(প্রিয়.কম) আগামী সপ্তাহের মধ্যেই ছেলে মোহাম্মদ বিন সালমানের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ! সৌদি আরবের রাজপরিবার ঘনিষ্ট সূত্রের বরাতে এ সংবাদ দিয়েছে ডেইলি মেইল

সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, ‘যদি অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু না ঘটে তাহলে আগামী সপ্তাহেই মোহাম্মদ বিন সালমানের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন বাদশাহ সালমান।’

এটাকে সৌদি আরবের রাজতন্ত্রে আধিপত্য নিয়ে চলমান নাটকের সর্বশেষ চাল বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা শুরু হয়েছিল ‍দুর্নীতি দায়ে প্রিন্স, সরকারের মন্ত্রী ও ব্যবসায়ীদের আটকের মাধ্য দিয়ে। ৩২ বছর বয়সী মোহাম্মদ বিন সালমানের একচ্ছত্র ক্ষমতাকে সুসংহত করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

মোহাম্মদ বিন সালমান দায়িত্ব গ্রহণ করলেও ‘পবিত্র দুই মসজিদের জিম্মাদার’ হিসেবে থাকবেন সালমান বিন আব্দুল আজিজ।

সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলো আরও জানায়, ক্ষমতা গ্রহণের পর ইরান হবে মোহাম্মদ বিন সালমানের প্রধান টার্গেট। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন ধরে তেল সাম্রাজ্য নিয়ে সৌদি আরবের এ প্রতিদ্বন্দ্বীকে কাবু করতে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। একই সঙ্গে ইসরায়েলের সহায়তা নিয়ে লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসনেরও আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে রাজপরিবারের সিনিয়র সদস্যদের পরামর্শের ধার ধারছেন না মোহাম্মদ বিন সালমান। 

বর্তমানে একাধিক ফ্রন্টে তেহরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া সৌদি আরব মোহাম্মদ বিন সালমানের সময়ে আরও আগ্রাসী হয়ে উঠতে পারে।

প্রসঙ্গত, ‘হত্যার পরিকল্পনা করা হচ্ছে’ এমন অভিযোগ করে গত ৪ নভেম্বর লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ আল-হারিরি সৌদি আরবে বসে পদ থেকে সরে  দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। 

সে সময় সৌদি আরবের একটি টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া বক্তব্যে হারিরি বলেছিলেন, তাকে হত্যা করা হতে পারে এই ভয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। ইরান ও হিজবুল্লাহ তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছিলেন তিনি।

এর আগে রিয়াদে বিমান বন্দর লক্ষ্য করে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ছোঁড়া মিসাইলের জন্য ইরানকে দোষারোপ করে আসছিল সৌদি আরব। 

যার পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরবের পরাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল জোবায়ের বলেছিলেন, এ হামলার দায় অবশ্যই ইরানের এবং এ আক্রমণ ‘যুদ্ধ ঘোষণা’র শামিল। 

 প্রিয় সংবাদ/মিজান