(প্রিয়.কম) রসগোল্লার উৎপত্তিস্থল নিয় প্রায় আড়াই বছর ধরে ভারতেরই দুই প্রতিবেশী রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার মধ্যে বিতর্ক চলার পর শেষ পর্যন্ত এর মালিকানা পেয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্যটিকে রসগোল্লার ভৌগোলিক নির্দেশক (জিওগ্র্যাফিকাল ইন্ডিকেশন- জিআই) হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

ভারত সরকারের পেটেন্ট অফিস আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী বিচার বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রসগোল্লার মালিকানা চেয়ে ২০১৫ সালের জুনে প্রথম দাবি জানায় ওড়িশা। রাজ্যটির পক্ষ থেকে বলা হয়, অনেক আগে থেকেই রাজ্যটির পুরীর মন্দিরে রসগোল্লা উৎসর্গ করা হতো দেবতা জগন্নাথকে।

তাই রসগোল্লা আবিষ্কারের স্বীকৃতি শুধু তাদেরই প্রাপ্য। রাজ্যটিতে ঘটা করে রসগোল্লা দিবস পালনও শুরু করা হয়। ওড়িশার বিখ্যাত সাময়িকী পৌরুষের সম্পাদক ও সাংস্কৃতিক বিশেষজ্ঞ অসিত মোহান্তি এর আগে জানান, ‘উনিশ শতকের মাঝামাঝি বহু বাঙালি পরিবারে ওড়িয়ারা পাচকের কাজ করতেন, তাদের ঠাকুর বলা হতো। এরাই রসগোল্লার রেসিপি ওড়িশা থেকে বাংলায় নিয়ে গেছেন। বহু গবেষণাতেও তার সমর্থন মিলেছে। বলা যেতে পারে, রসগোল্লার উৎপত্তি ওড়িশাতেই, তবে তা জনপ্রিয়তা পেয়েছে বাংলায়।’

কিন্তু পাল্টা দাবি করে পশ্চিমবঙ্গের পক্ষ থেকে বলা হয়, রসগোল্লা একেবারেই তাদের সৃষ্টি। ওড়িশার জগন্নাথ মন্দিরে রসগোল্লা ভোগ দেওয়ার সঙ্গে মিষ্টান্নটির সৃষ্টির কোনো সম্পর্ক নেই।

উত্তর কলকাতায় একশ বছরেরও বেশি সময় ধরে রসগোল্লা বিক্রি হয় চিত্তরঞ্জন মিষ্টান্ন ভান্ডারে। দোকানটির বর্তমান মালিক নিতাই চন্দ্র ঘোষ বলেন, ‘রসগোল্লা তো কলকাতার বাইরে সব জায়গাতেই এখন তৈরি হয়। কিন্তু যে টিমটি রসগোল্লা নিয়ে সার্ভে করার জন্য সারা দেশে ঘুরছিলেন, তারা এখানে এসে আমাদের দোকানে রসগোল্লা খেয়েই বলেছিলেন যে, এই প্রথম তারা আসল রসগোল্লা খেলেন। ওই একটা মন্তব্যেই বোঝা যায়, বাংলার রসগোল্লার বিশেষত্বটা।’

এমন পাল্টাপাল্টি দাবির মধ্যে ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গের তরফ থেকে রসগোল্লার মালিকানার দাবি জানিয়ে জিআইয়ের কাছে আবেদন করা হয়। এরপর ২০১৫ সালের পর থেকে বেশ কয়েকবার জিআইয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধিরা। পরে জিআইয়ের কর্মকর্তারা কলকাতা ও ওডিশায় গিয়ে রসগোল্লার ইতিহাস নিয়ে নানা তথ্য সংগ্রহ করেন। পশ্চিমবঙ্গে গিয়ে আলোচনা করা হয় রসগোল্লার জনক বলে খ্যাত নবীন চন্দ্র দাসের পরিবারের সঙ্গেও।

অনুসন্ধান শেষে জিআই জানায়, পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে যে মিষ্টি ভোগ দেওয়া হতো, তার সঙ্গে বাংলার রসগোল্লার কোনো সম্পর্ক নেই। রসগোল্লা একেবারেই বাংলার সৃষ্টি। আর এর মধ্য দিয়ে রসগোল্লার আবিষ্কারক হিসেবে পাকাপাকিভাবে জিআইয়ের স্বীকৃতি পেল পশ্চিমবঙ্গ। 

প্রিয় সংবাদ/শান্ত