(প্রিয়.কম) মিয়ানমারের সেনাবাহিনী কর্তৃক রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা হত্যা-নির্যাতন থামার আপাত কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না বরং সময়ের সাথে সাথে সেখানকার পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক চাপের মুখেও দেশটির সেনাবাহিনী তাদের নৃশংস অভিযান অব্যাহত রেখেছে। ফলে বাংলাদেশকে আরও শরণার্থী সামলানোর চাপ নিতে হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। সেনা অভিযান শুরু হওয়ার ১২ দিনের মাথায় দেশটির নেত্রী অং সান সুচি ও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া দুটি বিবৃতিতে, রোহিঙ্গা সংকটকে পুরোপুরি ভুয়া খবর বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়। যা রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

রোহিঙ্গাদের লক্ষ্যবস্তু করতে চেষ্টা অব্যাহত

সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের সহজ লক্ষ্যবস্তু করতে দেশটির সেনা অভিযানের সাফাই অব্যাহত রয়েছে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, তাদের দেশের অভ্যন্তরে জঙ্গি হামলা চালানোর জন্য বাইরের একটি দেশে বসে ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে আর এই উদ্দেশ্যে জঙ্গিদের তালিমও দেওয়া হয়েছে।

দেশটির প্রশাসনিক রাজধানী নাইপিদো থেকে সেনাবাহিনীর ওই বিবৃতিতে বলা হয়, যখন 'বাংলাভাষী' আরসা জঙ্গিরা রাখাইন প্রদেশের উত্তরাঞ্চলে হামলা চালাচ্ছে এবং এই সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনও বসতে যাচ্ছে - তখনই বিদেশের মাটিতে বসে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে হামলা চালানোর এই ছক কষা হচ্ছে। এই দেশটি সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে থাকে বলে বলা হয়েছে এবং সেই দেশে কর্মরত মিয়ানমারের কিছু লোককে এই ষড়যন্ত্রে কাজে লাগানো হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে সেই দেশটির নাম করা হয়নি।

রোহিঙ্গা নিধন অভিযানে নেমেছে দেশটির সেনাবাহিনী। ছবি: ই অং চু

রোহিঙ্গা নিধন অভিযানে নেমেছে দেশটির সেনাবাহিনী। ছবি: ই অং চু

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ষড়যন্ত্রকারী সেই দেশটি থেকে মিয়ানমারের কিছু লোককে জঙ্গি প্রশিক্ষণ নিতে মাসচারেক আগে তৃতীয় আরেকটি দেশে পাঠানো হয়েছিল। তালিমপ্রাপ্ত জঙ্গিরা ঘরে বানানো বোমা-বিস্ফোরক আর মাইন তৈরিতে দক্ষ হয়ে ফিরে এসেছে। এখন তারা মিয়ানমারে জঙ্গি হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। সন্ত্রাসবাদী হামলাগুলো রাখাইন প্রদেশে নয় - বরং নেপিদও, ইয়াঙ্গন, মান্দালে বা মওলামাইয়িনের মতো দেশের বড় বড় শহরেই করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

তবে বিবৃতিতে দেশটি কোনটি, তা উল্লেখ করা হয়নি। তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, রোহিঙ্গা নিধন অভিযানের বৈধতা আদায় এবং এ ধরণের বিবৃতি অভিযানে দীর্ঘসূত্রিতার ইঙ্গিত দেয়।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে সুচির বিবৃতি

সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ওপর হত্যা-নির্যাতন নিয়ে দেশটির শান্তিতে নোবেল বিজয়ী গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সুচি দাবি করেছেন, রাখাইন রাজ্যে সবার নিরাপত্তাবিধান করা হচ্ছে! তার দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ দাবি করা হয়।

অং সান সুচি। ফাইল ছবি

অং সান সুচি। ফাইল ছবি

বিবৃতিতে বলা হয়, এরদোয়ানকে সুচি বলেছেন, তার সরকার ইতোমধ্যে যথাসাধ্য উপায়ে রাখাইনের সব মানুষকে সুরক্ষা দিতে শুরু করেছে। মানবাধিকার-বঞ্চনা ও গণতান্ত্রিক সুরক্ষার অর্থ তারা খুব ভালো করেই জানেন। তাই তারা দেশের সব মানুষের অধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করছেন। এটা শুধু রাজনৈতিক নয়, সামাজিক ও মানবিক অধিকারও বটে। তিনি দাবি করেন, মিথ্যে প্রচারণা চালিয়ে রাখাইনে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টিতে উসকানি দেওয়া হচ্ছে।

৬ সেপ্টেম্বর বুধবার বিবিসি অনলেইনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে ৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবারের ফোনালাপে সুচি ওই দাবি করেন। পরে সেটিই বিবৃতি হিসেবে গণমাধ্যমের কাছে প্রকাশ করেন সুচি। সুচির ওই বক্তব্যকে সমর্ন করে মিয়ানমারের একজন মন্ত্রী দাবি করেছেন, রাখাইনে রোহিঙ্গা জঙ্গিরাই রোহিঙ্গাদের বাড়িঘরে আগুন দিয়েছে যাতে সেখান থেকে বেসামরিক লোকজন পালিয়ে যায়।

সুচির প্রতি নিন্দা অব্যাহত

তবে সুচির এই বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সুচির জীবনীগ্রন্থের রচয়িতা জাস্টিন উইন্টেল। তিনি বলেন, আমি তার এই মন্তব্যে হতবাক। তার এই মন্তব্য তো তাকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাতারে ফেলে দিচ্ছে! তিনি কার্যত দেশের নেতা হলেও আসলে তিনি এখন সেনাবাহিনীর পকেটে। বার্মার সেনাবাহিনী সম্পর্কে তিনি সবসময়ই কিছুটা অস্পষ্ট - কারণ দেশটির সেনাবাহিনী গড়ে তুলেছিলেন তার বাবা।

জাস্টিন উইন্টেল সুচির সমালোচনা করে আরো বলেন, সুচি হাড়ে মজ্জায় বার্মিজ। আমার বলতে খারাপ লাগছে - কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে মিয়ানমারের পশ্চিমে রাখাইনে যা ঘটছে তা চরম জাতিবিদ্বেষী। সেখানে মুসলিম রোহিঙ্গাদের প্রতি সমন্বিত বিদ্বেষ রয়েছে।

এদিকে, মিয়ানমারে সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত মার্ক ক্যানিং বিবিসি-কে বলেছেন, তিনি রাজনৈতিক চাপে রয়েছেন। বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদ সেদেশ যেভাবে মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে তাকে সমর্থন না করা তার জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে এবং তার ভাষায় 'সুচি এখন মানবাধিকারের প্রতীক নন - তিনি পুরোপুরি একজন রাজনীতিক'।

আজারবাইজান সফরে গিয়ে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী মেভলুত কাভুসঘলুও মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের প্রতি আচরণের নিন্দা জানিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, তিনি বাংলাদেশে যেতে চান এবং রাখাইন থেকে সেখানে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলতে চান। তিনি বলেন, এটা দুঃখজনক যে বিশ্ববাসীর চোখের সামনে এই মর্মান্তিক অমানবিক ঘটনা ঘটছে। আমরা এখান থেকে বাংলাদেশ যাব ও সীমান্ত এলাকায় যাব। রাখাইনে আগেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। আমরা রোহিঙ্গা ভাইদের সঙ্গে কথা বলব যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে গেছে।

মিয়ানমারের পাশে থাকার ঘোষণা ভারতের

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে ভারত। ৬ সেপ্টেম্বর বুধবার মিয়ানমারের রাজধানী নেইপিদোতে অং সান সুচির সঙ্গে এক বৈঠকে এ ঘোষণা দেন তিনি। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদি এমন এক সময়ে এ ঘোষণা দিলেন যখন মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা জাতি-গোষ্ঠী নির্মূল অভিযান চালানোয় আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে রয়েছে মিয়ানমার সরকার।

নাইপিদোতে নরেন্দ্র মোদির সাথে অং সান সুচি। ছবি: সংগৃহীত

নাইপিদোতে নরেন্দ্র মোদির সাথে অং সান সুচি। ছবি: সংগৃহীত

নাইপিদোতে দুই নেতার ভেঠক পরবর্তী এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সুচির ও মোদি বলেন, রাখাইন রাজ্যের সহিংসতা ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনায় আমরা মিয়ানমারের সঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করছি। আমরা আশা করি সব পক্ষই একসঙ্গে একটি উপায় খুঁজে বের করতে পারবেন; যার ফলে মিয়ানমারের ঐক্য এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার মর্যাদা ক্ষুণ্ন হবে না। একই সময়ে, আমাদের শান্তি, ন্যায় বিচার, মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় রাখতে হবে।

এসময় মোদি, মিয়ানমারের নাগরিকদের জন্য ভারতে বিনামূল্যের ভ্রমণ ভিসা সুবিধা দেয়ার ঘোষণা দেন। ভারতে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিনামূল্যের এই ভিসা কূটনীতিক, সরকারি কর্মকর্তা ও জাতিসংঘের কর্মকর্তা যারা ভারত সরকারের আমন্ত্রণে দেশটি সফরে যান। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এ ঘোষণা দেশটিকে রোহিঙ্গা নিধনে আরও সাহস যোগাবে।

বাংলাদেশে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে আবারও তলব, প্রতিবাদ

নতুন করে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বাংলাদেশে প্রবেশের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকাস্থ মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে ৬ সেপ্টেম্বর বুধবার আবারও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। ঢাকায় মিয়ানমার দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বিভাগের মহাপরিচালক মঞ্জুরুল করিম খানের সাথে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে নতুন করে প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে প্রবেশের ফলে উদ্বেগ প্রকাশ করে এ প্রতিবাদলিপি হস্তান্তর করা হয়।

শরণার্থীদের আবাসন-খাদ্যের তীব্র সংকট

এদিকে, সেনা অভিযান শুরুর পর অব্যাহতভাবে রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রবেশের ফলে তাদের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য এবং আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অভুক্ত এসব রোহিঙ্গাদের মধ্যে যারা শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় পাননি তারা বাঁশ ও প্লাস্টিক দিয়ে অস্থায়ী ঘর বানিয়ে থাকছেন। কিন্তু যাদের কাছে তাঁবু বানানোর জন্য বাঁশ ও প্লাস্টিক কেনার মতো টাকা নেই, তারা বাধ্য হয়ে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান নিয়েছে।

বাংলাদেশে জাতিসংঘের প্রধান সমন্বয়কারী কর্মকর্তা গতকাল বার্তা সংস্থা এএফপি-কে বলেছেন, অনেকেই খোলা আকাশের নিচে ঘুমচ্ছেন। দিনের পর দিন হেঁটে সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে আসা এই লোকজনের জরুরি খাবার ও পানির প্রয়োজন।

রাখাইন রাজ্যের সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসা একটি রোহিঙ্গা পরিবার আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায়। ছবিটি ০২ সেপ্টেম্বর তোলা। ছবি: এএফপি

রাখাইন রাজ্যের সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসা একটি রোহিঙ্গা পরিবার আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায়। ছবিটি ২ সেপ্টেম্বর তোলা। ছবি: এএফপি

খাবারের সংকটের কথা জানিয়ে টাইংখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের তিন দিন আগে আসা অভুক্ত রোহিঙ্গা শফিকা বেগম (৩৫) তার আট দিন বয়সী মেয়েকে বুকে জড়িয়ে খাবার সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, খাবার বলতে কিছুই নেই আমার কাছে। নিজে খেতে না পারলে বাচ্চা কীভাবে বুকের দুধ পাবে?

রোহিঙ্গাদের আবাসন বিষয়ে জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এর কর্মকর্তা ভিভিয়েন ট্যান বলেন, যেভাবে শরণার্থীর সংখ্যা বাড়ছে তাতে শিগগিরই আশ্রয়ের ক্ষেত্রে বড় ধরনের জরুরি সঙ্কট তৈরি হতে পারে। কেননা পুরানো যে দুটো রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির (কুতুপালং এবং নয়াপাড়া) তাতে আর তিল ধারণের জায়গা নেই। স্থানীয় স্কুল-মাদ্রাসা ছাড়াও বিভিন্ন খোলা জায়গায় তাঁবু খাটিয়ে পালিয়ে আসা মানুষজনকে ঠাঁই দেওয়ার চেষ্টা চলছে। কিন্তু বর্তমান হারে শরণার্থী আসতে থাকলে পরিস্থিতি আয়ত্তের বাইরে চলে যেতে পারে

প্রসঙ্গত, রোহিঙ্গা একটি নৃগোষ্ঠীর নাম যাদের শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ ইসলাম ও ১০ ভাগ হিন্দু ধর্মাবলম্বী। রোহিঙ্গাদের আদি আবাসস্থল মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য। শত শত বছর ধরে রাজ্যটিতে বাস করা রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের স্বীকৃতি না দিয়ে মিয়ানমার সরকার এ জাতিগোষ্ঠীকে নির্মূল করতে ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ চালাচ্ছে।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে গত ২৫ আগস্ট থেকে নতুন করে সেনা অভিযান শুরু হয়। এ অভিযানে এখন পর্যন্ত ৪০০ জনকে হত্যা এবং ২৬০০ ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। জাতিসংঘ বলছে, অক্টোবরের পর এ পর্যন্ত সব মিলিয়ে প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকেছে। প্রতিদিনই এ সংখ্যা বাড়ছে।

নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বাংলাদেশ সীমান্তের উদ্দেশে রওনা হয়েছে রোহিঙ্গা নারী-শিশুরা। ছবিটি বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন বালুখালী থেকে ২৭ আগস্ট তোলা। ছবি: ওয়াই মোও / এএফপি

নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বাংলাদেশ সীমান্তের উদ্দেশে রওনা হয়েছে রোহিঙ্গা নারী-শিশুরা। ছবিটি বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন বালুখালী থেকে ২৭ আগস্ট তোলা। ছবি: ওয়াই মোও / এএফপি

এর আগে, জাতিগত দ্বন্দ্বের জেরে ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে দেশটির সেনাবাহিনীর চালানো একই রকম অভিযানে কয়েকশত রোহিঙ্গা নিহত হয়। জ্বালিয়ে দেওয়া হয় হাজারো ঘরবাড়ি। ওই অভিযানের বর্বরতায় বাধ্য হয়ে অন্তত ৮০ হাজার রোহিঙ্গা পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় গ্রহণ করে।

২৫ আগস্ট থেকে দেশটির সেনাবাহিনী ‘কিলিং অভিযান’ শুরুর পর মিয়ানমার থেকে এখন পর্যন্ত মোট কত রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করে তা নির্দিষ্ট করে বলা না গেলেও বিভিন্ন দেশি বিদেশি সূত্র বলছে, সংখ্যাটি ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার। তবে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর জেনেভায় ৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলাবর এক ব্রিফিংয়ে জানায়, আগস্ট মাস থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে ১ লাখ ২৩ হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে।

এদিকে, রোহিঙ্গা ইস্যুতে সুচির নিরব ভূমিকার নিন্দায় সরব হয়েছে বিশ্ব। দেশে দেশে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ থেকে শান্তিতে এই নোবেলজয়ীর পুরস্কার ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি তোলা হয়েছে।

প্রিয় সংবাদ/শান্ত