রোহিঙ্গাদের খাদ্য বিতরণ ফের শুরু সোমবার

আগত শীত মোকাবেলায় যথেষ্ট প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে জানিয়ে আলী আহমেদ বলেন, ‘আমাদের ধারণা, ১ লাখ ৬০ হাজারের মতো পরিবার থাকতে পারে। এক-দেড় লাখ কম্বল বিতরণ হয়ে গেছে, তারা শীতের জন্য কম্বল ও কাপড় পাচ্ছে।’

আবু আজাদ
সহ-সম্পাদক
১৭ ডিসেম্বর ২০১৭, সময় - ১৭:৫৭

একটি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করছে। ফাইল ছবি

(প্রিয়.কম) মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে সেনা নির্যাতনে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার রোহিঙ্গাদের খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি সাময়িক বন্ধের পর সোমবার থেকে ফের শুরু হচ্ছে। 

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আলি আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, ১৮ ডিসেম্বর থেকে স্বাভাবিকভাবে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলবে।

এর আগে ১১ ডিসেম্বর সোমবার থেকে ১৭ ডিসেম্বর রোববার পর্যন্ত রোহিঙ্গা শিবিরে কাজ করা সকল বেসরকারি সংগঠনগুলোকে এক সপ্তাহের ত্রাণ কার্যক্রম বন্ধ রাখার অনুরোধ জানিয়েছিল জেলা প্রশাসন। তখন বলা হয়, রোহিঙ্গাদের কাছে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত ও অপচয়ের পরিপেক্ষিতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আলী আহমেদ বলেন, ‘আসলে আমরা সাময়িকভাবে ত্রাণ কার্যক্রমটা বন্ধ রেখেছিলাম, যাতে ত্রাণের অপচয় না হয়। আর এটা শুধু এনজিওদের জন্য ছিল। আন্তর্জাতিক এনজিও, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি যথারীতি কাজ করবে। স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায় থেকে যে সাহায্য আসছিল, সেটাও কাজ করবে। আজ থেকে সাময়িক স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হয়ে যাবে। ১৮ তারিখ (সোমবার) থেকে আমরা আবার ত্রাণ কার্যক্রম চালাব, অসুবিধা নাই।’

আলী আহমেদ বলেন, ‘খাদ্য সামগ্রীর অভাব নেই। প্রচুর খাদ্য সামগ্রী আসছে। বিভিন্ন এনজিওর কাছে প্রচুর খাদ্য আছে।’

আগত শীত মোকাবেলায় যথেষ্ট প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ধারণা, ১ লাখ ৬০ হাজারের মতো পরিবার থাকতে পারে। এক-দেড় লাখ কম্বল বিতরণ হয়ে গেছে, তারা শীতের জন্য কম্বল ও কাপড় পাচ্ছে।’

শীতকালীন অসুখ-বিসুখের বিষয়ও বিবেচনায় রাখা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ডিপথেরিয়া দেখা দিয়েছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ডিপথেরিয়া কিনা সেটি নিয়ে কনফিউশন রয়েছে।’

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন অভিযান শুরু হওয়ার পর প্রাণ বাঁচাতে প্রায় ছয় লাখ ৫৫ হাজার মানুষ পালিয়ে বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার টেকনাফ ও উখিয়ায় গড়ে তোলা শিবিরগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে; যাদের ৯০ শতাংশই নারী-শিশু ও বৃদ্ধ।

ইউনিসেফের হিসাব অনুযায়ী, রোহিঙ্গা শিবিরে বর্তমানে ৪ লাখ ৫০ শিশু রয়েছে; যার মধ্যে ২ লাখ ৭০ হাজারই নতুন। এসব শিশুর মধ্যে আবার অভিভাবকহীন ৩৬ হাজার ৩৭৩ শিশুও রয়েছে। বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে অন্তত ৫০ হাজার অন্তঃসত্ত্বা নারী রয়েছেন। পালিয়ে আসা শিশু শরণার্থীদের বাইরেও প্রতিদিন যোগ হচ্ছে প্রায় ১০০ নবজাতক। 

বর্বর ওই অভিযানে দেশটির সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নির্বিচার গণহত্যা-ধর্ষণ-অগ্নিসংযোগের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, রাখাইনে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশুদের ওপর পরিকল্পিত আক্রমণ চালানো হয়েছে এবং এটি মানবতার বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অপরাধ

প্রিয় সংবাদ/শান্ত 

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
জনপ্রিয়