ফাইল ছবি

(প্রিয়.কম) ঠেঙ্গারচর না জালিয়ারচর- কোথায় পুনর্বাসন করা হবে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের? সরকারিভাবে বলা হচ্ছে, ঠেঙ্গারচরে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন করা হবে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা সরকারের এ সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়ে বলেছে, চরটি মানুষ বসবাসের উপযোগী নয়। সরেজমিন দেখা গেছে, রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনে যে স্থানটি প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়েছে, তা ঠেঙ্গারচরে নয় পড়েছে পার্শ্ববর্তী জালিয়ারচরে।

২০ ফেব্রুযারি সোমবার ‘ঠেঙ্গারচর না জালিয়ারচরে রোহিঙ্গা পুনর্বাসন?’ শিরোনামে দৈনিক সমকালের প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।  

ঠেঙ্গারচর মেঘনা নদীর মোহনায় জেগে ওঠা নতুন দ্বীপগুলোর একটি। ২০০০ সালের পর এটি জাগতে শুরু করে। নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এর অবস্থান। ২০১১ সালে বনায়ন শুরু হয় এ দ্বীপে। ১০ হাজার একর আয়তনের দ্বীপটির বেশিরভাগ বর্ষায় ডুবে যায়। যে অংশটুকু অংশ উঁচু, সেখানেও মানুষের বসবাসের মতো অবস্থা তৈরি হয়নি।

ঠেঙ্গারচর থেকে আরও উত্তর-পূর্বে জালিয়ারচরের অবস্থান। ১৯৯০ সালের শুরুতে দ্বীপটি জেলেদের নজরে আসে। গাঙ্গুরিয়া মাছের আধিক্যের কারণে এক সময় এর নাম ছিল 'গাঙ্গুরিয়ারচর'। পরে মানুষের মুখে মুখে নাম বদলে হয় জাইল্যারচর। পরে বন বিভাগের কাগজপত্রে নামকরণ হয় জালিয়ারচর। ঠেঙ্গারচরের চেয়ে পুরনো এ দ্বীপ। ১৯৯৮ সালে বনায়ন শুরু হয়। উঁচু অংশ বর্ষায় ডোবে না। মানুষের বসতি না থাকলেও দ্বীপটির জমি কৃষিকাজের উপযোগী হয়ে উঠেছে। গরু, মহিষ চরানো হয়।

জালিয়ারচর দৈর্ঘ্যে প্রায় সাড়ে ছয় কিলোমিটার। প্রস্থে সোয়া চার কিলোমিটার। বন বিভাগের বা হাতিয়া উপজেলা ভূমি অফিসের কাছে এর আয়তন সম্পর্কে তথ্য নেই। তবে স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, দ্বীপটির আয়তন ২৫ বর্গকিলোমিটারের কাছাকাছি। ভূমির পরিমাণ সাড়ে ছয় হাজার একরের মতো।

দুটি চরের অবস্থান পাশাপাশি হওয়ার কারণে রোহিঙ্গাদের ঠেঙ্গারচর না জালিয়ারচরে পুনর্বাসন করা হবে, তা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। 

প্রিয় সংবাদ/খোরশেদ