প্রিয় সংবাদ/আশরাফ