ফাইল ছবি

(প্রিয়.কম) সরবরাহ লাইনের মাধ্যমে ঘরে ঘরে পৌঁছে যাওয়া পানিও এখনো পুরোপুরি নিরাপদ হয়ে উঠতে পারছে না মানুষের কাছে। দূষণ, দুর্গন্ধ আর রোগ-জীবাণুর ভয় লেগেই আছে। তার ওপর রয়েছে পানি না থাকার যন্ত্রণা। প্রতিদিনই রাজধানীর কোথাও না কোথাও পানির ভোগান্তি লেগেই থাকে। ঢাকার বাইরের পরিস্থিতিও খুব ভালো না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূ-উপরিভাগের পানিদূষণ আর ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির মুখে পড়তে হচ্ছে মানুষকে। ঢাকার আশপাশের নদীগুলোর পানি মাত্রাতিরিক্ত দূষিত হয়ে পড়ায় ওই পানি প্রক্রিয়াজাত করেও পুরোপুরি নিরাপদ করা যাচ্ছে না।

২১ মার্চ মঙ্গলবার ‘নিরাপদ পানির স্তর দ্রুত নিচে নামছে’ শীর্ষক শিরোনামে দৈনিক কালের কণ্ঠে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পানি বিশেষজ্ঞরা জানান, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন এখন জাতিসংঘ স্বীকৃত একটি মানবাধিকার। তথ্য-উপাত্ত অনুসারে, এখনো বিশ্বের প্রায় ৯০ কোটি মানুষ নিরাপদ পানি সুবিধা থেকে বঞ্চিত। নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনের অভাবে সৃষ্ট রোগব্যাধিতে প্রতিবছর বিশ্বে পাঁচ বছরের কম বয়সী ১৫ লাখ শিশু মারা যায়।

ওয়াসার কর্মকর্তারা জানান, ঢাকার আশপাশের নদীগুলো অতিমাত্রায় দূষিত হওয়ায় বড় বিপত্তি ঘটেছে। এ জন্য এখন পদ্মা ও মেঘনা নদী থেকে পানি এনে তা শোধন করে ঢাকার মানুষের মধ্যে সরবরাহ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঢাকায় আপাতত শীতলক্ষ্যার পানি পরিশোধন করতে হচ্ছে দুই ধাপে। প্রথমে এক দফায় দূষিত পানি পরিশোধন করে সাধারণ নদীর পানির মতো করা হয়। এরপর এই পানি আবার পরিশোধন করে খাওয়ার উপযোগী করা হচ্ছে। 

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় ৬১ জেলার ২৭১ উপজেলার ৮৫৪০টি গ্রামে ৮০ শতাংশ পানির উৎস আর্সেনিকযুক্ত ছিল। ফলে মাত্র ২০ শতাংশ জনগণ নিরাপদ পানি পেয়েন। বর্তমান সরকারের সময় স্থানীয় সরকার বিভাগ ও এর সহযোগী সংস্থাগুলোর কার্যকর পদক্ষেপে ৬১ জেলায় ৫০ শতাংশ মানুষকে নিরাপদ পানি সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশে মোট ১৪ লাখ ৮১ হাজার ৮৬৫টি উৎস (গভীর-অগভীর নলকূপ ও বিভিন্ন পদ্ধতির উৎস) রয়েছে। এসবের মধ্যে এক লাখ দুই হাজার ৮৫৪টি উৎস অচল হয়ে আছে বিভিন্ন কারণে। এ ছাড়া এক লাখ ৫৭ হাজার ৭৪৪টি উৎস দূষণযুক্ত (আর্সেনিকসহ অন্যান্য কারণে)। বাকি উৎসগুলো নিরাপদ বলে ধরা হয়েছে ওই হিসাবে।

প্রিয় সংবাদ/রুবেল/খোরশেদ