কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরনার্থী শিবির। ফাইল ছবি

(প্রিয়.কম) কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের তিনটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চলছে জঙ্গি তৎপরতা। রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও) এবং নবগঠিত 'আকামুল মুজাহেদীন'-এর (এএমএম) প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দুই শতাধিক জঙ্গি টেকনাফের নয়াপাড়া ও লেদা এবং উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পে অবস্থান করে সশস্ত্র জঙ্গি গ্রুপকে সংগঠিত করছে।

৯ মার্চ বৃহস্পতিবার দৈনিক সমকালে  ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জঙ্গি তৎপরতা’ শিরোনামে এক বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এ বিষয়ে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানিয়েছে, কয়েকটি এনজিওর মাধ্যমে তুরস্ক ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিপুল অর্থ পেয়েছে রোহিঙ্গা জঙ্গিরা। এই টাকার বড় অংশ ভাগবাটোয়ারার মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ করছে জঙ্গি নেতারা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ ব্যাপারে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। এর পর সংস্থাগুলোও তৎপর হয়ে ওঠে। তাদের অভিযানে আটক হয়েছে কয়েক জন।

র‌্যাবের অভিযানে রোহিঙ্গা ক্যাম্প কুতুপালং থেকে আটক হয়েছে আরেক শীর্ষ জঙ্গি নুর আলম। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আনসার ক্যাম্পের বাকি ছয়টি অস্ত্র উদ্ধার করেছে র‌্যাব। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার গহীন পাহাড়ি এলাকা থেকে সেগুলো উদ্ধার করা হয়। আটক ব্যক্তিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে, তারা সবাই 'এএমএম'-এর সদস্য।

র‌্যাব কমান্ডার জানান, উখিয়া ও টেকনাফের ৩টি ক্যাম্পে ২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। এখানে সন্ত্রাসী জঙ্গিরা সহজে আত্মগোপন করে থাকতে পারে। কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পে তালিকাভুক্ত রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা ১৩ হাজার। অথচ সেখানে তালিকা বহির্ভূত দেড় লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। তাদের ওপর সরকারি কোনো সংস্থার নিয়ন্ত্রণ নেই। তারা গোপনে নিয়মিত বৈঠক করছে এবং দেশি-বিদেশি তহবিল সংগ্রহ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোহিঙ্গাদের দুরবস্থার চিত্র বহির্বিশ্বে প্রচার করে বিপুল টাকা নিচ্ছে রোহিঙ্গা জঙ্গিরা। মধ্যপ্রাচ্য ও তুরস্কভিত্তিক কিছু এনজিও তাদের সহযোগিতা দিচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রমতে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গোপনে ত্রাণ তৎপরতা চালাচ্ছে ভয়েস অব রোহিঙ্গা রিফিউজি ফর হিউম্যান রাইটস এবং ইত্তেহাদুল জামিয়াতুল ইসলাম নামে আরও দুটি সংগঠন। মঙ্গলবার রাতে ৯শ' রোহিঙ্গা পরিবারের মাঝে নগদ টাকা বিতরণ করেছে এ দুটি সংগঠনের কর্মকর্তারা। এরা জঙ্গি কর্মকাণ্ডেও গোপনে ভূমিকা রাখছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, বিদেশি এনজিওর ব্যাপারে সতর্ক রয়েছি। যে কেউ চাইলে রোহিঙ্গাদের সহযোগিতা করতে পারে না। প্রশাসনের মাধ্যমে করতে হবে। তিনি বলেন, রাতের আঁধারে কারা কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রিয় সংবাদ/আজাদ/সোহেল