শিওরক্যাশের লগো। ছবি: সংগৃহীত

উপবৃত্তির টাকা বিতরণে শিওরক্যাশের অনিয়ম

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদফতর শিওরক্যাশের অনিয়ম তদন্তে কমিটি গঠন করে...

প্রিয় ডেস্ক
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৫ এপ্রিল ২০১৮, ১১:৩১ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ২২:০০
প্রকাশিত: ২৫ এপ্রিল ২০১৮, ১১:৩১ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ২২:০০


শিওরক্যাশের লগো। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) মোবাইলে আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান শিওরক্যাশের মাধ্যমে প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে উপবৃত্তি বিতরণের দায়িত্বে ছিল অগ্রণী ব্যাংক। কিন্তু দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের উপবৃত্তি বিতরণে শিওরক্যাশের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

এ অবস্থায় ২০১৮-২০১৯ এবং ২০১৯-২০২০ (ডিসেম্বর ২০১৯) পর্যন্ত উপবৃত্তি বিতরণের দায়িত্ব অগ্রণী ব্যাংককে দিতে গড়িমসি করছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদফতর। ২৫ এপ্রিল, বুধবার অনলাইন সংবাদ মাধ্যম বাংলা নিউজ টোয়েন্টি ফোরের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে শিওরক্যাশের টেরিটরি ম্যানেজারের বিরুদ্ধে উপবৃত্তির প্রায় ১১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। গাজীপুরের রানী বিলাসমণি সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা অাত্মসাতের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।

একই বছরের জুন মাসে উপবৃত্তির থেকে শতকরা ১৫-২০ টাকা হারে চার্জ কেটে রাখেন পিরোজপুরেকাউখালীর শিওরক্যাশের এজেন্টরা। এ ছাড়া সেপ্টেম্বর মাসে নাটোরেবড়াইগ্রামের ৮৫টি বিদ্যালয়ের উপবৃত্তির টাকা বিতরণেও বিশৃঙ্খলার অভিযোগ আছে শিওরক্যাশের বিরুদ্ধে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদফতর শিওরক্যাশের অনিয়ম তদন্তে কমিটি গঠন করে। আর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় শিওরক্যাশকে অনিয়মের ব্যাখা দিতে বলেছিল। এদিকে তৃতীয় পর্যায়ের উপবৃত্তি বিতরণে বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইলে আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রস্তাব পেশ করতে বলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মোবাইলে আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান বিকাশকে সঙ্গে নিয়ে উপবৃত্তি বিতরণে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব পেশ করে অগ্রণী ব্যাংক। প্রস্তাবে বলা হয়, ১ শতাংশ কমিশন এবং ‘ক্যাশ-ইন’ ও ‘ক্যাশ-আউট’ চার্জ ছাড়া উপবৃত্তি বিতরণ করা হবে।

তবে এ প্রস্তাবে অগ্রণী ব্যাংককে কোনো মতামত দেয়নি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদফতর। এ বিষয়ে চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি প্রস্তাব সম্পর্কে মতামত জানতে মন্ত্রণালয়ের উপবৃত্তি প্রকল্প পরিচালকের বরাবর ফের চিঠি দেয় অগ্রণী ব্যাংক।

প্রকল্প পরিচালকের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, ‘তৃতীয় পর্যায়ে উপবৃত্তি বিতরণে অগ্রণী ব্যাংকের প্রস্তাবিত কমিশনের হারসহ সর্বনিম্ন ছিল। বিকাশের সঙ্গে কাজ করলে কোনো ক্যাশ আউট চার্জও নেওয়া হবে না। সেক্ষেত্রে এই প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ের কাজ পাওয়ার জন্য অত্র ব্যাংকই দাবিদার।’

এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা উপবৃত্তি প্রকল্পের পরিচালক ড. মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘তৃতীয় পর্যায়ে উপবৃত্তি বিতরণ প্রকল্পে আগের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ প্রকল্পে মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান নিয়োগের ক্ষেত্রে শিওরক্যাশকে কাজ দেওয়ার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়।’

২০১৬ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মায়েদের মোবাইলে সরাসরি উপবৃত্তির টাকা বিতরণ প্রকল্প শুরু হয়। শিওরক্যাশের মাধ্যমে ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমিশনে প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্পের কাজ পায় অগ্রণী ব্যাংক। তৃতীয় পর্যায়ে ২০১৮-২০১৯ এবং ২০১৯-২০২০ (ডিসেম্বর ২০১৯) পর্যন্ত হবে এই প্রকল্পের মেয়াদ।

প্রিয় সংবাদ/শিরিন/গোরা