ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) নোয়াখালীর ঠেঙ্গারচরে বসবাসের উপযোগী অবকাঠামো স্থাপনের পর রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনে কোনো সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছে নোয়াখালী জেলা প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঠেঙ্গারচর হাতিয়ার অন্যান্য চরের মতোই। অন্যান্য চরের মতোই এখানে সমস্যা রয়েছে। জোয়ারের সময় অন্য সব চরের মতো এখানেও পানি ওঠে।

নোয়াখালী জেলা প্রশাসক বদরে মুনির ফেরদৌস প্রিয়.কম-কে বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা, সুপেয় পানির ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোনো কিছুই এখন ঠেঙ্গারচরে নেই। এসব ব্যবস্থা নেওয়া হলে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনে কোনো সমস্যা নেই।’

জেলা প্রশাসক জানান, উপরের সমস্যাগুলো কোনো চরের জন্য খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। যেহেতু ঠেঙ্গারচরে জনবসতি নেই, তাই সেখানে এসব সমস্যা রয়ে গেছে। চাইলেই এসব সমস্যা সমাধান সম্ভব এবং রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনও সম্ভব।

তিনি বলেন, ‘ঠেঙ্গারচরের সব সমস্যা এবং এসব সমাধানে কী কী করা যেতে পারে, তা জানিয়ে আমরা প্রতিবেদন তৈরি করেছি। প্রতিবেদনটি বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।’

জেলা প্রশাসক আরও জানান, ঠেঙ্গারচরে ৫শ’ একর জায়গায় এক মাসের মধ্যেই বেড়িবাঁধ দেওয়া সম্ভব হবে। বাকি জায়গায় রোহিঙ্গারা চাষাবাদ করতে পারবে, মাছ ধরেও জীবিকা নির্বাহ করতে পারবে।

এর আগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি ‘ঠেঙ্গারচর এখনও বসবাসের উপযোগী নয়’ জানিয়ে বন বিভাগের পক্ষ থেকে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের কাছে একটি চিঠি দেওয়া হয়। তাতে বলা হয়, ঠেঙ্গারচরে জেগে ওঠা উঁচু ভূমি এখনও স্থায়িত্ব লাভ করেনি। চরে নেমে উঁচু জমিতে যেতে হলে হাঁটু পরিমাণ কাদা ডিঙিয়ে লম্বা পথ মাড়িয়ে যেতে হয়।

ঠেঙ্গারচর মেঘনা নদীর মোহনায় জেগে ওঠা নতুন দ্বীপগুলোর একটি। ২০০০ সালের পর এটি জাগতে শুরু করে। নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এর অবস্থান। ২০১১ সালে বনায়ন শুরু হয় এ দ্বীপে। এর আয়তন ১০ হাজার একর আয়তন।

প্রিয় সংবাদ/রিমন/কামরুল