বিসিবির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের সমালোচনায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিসিবির সাবেক সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

সাবের হোসেনের প্রশ্ন, ক্রিকেট প্রশাসন কোন পথে?

রুল জারির পর তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি সভাপতি পাপন, সাবেক সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরির বিরুদ্ধে দেশের ক্রিকেট নিয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনেন। বিসিবি সভাপতির এমন অভিযোগের পরও মুখে কুলুপ এঁটেই বসে ছিলেন সাবের হোসেন।

সৌরভ মাহমুদ
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ০১ অক্টোবর ২০১৭, ২২:০৮ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ২১:১৬
প্রকাশিত: ০১ অক্টোবর ২০১৭, ২২:০৮ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ২১:১৬


বিসিবির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের সমালোচনায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিসিবির সাবেক সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান কমিটির কার্যক্রম কেন অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিল হাইকোর্ট। গত মাসের ২৬ তারিখের মাঝেই সংশ্লিষ্টদের এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়। এই রুল জারির পর তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন, সাবেক সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরির বিরুদ্ধে দেশের ক্রিকেট নিয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনেন।

বিসিবি সভাপতির এমন অভিযোগের পরও মুখে কুলুপ এঁটেই বসে ছিলেন সাবের হোসেন চৌধুরী। তবে আজ রোববার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের পালাবদলের সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর নেতৃত্বে থাকা বিসিবির সাবেক এই সভাপতি। ‘ক্রিকেট প্রশাসন কোন পথে?’ এই শিরোনামে ওই সংবাদ সম্মেলনে সাবের হোসেন চৌধুরী নানান বিষয়ে কথা বলেন। তবে তার বেশির ভাগই ছিল বিসিবির গঠনতন্ত্র নিয়ে। 

১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বিসিবি সভাপতির পদ অলঙ্কৃত করা সাবের হোসেন বলেন, ‘যে গঠনতন্ত্রকে হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট বলছেন এটার কোনো বৈধতা নেই, সেই গঠনতন্ত্রের অধীনে যদি কোনো প্রক্রিয়া হয়, তাহলে সেটার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন থাকতেই পারে। আমার কাছে মনে হয়েছে, আমি আর কাউন্সিলর হওয়ার যোগ্য নই। আমি বোর্ডকে চিঠি দিয়ে বলেছি, আমার নামটা সরিয়ে নিতে চাই। গঠনতন্ত্র অবৈধ হলে সেটির অধীনে হওয়ার কাজগুলোর বৈধতা থাকে না।’

বোর্ডের কাছে প্রশ্ন রেখে সাবের বলেন, ‌‌‌‘আমি দুটো জায়গায় ফোকাস করতে চাই, এখানে দুটো প্রশ্ন আমার। প্রথমটা হচ্ছে, বর্তমান যে বোর্ড আছেন তারা কি মনে করেন সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের রায়ের আলোকে ওনারা যে গঠনতন্ত্র নিয়ে কাজ করছেন এ গঠনততন্ত্র বৈধ? আমি কোন কমিটি নিয়ে কথা বলছি না, কথা বলছি গঠনতন্ত্র নিয়ে। এটার পরিষ্কার জবাব থাকতে হবে, এই গঠণতন্ত্র বৈধ এবং আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি। রায় তো বলে, এটা বৈধ নয়। সুপ্রিম কোর্ট থেকে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল যেটার ভিত্তিতে নির্বাচন হয়, শুনানি যখন নিষ্পত্তি হবে সেটার নিষ্পত্তি যেভাবে হবে সেটার ওপরে নির্ভর করবে এই নির্বাচন কিংবা এই বোর্ড বৈধ কিনা।’

২০০০ সালের এজিএমের একটি প্রস্তাবনাকে সামনে এনে তিনি আরেকটি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন বিসিবির সামনে, ‘এখানে আরেকটা প্রশ্ন চলে আসে যেটা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে আমিও আপনাদের সহযোগিতা চাচ্ছি এই আলোচনা হওয়াটা খুব জরুরি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড কীভাবে পরিচালিত হবে। ২০০০ সালের কক্সবাজারে যে এজিএম হয়েছিল সেখানে এখানে যারা আছেন অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।  ২০০০ সালের এজিএমে আমাদের প্রস্তাবনা ছিল ক্রিকেট বোর্ডর সভাপতি নির্বাচিত হতে হবে। আমার অবস্থান ধারাবাহিকভাবে যেটা ছিল। সেটা হচ্ছে সরকার বা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ একটা ফেডারেশনে সম্পৃক্ত থাকতে পারে যদি সেই ফেডারেশনকে তারা আর্থিকভাবে সহায়তা দেয়। তাহলে অবশ্যই সরকারের পরিচালনার ক্ষেত্রে কিছু করার থাকতে পারে। তবে ক্রিকেটের ক্ষেত্রে যেখানে সরকারের কাছ থেকে কিছু নিচ্ছে না। নিজস্ব অর্থায়নে চলছে। সেখানে সরকারের হস্থক্ষেপ থাকা উচিত না। এখানে ক্রিকেট বোর্ডের অবস্থানটা কি, তারা কী চায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রশাসনে সরকারের হস্তক্ষেপ থাকবে নাকি মুক্ত থাকবে স্বাধীন থাকবে?’

বিসিবি সভাপতি নির্বাচনে এখনও সরকারের প্রভাব রয়েছে। এ কারণে তিনি চান কোনোভাবেই যেন বিসিবিতে সরকারের কোনো প্রভাব না থাকে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সে সব ফেডারেশন বা সংস্থায় প্রভাব বিস্তার করতে পারে, যেগুলোর সঙ্গে এনএসসির আর্থিক বিষয় জড়িত। কিন্তু বিসিবি যেহেতু নিজ অর্থায়নে চলে, এনএসসির দ্বারস্থ হতে হয় না। সে কারণে এখানে সরকারের প্রভাবও থাকতে পারে না বল মত দেন বর্তমানে ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সভাপতি সাবের হোসেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সরকারি প্রভাব চলে আসে ক্রিকেট পরিচালনতেও। আইনি যে লড়াইটা চললো এটার দিকে যদি তাকাই, এটাতে ক্রিকেট বোর্ডের অবস্থান কী ছিল সেটা সবাইকে বুঝতে হবে। হাইকোর্ট বলল, গঠনতন্ত্র যেটা এএসসি করেছে সেটা বৈধ না কেননা এনএসসির সংশোধনী দেওয়ার এখতিয়ার নাই। তার মানে হাইকোর্ট বলছে এখানে কোনো সরকারী প্রভাব থাকবে না। ক্রিকেট বোড স্বাধীনভাবে স্বতন্ত্র ভাবে পরিচালিত হবে। কিন্তু বিসিবি ও এনএসসি এটার বিরুদ্ধে আপিল করল। এই বোর্ডের অবস্থান হচ্ছে ক্রিকেট বোর্ড স্বাধীনভাবে চলবে না। ক্রিকেট পরিচালিত হবে এবং এনএসিসির হস্তক্ষেপ থাকবে। এটাই সবচেয়ে মৌলিক জায়গা। সে জন্য প্রশ্ন, যে কোন পথে আমরা কী বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডর ব্যবস্থাপনা সরকারী প্রভাবমুক্ত, রাজনীতি থেকে আলাদা সেভাবে চাই নাকি সরকারি প্রভাবযুক্ত ক্রিকেট বোর্ডের প্রশাসন চাই। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে যখন আপিল করলেন বিসিবি ও এনএসসি জোরালোভাবে বলল না গঠনতন্ত্র সংশোধনের অধিকার এনএসির আছে। এককভাবে আছে ক্রিকেট বোর্ডের এজিএম ছাড়া। তার মানে কী...প্রভাব থাকবে। সেটা আবার ওনারা সুপ্রিম কোর্টের উপরেও চ্যালেঞ্জ করল যে সরকারি প্রভাব থাকবে। আর যখন রায় আসল সরকারি প্রভাব থাকবে না, তখন বোর্ডের বক্তব্য এটা একটা যুগান্তকারী রায়, এটা ক্রিকেটের উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তো এই জায়গাগুলো তো পরিষ্কার করতে হবে। বলা হল আপিল তো খারিজ হয়ে গেছে, আপিলই তো করেছে ক্রিকেট বোর্ড। তো খারিজ হলে ক্রিকেটে বোর্ডের আপিল খারিজ হয়েছে। অন্য কারও আপিল তো খারিজ হয় না।’

এই সময়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, ক্রিকেট বোর্ড কীভাবে পরিচালিত হবে। এমনটা জানিয়ে সাবের হোসেন চৌধুরি আরও বলেন, ‘তারা যদি চায় সরকারের প্রভাব রাখবে..এটা কিন্তু হওয়া উচিত না। এই একই কথা কিন্তু আমরা বলেছি ২০০০ সালেও। সবশেষ কী হলো, ২০০৯ সালে আইসিসি বলল, ক্রিকেটে বোর্ডের প্রশাসনে সরকারের হস্তক্ষেপ থাকতে পারবে না। এটা শুধু আইসিসির কথা না, ফিফা কিন্তু এই নীতি অনেক আগে থেকে বিশ্বাস করে। স্পোর্টিং ফেডারেশনে সরকারি প্রভাব কাজ করবে না। বোর্ডের অবস্থান কী, রাজনীতির ঊর্ধ্বে থাকবে। এটা যদি তারা মানে তাহলে তারা আপিল কেন করল। হাইকোটের যে রিট সেটা তো ছিল ক্রিকেট বোর্ডের স্বাধীনতাকে প্রতিষ্ঠিত করার। ওই রিট কে চ্যালেঞ্জ করল, ওই রিট যখন সুপ্রিম কোর্টে তখন তার বিরোধিতা কে করল।  ক্রিকেট বোড ও এনএসসি করল, এই মৌলিক জায়গাটা যদি সম্পষ্ট না হয়, যা কিছু করেন না কেন আপনি এগুতে পারত না।’

বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিষয়ে বর্তমান ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনকে চিঠি লেখার কথা জানান সাবের। কিন্তু কোনো উত্তর না পাওয়ায় হতাশা ব্যক্ত করেন। এরই মধ্য সর্বশেষ চিঠি একটি সংবাদপত্রে চলে যাওয়া নিয়ে ক্ষোভও জানান বিসিবির সাবেক এই সভাপতি। একান্তই ব্যক্তিগত এসব চিঠির গোপনীয়তা থাকা উচিত বলে মনে করেন তিনি। তিন মোড়ল যখন বিশ্ব ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ করার প্রস্তাব দিল, তখন সাবের চৌধুরী বিসিবি সভাপতিকে চিঠি লিখে এর বিরোধিতা করেন। সম্প্রতি একজন বোলার দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেটে প্রতিবাদ হিসেবে চার বলে ৯২ রান দিল, তখন একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারককে নিয়ে কমিশন করার জন্য বিসিবি সভাপতিকে প্রস্তাবও দিয়েছিলেন বলে জানান সাবের। এছাড়া ক্রিকেট বোর্ডের বার্ষিক সাধারণ সভা হচ্ছে না। বার্ষিক সাধারণ সভা মানে তিন-চার বছর পর করা নয়। এটাও নাকি মনে করিয়ে দেন তিনি।

প্রিয় স্পোর্টস/শান্ত মাহমুদ/শান্ত  

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...