মিয়ানমারের কাছে ৮ হাজার ৩২ রোহিঙ্গার তালিকা হস্তান্তর

'বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমার নাগরিকদের সেদেশে মর্যাদার সাথে ফিরিয়ে নিতে তারা আন্তরিক হয়েছেন। পর্যায়ক্রমে তাদেরকে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিয়ে স্থায়ী আবাসন ব্যবস্থা এবং সামাজিক মর্যাদার পাশাপাশি নাগরিকত্ব দেওয়া হবে বলে বৈঠকে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।'

শেখ নোমান
সহ-সম্পাদক
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, সময় - ২১:৫৬

বাংলাদেশে সফররত মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লেফট্যানেন্ট জেনারেল কিয়াও সোয়ের সঙ্গে সচিবালয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসদুজ্জামান খাঁন কামাল। ছবি: ফোকাস বাংলা

(প্রিয়.কম) মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১১ লাখ নাগরিকের মধ্যে এক হাজার ৬০০ পরিবারের ৮ হাজার ৩২ জন নাগরিককে ফিরিয়ে নিতে একটি তালিকা সে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

১৬ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ কথা জানান।

বাংলাদেশে সফররত মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লেফট্যানেন্ট  জেনারেল কিয়াও সোয়ের নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল আজ শুক্রবার বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এক বৈঠক করেন।

মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের তাদের স্বদেশ-ভূমি রাখাইনে মর্যাদার সঙ্গে ও নিরাপদে ফিরিয়ে নেওয়ার পরিবেশ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে গঠিত ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকের অংশ হিসেবে এ বৈঠক বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে যে ১০ দফা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তা নিয়ে আজ সফল আলোচনা হয়েছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমার নাগরিকদের সেদেশে মর্যাদার সাথে ফিরিয়ে নিতে তারা আন্তরিক হয়েছেন। পর্যায়ক্রমে তাদেরকে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিয়ে স্থায়ী আবাসন ব্যবস্থা এবং সামাজিক মর্যাদার পাশাপাশি নাগরিকত্ব দেওয়া হবে বলে বৈঠকে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তিন পর্যায়ে মিয়ানমার নাগরিকদের বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে ১০ লাখ ৬০ হাজার নাগরিকের তালিকা বাংলাদেশ প্রস্তুত করেছে। আরও ৬ হাজার মিয়ানমারের নাগরিক সে দেশের সীমান্ত এলাকায় জিরো পয়েন্টে অবস্থান করছে। তাদেরকেও ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে বৈঠকে তারা রাজি হয়েছেন।’

বাংলাদেশে ইয়াবা ব্যবসা বন্ধ করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগের কথা জানিয়ে আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, ‘বৈঠকে মিয়ানমারে ইয়াবা উৎপাদনকারী ৪৯টি কারখানা চিহ্নিত করে অবিলম্বে তা বন্ধ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়। বিষয়টি মিয়ানমার সরকারও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে বলে বৈঠকে মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন।’

প্রিয় সংবাদ/রিমন

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


স্পন্সরড কনটেন্ট
সুইডেন-দ. কোরিয়া: জয়ে প্রত্যাবর্তন
সুইডেন-দ. কোরিয়া: জয়ে প্রত্যাবর্তন
বিডি নিউজ ২৪ - ২ ঘণ্টা আগে
কেমন কাটলো রোহিঙ্গাদের ঈদ?
কেমন কাটলো রোহিঙ্গাদের ঈদ?
নয়া দিগন্ত - ১২ ঘণ্টা আগে
জনপ্রিয়
আরো পড়ুন