অভিনেত্রী রুনা খান। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া

দুঃখ বিলাসিতার সময় আমার নাই: রুনা খান

‘আমি তো অভিনয়টা পারিই না। কিছুই শিখিনি এখনও। কিন্তু আমার অভিনয়ের সঙ্গে থাকতে ভালো লাগে। আমি এটা ছাড়া আর কিছুই পারি না।

মিঠু হালদার
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারি ২০১৮, ১৭:২৯ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ১৯:৩২


অভিনেত্রী রুনা খান। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া

(প্রিয়.কম) ছিমছাম সন্ধ্যা, কুয়াশা নেমেছে শহরে। কিন্তু ফোনের ওপাশে গোধূলিবেলার স্বাভাবিক নীরবতা বোঝা গেল না। মনে হচ্ছিল কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে কথার পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন তিনি। ফোনটা রিসিভের পর সেই আড্ডায় খানিক ছেদ হলো। এর কিছুক্ষণের মধ্যে শোনা গেল পরিচিত সেই কণ্ঠস্বর, সঙ্গে উচ্ছ্বাস আর হাসি। বলছি অভিনয়শিল্পী রুনা খানের কথা। জন্মদিনের একদিন আগে ১০ জানুয়ারি তার সঙ্গে কথা হয় প্রিয়.কমের। মুঠোফোনে আধ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা আলাপে উঠে আসে তার ব্যক্তিগত জীবন ও অভিনয়ের বিভিন্ন দিক।    

প্রিয়.কম: আমাদের দেশে যে কয়েকজন অভিনয়শিল্পী আছেন, রুনা খান তাদের মধ্যে একজন, আপনি বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?

রুনা খান: এ কথাগুলো যারা বলেন, আমি বলবো-তারা আসলে খুবই ভালোবাসার জায়গা থেকেই কথাগুলো বলেন। তবে আমার সম্পর্কে এভাবে বলার যোগ্য আমি কোনভাবেই না! আর আমার কথা যদি আমি বলি-আমি তো বিশ্বাস করি, আমি তো অভিনয়টা পারিই না, হয়ই না। কিছুই শিখিনি এখনও। কিন্তু আমার অভিনয়ের সঙ্গে থাকতে ভালো লাগে। আমি এটা ছাড়া আর কিছুই পারি না। এটাও ঠিকমতো পারি না, যে জন্য আমি আমৃত্যু অভিনয়ের সঙ্গে থাকতে চাই।

প্রিয়.কম: আপনি তো নিজেকে নিজে মূল্যায়ন করলেন। কিন্তু আপনার অভিনীত চরিত্রগুলোর আলাদা ভাষা রয়েছে...

রুনা খান: আমি বলব যে আমি অত্যন্ত ভাগ্যবান। যারা আমার চরিত্রগুলো ক্রিটিক্যালি আলোচনা করে থাকেন, এটা আমার বড় প্রাপ্তি। আবারও বলছি এত কিছুর যোগ্য আমি না। কাজটাই ঠিকঠাক মতো করতে পারি, এর বেশি কিছু নয়।

প্রিয়.কম: আপনি কিন্তু বিনয়ের সঙ্গে উত্তর দিচ্ছেন। কিন্তু আমি জানতে চাচ্ছি, অভিনয়ের দিকটি...

রুনা খান: আমি অনেক বড় স্বপ্ন দেখি, স্বপ্ন পূরণ হওয়া, না হওয়া, সেটা পরের কথা। আমি আসলে বিনয় করে বলছি না, আমি সেটা বিশ্বাস করি বলেই বলছি। যখন আমি থাকব না কিংবা আমার মৃত্যুর ২০ কিংবা ৫০ বছর পর কোনো কাজ থেকে যাবে, কেউ দেখবে, প্রশংসা করবে, আলোচনা-সমালোচনা করবে বা কারও ভালো লাগবে। সেদিনই আমি মনে করব, আমি কোনো ভাল কাজ করে গিয়েছি। সে রকম কিছু মনে করব। তবে আমার মনে হয় না, এখনও সে রকম কোনো ভালো কাজের কাছে পৌঁছেছি, কিংবা করেছি বা করতে পেরেছি।  

প্রিয়.কম: আপনার মধ্যে চরিত্র ধরে কাজ করার একটা নমুনা কিন্তু সেই ২০০৬ সাল থেকেই দেখা যাচ্ছে। তখন থেকেই কী সচেতনভাবে নিজেকে এ বিষয়ে পরিচালিত করছেন?

রুনা খান: সচেতনভাবে বেছে নিই, এটা তো পরের কথা। তার আগে আমাকে সুযোগ পেতে হবে। কোন চরিত্রে ভাবা হচ্ছে, কিংবা কোন চরিত্রে অফার করা হবে, সেটাই হচ্ছে আসল কথা। তারপরই না আমি বাছাই করার সুযোগ পাব। আমার কাছে যেসব কাজের প্রস্তাব এসেছে, তার মধ্য থেকে আমার কাছে যেগুলো মনে হয়েছে আমার করতে ভাল লাগবে, এনজয় করব কিংবা করতে ভালো লাগবে, সে কাজগুলো আমি বেছে নিয়েছি।

প্রিয়.কম: এ ক্ষেত্রে আপনাকে অনুপ্রাণিত করে কোন বিষয়গুলো?

রুনা খান: আমি জন্মেছি গ্রামে, বড় হয়েছি মফস্বলে, মানে টাঙ্গাইলে। মানে আমি ১৯৯৮ পর্যন্ত টাঙ্গাইলেই ছিলাম। এর পর আমি ঢাকাতেই চলে আসি। এ কথাগুলো আমি এ জন্য বলছি, আমি বড় হয়েছি শিক্ষিত নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে। বাবা সরকারি চাকরি করতেন। পাকিস্তান আমলে এসএসসি পাস করেছেন। আমার কাছে মধ্যবিত্ত জীবন, গ্রামের জীবন, মফস্বলের জীবনগুলো চেনা, দেখা। আমি এ জীবনগুলোই দেখতে দেখতে বড় হয়েছি। কিন্তু আমরা কখনও অভাব দেখিনি। যাই কিছু হোক না কেন,আমার বাবা-মা চেয়েছেন তার ছেলে-মেয়েরা যেনো পড়াশোনাটা ঠিকঠাকভাবে করতে পারে। তো আপনি যে কথাই বলছেন, এ জীবনগুলোই আমার খুব কাছ থেকে দেখা।

আমি কিন্তু শহরের উচ্চবিত্তদের জীবন দেখিনি। খুব উচ্চবিত্ত চরিত্রে অভিনয় করতে গেলে হয়তো একটু বিপদেই পড়ে যাব। কারণ এ চরিত্রগুলো আমার কাছে একদমই অচেনা! আমি তো আসলে অমন উল্লেখযোগ্য কাজ করতে পারিনি। তার পরও কিছু কাজ নিয়ে আলোচনা হয়। কিন্তু আমি তো কোনো চরিত্রে প্রবেশ করার পরও যতটা তুলে ধরতে পারি, তার থেকে তার পরিচালক আরও বেশি সে চরিত্রটির মধ্যে অনেক বেশি সময় ধরে বসবাস করেন, ভাবেন। যেকোনো কাজের আগে পরিচালক কী চাচ্ছেন, কীভাবে চাচ্ছেন, সেটিকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিই। 

প্রিয়.কম: আপনি এ ধরনের চরিত্রগুলোর গন্ডির বাইরে গিয়ে কখনও এক্সপেরিমেন্টের জায়গা থেকে নিজেকে দেখার চেষ্টা করেছেন?

রুনা খান: আমি তো আসলে শুধু অভিনয়ই করতে চাই। আমাদের এখানে কিন্তু সে সুযোগটা হয় না। আমি কী করতে চাচ্ছি, মানে যে ধরনের চরিত্রে কাজ করতে করতে পারব। সেটা সম্ভব হয়, যারা নিজে প্রযোজনা করেন, তাদের ক্ষেত্রে। আমি তো অভিনেত্রী, প্রযোজক নই, যার কারণে ওই জায়গাটা আমার জন্য বন্ধ। এখন যা করছি, আমার কাছে যে সমস্ত কাজের অফার আসছে, সেখান থেকে কাজ বাছাই করতে পারছি। যেহেতু অভিনয়টা করতে চাই, তাই সব রকম চরিত্রে অভিনয় করতে চাই। কোন চরিত্র কতটুকু ঠিকঠাক হবে, সেটা পরের কথা। আমি সব ধরনের চরিত্রে অভিনয় করার ইচ্ছে রাখি।

প্রিয়.কম: এই যে প্রযোজকরা শিল্পীদের একটা ছকে বেঁধে রাখেন, মানে একটা সংকট, এক কথায় বলতে গেলে ছড়ি ঘুড়ানো কিংবা একজন শিল্পীর মেধার জায়গাটাকে খাঁচায় বন্দি করে রাখা কিংবা একজন শিল্পীর অভিনয় সত্তার জায়গাটাকে প্রপার ইউটিলাইজ না করা। এ নিয়ে আপনার কি বলার আছে?

রুনা খান: ছড়ি যাদের হাতে থাকে, তারা তো ছড়ি ঘুড়াবেই। সারা পৃথিবীতে সব জায়গায় সেটা হয়ে আসছে। এটা আদি এবং অকৃত্রিম নিয়ম। যদিও এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চলেছে। কিন্তু এ নিয়মটা চলেই এসেছে। আমি এর মধ্য থেকেও ওই কথাটাই বলব, আমি সব রকম চরিত্রে কাজ করতে চাই। আমাদের গ্রামে একটা প্রবাদ আছে, কাঁটার মুখ কখনও চোখা করে দিতে হয় না, সেটি চোখা হয়েই বের হয়। সত্যিকার অর্থেই যদি কারও মধ্যে প্রতিভার বিষয় থাকে, সেটা কখনও আটকে থাকে না। হয়তো বা সময় বেশি লাগে। হয়তো বা শ্রমটা বেশি লাগে। কিন্তু সম্ভাবনাটা কিন্তু আলোর মুখ দেখতে পায়।

প্রিয়.কম: আচ্ছা শৈশব, কৈশোর কিংবা বর্তমান, নিজেকে কখনো কি অবচেতন মনে একটু ভিন্নভাবে আবিষ্কার করেন?

রুনা খান: আমি যা আছি, যেভাবে আছি, আমি এটা নিয়েই অনেক সুখী। হয়তো এতটুকুই না হতে পারত। তবে এর চাইতে আবার বেশি কিছুও হতে পারত। সেটা যেমন ঠিক, এখন যতটুকু হয়েছে, এটাও না হলে পারত। আমি অসাধারণ একটা শৈশব, কৈশোর কাটিয়েছি। আর এই তো। আমার জীবন নিয়ে আমার কোনো দুঃখবোধ নেই।

প্রিয়.কম: জীবনের উপলব্ধিটা আসলে কেমন?

রুনা খান: আমার বিয়ের পরে আমার জীবন সম্পর্কে যদি বলেন, আমি স্বপ্নে যে জীবনটা দেখতাম, সেই জীবনটাও এত সুন্দর ছিল না, বিবাহিত যে জীবনটা এখন যাপন করছি। এটা যতটা সুন্দর। আমার আর কী চাইবার থাকতে পারে! এক কথায় বলতে গেলে, আমার বিবাহিত জীবন আমার স্বপ্নের চেয়েও সুন্দর। আমি আমার পরিবারের একমাত্র মেয়ে। অনেক আদর পেয়ে বড় হয়েছি। আর আমার স্বামীর বাড়িতে এসে তার থেকে বেশি যত্নে আছি, যার কারণে আমার দুঃখ বিলাসিতা করার সময় নাই।

প্রিয়.কম: সময় কিংবা বয়সের সঙ্গে সঙ্গে জন্মদিনের আনন্দের উপলক্ষ্যগুলোও পাল্টে যায়, আপনার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নয়, তবে বিষয়গুলো ঠিক কেমন?

রুনা খান: এ দিনটা আমার বাবা-মায়ের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আমি তাদের প্রথম সন্তান। এই দিনে আমি জন্মেছিলাম, তারা প্রথমবারের মতো বাবা-মা হয়েছেন, এটা গুরুত্বপূর্ণ। আমার স্বামী কিংবা মেয়ের কাছেও একটা গুরুত্বপূর্ণ একটা দিন। কারণ তাদের পছন্দের মানুষের জন্মদিন বলে কথা। 

প্রিয়.কম: এবারের জন্মদিনটা ঠিক কীভাবে পালন করবেন?

রুনা খান: আমি আমার পরিবারের সঙ্গে, ভালো দিনে ভালো একটা সময় কাটাব। আমার জন্মদিন উদযাপন করার মতো কাজ যদি আমি করতে পারি, সেই যোগ্য কখনও যদি হতে পারি, মানুষ আমার জন্মদিন উদযাপন করবে, আলাদা করে প্ল্যানের কিছু নেই। পরিবাররের সাথে থাকব। হয়তো বা সবাই মিলে বাইরে খেতে যাব। বন্ধুরা আসবে, তাদের সঙ্গে সময় কাটাব। আলাদা করে বলার কিছু নেই।

প্রিয়.কম: সামাজিক দায়বদ্ধতা, একজন শিল্পীর ক্ষেত্রে বিষয়টি আসলে কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ বলে আপনি মনে করেন?

রুনা খান: শুধু শিল্পী না, সব মানুষেরই সামাজিক কিংবা মানবিক বা দায়িত্ববোধ তো ভেতর থেকে আসে। শিল্পী হলেই এটা হতে হবে, আর না হলে দায় থাকছে না, সেটি কিন্তু আমি মনে করি না। যার যেটুকু করবার সামর্থ্য আছে,তার সেটিই করাই উচিত বলে বিশ্বাস করি। আর এটা বলে বলে আমি কি বিশ্বাস জাগাতে পারব অন্যদের মধ্যে? আমি বলাতে হয়তো বা তাদের মধ্যে একবার মনে হবে। কিন্তু ওই বোধটা তো তাদের মনের ভেতর থেকে আসতে হবে। অদূর ভবিষ্যতে হয়তো বা আমরা আরও বেশি মানবিক হব।

প্রিয়.কম: রুনার পক্ষ থেকে তার ভক্ত কিংবা দর্শকদের জন্যে জন্মদিনে কোন আহ্বান থাকবে?

রুনা খান: আমি আসলে খুব বিনয়ের সঙ্গে বলতে চাই, আমি অভিনয়টা অনেক ভালোবাসি তো, আমার অনেক ভালোবাসা থেকে কাজটা করি। এই কাজটা তখনই স্বার্থক হবে যখন অভিনীত কোনো কাজ আপনাদের ভালোবাসা পাবে। আপনারা যদি আপনাদের ভালোবাসা নিয়ে কাজের পাশে থাকতেন, সেটাই আমার আহ্বান থাকবে।

প্রিয় বিনোদন/গোরা 

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
বিএনপি ছাড়লেন মনির খান
নিজস্ব প্রতিবেদক ০৯ ডিসেম্বর ২০১৮
ভারতীয় চলচ্চিত্রে তিশা
নিজস্ব প্রতিবেদক ০৯ ডিসেম্বর ২০১৮
তাদের ‘ফার্স্ট লাভ’
নিজস্ব প্রতিবেদক ০৯ ডিসেম্বর ২০১৮
মা হতে চলেছেন আনুশকা শর্মা?
প্রিয় ডেস্ক ০৯ ডিসেম্বর ২০১৮
প্রিয় অবসর: ৯ ডিসেম্বর ২০১৮
প্রিয় ডেস্ক ০৯ ডিসেম্বর ২০১৮
এবারের মিস ওয়ার্ল্ড ভেনেসা পোন্স
তাশফিন ত্রপা ০৮ ডিসেম্বর ২০১৮
এবার জয়ার ‘ফুড়ুৎ’
নিজস্ব প্রতিবেদক ০৮ ডিসেম্বর ২০১৮
স্পন্সরড কনটেন্ট
মায়ের জন্মদিনে সালমান খান
মায়ের জন্মদিনে সালমান খান
এনটিভি - ১ দিন, ২৩ ঘণ্টা আগে
ট্রেন্ডিং