(প্রিয়.কম) রোহিঙ্গারাই নিজেদের বাড়িতে আগুন দিচ্ছে বলে মিয়ানমার সরকারের দাবিকে উড়িয়ে দিল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটি বলছে, রোহিঙ্গা গ্রামগুলো জ্বলছে সেনাবাহিনীর দেওয়া আগুনেই। এগুলো অসতর্কতাবশত কোনো কাজ নয়, বরং পরিকল্পিতভাবেই করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয় সংস্থাটির পক্ষ থেকে।

এ দাবির পেছনে প্রমাণ স্বরূপ রয়েছে স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া বেশ কিছু ছবি। রাখাইন রাজ্যের ছবিগুলো বিশ্লেষণের মাধ্যমে সংস্থাটির দাবি, ২৪ আগস্ট রাতে পুলিশ পোস্টে হামলার জেরে পুনরায় সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে মাত্র তিন সপ্তাহে রাখাইন রাজ্যের আশিটিরও বেশি স্থানের বড় অংশ জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি অংশ নেয় স্থানীয় সহযোগি গোষ্ঠীগুলো। 

সংস্থাটি বলছে, মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী এবং তাদের সহযোগি কিছু সংঘবদ্ধ দল কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জ্বালাও পোড়াও, হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। তারা গ্রামের পর গ্রাম পুড়িয়ে দিচ্ছে এবং পলায়নপর মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি চালাচ্ছে।

এর হাত থেকে বাঁচতে প্রায় চার লক্ষ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে বলে ইতিমধ্যে জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির পক্ষ থেকে আশঙ্কা করা হয় যদি এ অবস্থা অব্যাহত থাকে তবে বছর শেষে তা দশ লাখে গিয়ে ঠেকতে পারে। অ্যামনেস্টির একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ‘রাখাইনে সুপরিকল্পিতভাবে সহিংসতা চালানো হচ্ছে।’

অ্যামনেস্টি’র তথ্যে দেখা যাচ্ছে, যেসব জায়গায় বর্তমানে আগুন দেওয়া হয়েছে সেখানে আগের চার বছরের স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে কোনো অগ্নিসংযোগের ঘটনা দেখা যায়নি। এবার শুধুমাত্র বেছে বেছে রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতেই আগুন দেয়া হয়েছে। তবে যেসব গ্রামে রোহিঙ্গা এবং রাখাইনরা পাশাপাশি বাস করে, সেখানে রাখাইন বাড়িগুলো আগুনের হাত থেকে বেঁচে গেছে।

উল্লেখ্য, গত ২৪ আগস্ট রাতে রাখাইনে বেশ কিছু পুলিশ পোস্টে হামলার প্রেক্ষিতে মিয়ানমারের নিরাপত্তাবাহিনী নজিরবিহীন নৃশংস অভিযান পরিচালনা করে। খুন, কুপিয়ে-পুড়িয়ে হত্যা, ধর্ষণসহ নানাভাবে রোহিঙ্গাদের নির্যাতন অব্যাহত রাখে দেশটির নিরাপত্তাবাহিনী।

যার পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় ৪ লক্ষ রোাহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। নিহত হয়েছে প্রায় ৩ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা। জনশূন্য হয়ে গেছে প্রায় ১৭৬ টি গ্রাম।

এদিকে যুক্তরাজ্য ও সুইডেনের অনুরোধে রোহিঙ্গা ইস্যুর সমাধানে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ জরুরি বৈঠকে বসে। বৈঠকে নিরাপত্তা পরিষদের ১৫টি দেশ রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে মিয়ানমারকে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে আহ্বান জানায়।

এর আগে এ সংকট নিরসনে ড. মোহাম্মদ ইউনূসসহ ১২ জন নোবেল বিজয়ী ও বিশ্বের ১৮ জন বিশিষ্ট নাগরিক একটি খোলা চিঠি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কাছে পাঠিয়েছিলেন।

সূত্র: বিবিসি

প্রিয় সংবাদ/শিরিন