ফাইল ছবি

(প্রিয়.কম) রাজধানীর গণপরিবহনে নজিরবিহীন নৈরাজ্য চলছে। নগরীর পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা বলতে কিছুই আর নেই। ভাড়া আদায়ে স্বেচ্ছাচারিতা, সিটিং, গেটলট, স্পেশাল সার্ভিসের নামে প্রতারণা, যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, ফিটনেসবিহীন গাড়ির ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল, ট্রাফিক অব্যবস্থাপনাসহ নানা কারণে গণপরিবহন এখন যাত্রী দুর্ভোগের বাহন হয়ে উঠেছে। পরিবহন মালিক শ্রমিকদের স্বার্থের সিন্ডিকেটের কারণে পদে পদে লাঞ্ছনা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা।    

২১ মার্চ মঙ্গলবার ‘নৈরাজ্যের শেষ নেই গণপরিবহনে’ শিরোনামে দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

সিটি সার্ভিসে ট্রাফিক নৈরাজ্য, চালকদের আইন না মানার প্রবণতা, অতিরিক্ত যাত্রী তুলতে বাসের রেসসহ বিভিন্ন কারণেই রাজধানীর গণপরিবহন নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। উপরন্তু যানবাহনের তুলনায় নগরীতে রাস্তার পরিমাণও কম, মাত্র ৮৮ কিলোমিটার। এর মধ্যেই চলছে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ যানবাহন। বিদ্যমান রাস্তারও এক-তৃতীয়াংশ বেদখল হয়ে আছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী যান চলাচলের জন্য কোনো শহরের মোট আয়তনের ২৫ ভাগ রাস্তা থাকা উচিত। রাজধানীতে সড়ক রয়েছে আয়তনের প্রায় ৮ শতাংশ। ফলে, যানজট নগরবাসীর নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে। তারপরও প্রতিদিন নগরীতে ব্যক্তিগত গাড়ি নামছে বিপুল সংখ্যায়।

গত বছর ঢাকার রাস্তায় প্রাইভেট কার নেমেছে ১৮ হাজার ১০টি। দিনে ৫০টি করে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দু’মাসে প্রাইভেট কার নেমেছে ৩৪১৭টি। দিনে ৫৭টি করে। অন্যদিকে দিনে দেড়শর বেশি মোটরবাইক নামছে রাজপথে। গত বছর মোটরসাইকেল নেমেছে ৫৩ হাজার ৭৩৮টি, দিনে ১৪৯টি করে। গত দুই মাসে নেমেছে ১০ হাজার ৭৯টি, দিনে ১৬৭টি করে। পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে রাজধানীর গণপরিবহনে নৈরাজ্য বন্ধ করা যাবে না।   এদিকে নগর পরিবহনে সিটিং, ডাইরেক্ট, গেটলক ও স্পেশাল সার্ভিসের নামে নজিরবিহীন নৈরাজ্য চলছে। মোটরযান আইন, সরকার নির্ধারিত ভাড়া সবকিছু উপেক্ষা করে যথেচ্ছ হয়রানিতে লিপ্ত পরিবহন মালিক শ্রমিকরা। ফলে যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে মালিকদের নির্ধারিত অতিরিক্ত ভাড়া। সেটাও কিলোমিটার হিসাবে নয়, পরিবহন মালিকদের ইচ্ছা মতো চাপিয়ে দেওয়া। অল্প দূরত্বের যাত্রীকে গুনতে হচ্ছে পুরো পথের ভাড়া। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অল্প দূরত্বের যাত্রীদের বাসেও তোলা হচ্ছে না।

 

প্রিয় সংবাদ/খোরশেদ