(প্রিয়.কম) চলিত বছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই লালমনিরহাটের সীমান্তে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কুলাঘাট এলাকায় ধরলা নদীর উপর নির্মাণাধীন দ্বিতীয় ধরলা সেতু চলাচলের জন্য ‍উন্মুক্ত করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদফতর। নির্মাণাধীন দ্বিতীয় ধরলা সেতুর কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

সেতুটি চালু হলে লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুরসহ উওরাঞ্চলের প্রায় অর্ধ কোটি মানুষ চলাচলে সুবিধা পাবে। জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় ধরলা সেতুটি একটি। নদী শাসন, অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণ ও মূল সেতুর জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ১৯১ কোটি ৬৩ লাখ ২২৩ টাকা।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলার লোকজন বিশেষ করে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী, নাগেশ্বরী ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলার লোকজন বেশি উপকৃত হবেন। বিভাগীয় শহর রংপুরসহ দেশের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক সহজ হবে দেশের উত্তর-পশ্চিমের এই অঞ্চলের লোকজনের।

দ্বিতীয় ধরলা সেতুটি পণ্য পরিবহনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সেতুটি কার্যক্রম শুরু করলে ভুরুঙ্গামারীর বঙ্গসোনাহাট স্থলবন্দরের মালামাল পরিবহন অনেক সহজ হবে। কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলার কৃষিজাত পণ্য পরিবহনে জটিলতাও কমবে এই সেতু ব্যবহারে।

এছাড়া বঙ্গসোনাহাট স্থলবন্দর হয়ে ফুলবাড়ীর দ্বিতীয় ধরলা সেতু দিয়ে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় সেভেন সিস্টারস আসাম, মেঘালয়, মিজোরাম, মনিপুর, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা ও অরুণাচল রাজ্যগুলোর সঙ্গে পণ্য পরিবহনের ব্যয়ও কমবে বহুলাংশে।

ওই সব রাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের চ্যাংরাবান্ধা হয়ে কলকাতার যোগাযোগও অনেক সহজ হবে। এছাড়া কুড়িগ্রামের সাথে লালমনিরহাট, নীলফামারী, দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলার পণ্য পরিবহনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

সরে জমিন ঘুরে জানা গেছে, কুড়িগ্রামের সীমান্তবর্তী ফুলবাড়ী উপজেলার কুলাঘাট এলাকায় একটি সেতুর অভাবে ফুলবাড়ী, নাগেশ্বরী ও ভূরুঙ্গামারী উপজেলার কয়েক লাখ মানুষকে রংপুর-ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় যেতে হতো অনেকটা পথ ঘুরে। নৌপথে পারাপারে ভোগান্তি ও সময় ব্যয় হতো অনেক।

তাই এ এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সেতুটি নির্মাণের কাজ শুরু হয় ২০১৪ সালের ২৪ এপ্রিল। কুড়িগ্রাম এলজিইডি’র আওতায় দ্বিতীয় ধরলা সেতুতে ১৯১ কোটি ৭৬ লাখ ৬৩ হাজার ২২৩ টাকা ব্যয়ে ৯৫০ মিটার পিসি গার্ডারের দীর্ঘ ও ৯.৮ মিটার প্রস্থবিশিষ্ট সেতুর ৯০ ভাগ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে।

রাস্তা, নদী শাসনসহ যাবতীয় কাজ শেষ করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এ সেতুটি চালু হলে কুড়িগ্রামের সাথে লালমনিরহাটে হয়ে রংপুরসহ সারা দেশে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিশাল পরিবর্তন আসবে।

এলজিইডি’র বাস্তবায়নে ধরলা নদীর দ্বিতীয় ধরলা সেতুটি নির্মাণ কাজ বাস্তবায়নে ২০১৪ সালে সিমপ্লেক্স ও নাভানা কনস্ট্রাকশন গ্রুপের সঙ্গে যৌথ চুক্তি সম্পাদিত হয়। কাজের গুণগত মান বজায় রেখে চলতি বছরেই সেতুটি চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ওই সেতু নির্মাণের সাথে জড়িত সংশ্লিষ্টরা।

ধরলা নদীতে দ্বিতীয় সেতু নির্মাণের পাশাপাশি ফুলবাড়ী প্রান্তে ৯০০ মিটার, লালমনিরহাট প্রান্তে ২ হাজার ২০০ মিটার, এপ্রোচ রোডের ফুলবাড়ী প্রান্তে ৮৪৫ মিটার, লালমনিরহাট প্রান্তে দুই হাজার ২৫০ মিটার নদী শাসনকাজ সম্পন্ন হবে।

সেতুটির ফুলবাড়ী প্রান্তে একত্রে ১৩টি স্প্যানের কাজ এবং লালমনিরহাট প্রান্তে লাডার লন্সার দিয়ে বাকি ছয়টি স্প্যানের কাজ চলছে। এপ্রোচ রোডের কাজ চারটি গ্রুপে একত্রে সম্পন্ন হচ্ছে যা শেষ পর্যায়ে। ডিসেম্বরের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সেতুটি কুড়িগ্রামের ৩ উপজেলার মানুষের যাতায়াতের জন্য উন্মুক্ত করবেন।

সেতুটি উন্মুক্ত হলে ৩ উপজেলার সাত লাখ মানুষ এর সুফল ভোগ করবে। ধরলা সেতুর নির্মাণকারী সিমপ্লেক্স নাভানা জেভি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প ব্যবস্থাপক সাধন কুমার পাল জানান, বেশি ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ১-২ মাসের মধ্যে সমস্ত কাজ সম্পন্ন হবে। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময় অনুযায়ী সেতুটি যাতায়াতের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

ফুলবাড়ী এলাকার স্কুল শিক্ষক মোজাম্মেল হক বলেন, ‘দ্বিতীয় ধরলা সেতু চালু হলে এ অঞ্চলের লোকজনের জীবন যাত্রায় ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। নদী ভাঙ্গনের শিকার এ জনপদের মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ঘটবে। সেতুটি চালু হলে বর্তমান সরকারের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির পাশাপাশি আগামী সংসদ নির্বাচনে ভোটের রাজনীতিতে প্রভাব পড়বে।’

স্থনীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদফতর কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ আব্দুল আজিজ বলেন, ‘ধরলা নদীর উপর নির্মাণাধীন ধরলা দ্বিতীয় সেতুটি এলজিইডি’র হাতে নেওয়া সবচেয়ে বড় প্রকল্প। সেতুটি ৯০ ভাগেরও বেশি অংশের কাজ শেষ হয়েছে। এ বছরের মধ্যেই সেতুটি চালুর ব্যাপারে আমরা আশাবাদী। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।’

কুড়িগ্রামের স্থানীয় সংসদ সদস্য তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘ধরলা নদীর উপর দ্বিতীয় সেতু নির্মাণ এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ দিনের দাবী ছিল। মহাজোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী এ অঞ্চলের মানুষের দাবীর প্রতি সম্মান রেখে তা বাস্তবায়ন করায় তাকে ধন্যবাদ জানাই।’

তিনি আরও বলেন, বহুল প্রতীক্ষিত ধরলা দ্বিতীয় সেতু মহাজোট সরকারের ২০২১ ভিশন বাস্তবায়নে ভুমিকা রাখবে। আমি যতদুর জানি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলতি বছরেই এ সেতুর উদ্ধোধন করবেন।

প্রিয় সংবাদ/শিরিন/আশরাফ